মঙ্গলবার, ১১ মে ২০২১, ১০:০৮ অপরাহ্ন

পল্লবীতে যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে মসজিদের ৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

কাজী ওবায়দুর রহমান:

রাজধানীর পল্লবী থানাধীন বাউনিয়াবাধ এলাকার বি- ব্লকের বায়তুল জামে আমান মসজিদ ও এতিমখানার আর্থিক ও আয় ব্যায় হিসাবের প্রায় পাঁচ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে মসজিদ কমিটির সাবেক সভাপতি জুয়েল রানার বিরুদ্ধে। জুয়েল রানা পল্লবী থানা আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক পদেও ছিলেন পল্লবীতে এক পুলিশ সার্জেন্টকে পিটানোর অভিযোগে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। সেই থেকে তাকে এলাকায়ও দেখা যাচ্ছেনা।

বর্তমান কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব খলিলুর রহমান খলিল বলেন আল্লাহর রহমতে আমরা ছয় মাসে প্রায়ই এক কোটি টাকার মত মানুষের অনুদান পেয়ে ভবন নির্মান কাজ শুরু করেছি। মসজিদ ও এতিমখানার গোসল খানা, বাথরুম অযুখানা এতিম বাচ্চাদের খাবারেরমান,পড়াশুনার মান উন্নয়ন করাসহ ইতোমধ্যে আমরা শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছি। সব কিছু মিলিয়ে আমরা আল্লাহর ঘর মসজিদের অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে কমিটির সবাই চেষ্টা করে চলছি। মসজিদ ও এতিমখানার কাজ শেষ হতে আমাদের আরো প্রায়ই দুই বছর লাগতে পারে। আমরা যে সময় মসজিদ ও এতিমখানার দায়ীত্ব পেয়েছি সে-সময় মসজিদের ফান্ডে কোনো টাকাই ছিলোনা। এক প্রশ্নে তিনি বলেন ছয় বছর ধরে যারা এই মসজিদ কমিটিতে ছিলো তারা আমাদের কোনো আয়-ব্যায়ের হিসাব তারা দেননি।

ছয় বছরে কোনো মতে একতলা গাঁথুনি দিয়েই রেখে গেছে। মসজিদ, এতিমখানা ও মাদ্রাসার নামে যে পরিমান সাহায্য সহায়তা এসেছে তা আগের কমিটির সভাপতি জুয়েল রানার কাছেই রয়েছে। আমরা হিসাব চাইলেও তারা তালবাখড়া পাকিয়ে হিসাব দিচ্ছেনা।

মসজিদের ইমাম বলেন আমি এখানেই পড়াশুনা করেছি এখন আল্লাহর রহমতে এখন এই মসজিদের ইমামতি করছি। আমি এখানে সতারো বছর যাবৎ আছি, তবে ছয় মাসে মসজিদ মাদ্রাসার যেভাবে উন্নয়ন মুলক কাজ হয়েছে তাতে আমার মনে হয় দুই বছরের ভিতর মসজিদ মাদ্রাসার কাজ সম্পুর্ন হবে ইনশাআল্লাহ। আগে যারা মসজিদ কমিটির দায়ীত্বে ছিলো তাদের থেকে বর্তমান কমিটি খুবই দায়ীত্বশীলতার মাধ্যমে মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানার অবকাঠামো নির্মাণকাজ করে চলেছেন।

বর্তমান কমিটির নেতৃবৃন্দরা বলেন বিগত ছয় বছরে মসজিদ মাদ্রাসা ও এতিমখানার আয় ব্যায়ের হিসাব চেয়েছি কিন্ত জুয়েল রানা কোনো কর্ণপাত করছেনা। প্রাথমিক ভাবে আমরা একটি জুরিবোর্ড করে হিসাব করেছি ছয় বছরে তাতে প্রায়ই কম হলেও ৫ কোটি টাকা জুয়েল রানার কাছে রয়েছে এই টাকা মসজিদ কমিটির ফান্ডে জমা হলে মসজিদ ও এতিমখানার কাজ সম্পুর্ন হয়ে যেতো। যদি জুয়েল রানা হিসাব না দেয় তাহলে আমরা মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে প্রশাসনিক বিভিন্ন দপ্তর ও আওয়ামী যুবলীগের কার্যালয়ে লিখিত আকারে অভিযোগ দায়ের করবো বলেও তারা জানান।

ছয় বছরের আয়-ব্যায়ের হিসাবের প্রায়ই পাঁচ কোটি টাকার বিষয়ে মসজিদ কমিটির সাবেক সভাপতি জুয়েল রানার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি এখন ব্যস্ত আছি। আপনি আমার অফিসে আসবেন বিস্তারিত কথা হবে।

মসজিদে আসা বিভিন্ন মুসল্লিরা বলেন জুয়েল রানা শুধু মসজিদ ও এতিমখানার টাকা মারেননি সে মানুষের দানের টাকা আল্লাহর ঘরের টাকা আত্মসাৎ করেছে। এতিমের টাকা মেরেছে। ছয় বছরের হিসাব সে দিচ্ছেনা। আমরা বৃষ্টিতে ভিজে নামাজ আদায় করেছি এবং মসজিদ উন্নয়নে এ যাবৎকাল ধরেই স্বাধ্যমত অনুদান করে আসছি। তারা আরও বলেন হালকা বৃষ্টি ও বাতাস হলে নামাজ আদায় করা খুবই কষ্ট হতো বিধায় বিত্তবানরা জুয়েল রানার কাছেই টাকা দিতো। মসজিদ ও এতিমখানার খেয়াল না রাখলেও কোন জুম্মায় কত টাকা, কে কতটাকা অনুদান দিলো সেই খোজ খবর ঠিকিই নিতো। তার অহেন দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমরাই এলাকাবাসী মিলে ২ হাজারেরও বেশি গন-সাক্ষর করে আগের কমিটি বাদ দিয়ে নতুন করে আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক খলিলুর রহমান খলিলকে সভাপতি করেছি। আল্লাহর রহমতে ছয় মাসে আমাদের মসজিদের ও এতিমখানার অনেক উন্নয়ন হয়েছে, যা ছয় বছরেও জুয়েল গং করতে পারেনি।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com