শুক্রবার, ০৭ মে ২০২১, ১০:৫৫ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির উপ-দপ্তর সম্পাদক হলেন এইচএম সাইফুল ইসলাম জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ নেতা কায়েসের ঈদ উপহার মাধবপুরে সরকারী নগদ অর্থ সহায়তা পাচ্ছে ৩২৮৬৪ পরিবার শ্রীপুরে রুবেলের ছেল মেয়েদের দায়িত্ব নিলেন ব্যবসায়ী সাদ্দাম হোসেন অনন্ত ময়মনসিংহের ভালুকায় অটোর-চাকায় ওড়না জড়িয়ে স্কুলছাত্রীর মৃত্যু মাধবপুরে সরকারিভাবে বোরো ধান সংগ্রহের শুভ উদ্বোধন বিবাহ বহির্ভূত একাধিক সম্পর্ক ছিল হেফাজত নেতা জাকারিয়ার এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে চেন্নাই গেলেন করোনা আক্রান্ত হাসি ঈদে তাদের ‘টোনাটুনির গল্প’ অভিনেতার সঙ্গে প্রেম, বিয়ে করছেন ব্যবসায়ীকে

রাবেয়ার মেডিক্যালে পড়ার অনিশ্চয়তা কেটে গেলো

রাবেয়া আক্তার রুমি, সদ্য মেডিক্যালে (২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষ) ভর্তি পরীক্ষায় পাস করা একজন শিক্ষার্থী। বাড়ি কুষ্টিয়ার কুমারখালীর পৌর এলাকায়। মেধা তালিকায় স্থান পেয়েও দারিদ্র্যতার কারণে মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।

ফুটপাতে সিঙ্গারা-চপ বিক্রেতা দরিদ্র পিতা রমজান আলীর পক্ষে মেয়েকে মেডিক্যালে পড়ানোর স্বপ্ন যেন ম্লান হতে বসেছিল। মেয়ে মেডিক্যালে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে, সেই আনন্দের বদলে দুশ্চিন্তা যেন কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছিল রমজান আলী ও লাইলা খাতুন দম্পতিকে। দরিদ্র ঘরের মেয়ে রাবেয়ার ভর্তির সুযোগ পাওয়া ও ভর্তির অনিশ্চিয়তার বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি নজরে আসে যুবলীগের প্রেসিডিয়াম মেম্বার ও কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সেলিম আলতাফ জর্জের।

বিষয়টি জানতে পেরে শনিবার (১০ এপ্রিল) তিনি রাবেয়ার পিতা রমজান আলীকে লোক পাঠিয়ে তার কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে আসেন। সব বিছু শুনে তিনি রাবেয়ার রংপুর মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি থেকে শুরু করে পড়ালেখার সব খরচ বহন করার ঘোষণা দেন।

এসময় এমপি বলেন, ‘দারিদ্র্যতা পড়ালেখার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে এটা জননেত্রী শেখ হাসিনার বাংলায় কখনো হতে পারে না। কেননা বর্তমান সরকার শিক্ষা খাতকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছে। কুমারখালী-খোকসা আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে শুধু রাবেয়া নয়; এখানকার সব দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীর জন্য আমার দুয়ার সবসময় খোলা থাকবে।’

রাবেয়ার পড়ালেখার দায়িত্ব গ্রহণ করায় আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন রমজান আলী। তিনি এমপি সেলিম আলতাফ জর্জসহ যেসব মানুষ তার মেয়ের পাশে দাঁড়িয়েছেন, সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

রাবেয়ার পিতা রমজান আলী কুষ্টিয়ার কুমারখালী পৌরসভার ৬ নম্বর ওর্য়াড সেরকান্দির বাসিন্দা। রমজান আলী পেশায় একজন চপ-পেঁয়াজু বিক্রেতা। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কুমারখালী শহরের ফুটপাতে এগুলো বিক্রি করে সংসার চালান। মা লাইলা খাতুন গৃহিণী। দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে রাবেয়া সবার বড়। ছোট বোন তাসনিম অন্তরা সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে, ছোট ভাই মেহরাব ইসলামের বয়স চার বছর। সহায়-সম্বল বলতে তাদের ৪ শতক জায়গার ওপর টিনের বাড়ি। রাবেয়া কুমারখালী এমএন পাইলট হাইস্কুল থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে এসএসসি ও কুমারখালী সরকারি কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে এইচএসসি পাস করেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, পঞ্চম শ্রেণি থেকে শুরু করে যতগুলো পাবলিক পরীক্ষা হয়েছে, তার সব কটিতেই জিপিএ-৫ পেয়েছেন রাবেয়া। এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়ার পর রাবেয়া চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখা শুরু করেন। কিন্তু সংসারে অভাব-অনটনের কারণে রাবেয়াকে কিছুটা হলেও থমকে দাঁড়াতে হয়। কিন্তু তবুও হাল ছাড়েনি রাবেয়া। কঠোর পরিশ্রমের কারণে এইচএসসিতেও জিপিএ-৫ লাভ করে রাবেয়া। ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস প্রথম বর্ষে ভর্তি পরীক্ষার ফলাফলে মেধা তালিকায় তাঁর স্থান হয়েছে ২ হাজার ১২। রংপুর মেডিক্যালে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন রাবেয়া আক্তার রুমি।

রাবেয়া বলেন, ‘মেডিক্যালে পড়ার ইচ্ছা ছিল, সেটা পূরণ হলো। এ জন্য শিক্ষকসহ যারা বিভিন্নভাবে আমাকে সহযোগিতা করেছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।’

মেডিক্যালে ভর্তির জন্য কোচিং করতে এক বান্ধবীর মামির মাধ্যমে ঢাকায় একটি কোচিং সেন্টারে অনলাইনে ভর্তি হয়েছিলেন রাবেয়া। বাবার ওয়ালটন স্মার্টফোনে ক্লাস করতেন রাবেয়া। এ ছাড়া বাড়িতেই পড়াশোনা করতেন। রমজান আলী বলেন, ‘আমি পড়ালেখা জানি না। মেয়ের পড়ালেখায় আগ্রহ দেখে তাকে সাহস দিয়েছি। কষ্ট হলেও মেয়েকে আজ তার স্বপ্নের সিঁড়িতে ওঠাতে পেরেছি। আগামী দিনেও যত কষ্ট হোক, তাকে প্রতিষ্ঠিত করতে সংগ্রাম চালিয়ে যাব।’

মা লাইলা খাতুন বলেন, ‘সংসারে অভাব আছে। কিন্তু মেয়ের পড়ালেখায় ক্ষতি হয়, তাই সেটা বুঝতে দিইনি।’

এসএসসি টেস্ট পরীক্ষায় একবার খারাপ করেছিলেন। তবে সে সময় মা-বাবা তাকে আরও বেশি ভালোবেসেছিলেন। কখনো গালাগাল দেননি। রাবেয়া আক্তার বলেন, ‘পড়াশোনা কিছু সময় খারাপ হতেই পারে, সে জন্য গালমন্দ করা ঠিক নয়। বরং আদর ও ভালোবাসায় পাশে দাঁড়াতে হয়। তাহলে পরীক্ষার্থী নিশ্চয় ভালো ফল করবে।’

চিকিৎসা বিদ্যায় ভালোভাবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারলে অসহায় শিশুদের নিয়ে কাজ করার ইচ্ছা আছে রাবেয়ার। পাঠ্য বইয়ের পাশাপাশি অবসর সময় বই পড়ে সময় কাটান তিনি। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বই পড়তে তিনি খুব পছন্দ করেন।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com