রবিবার, ১৬ মে ২০২১, ১১:২৪ পূর্বাহ্ন

লকডাউনে বেড়েছে স্টিকারযুক্ত যানের ব্যবহার

করোনার সংক্রমণ রোধে আজ থেকে সারাদেশে সর্বাত্মক লকডাউন চলছে। এ সময় গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও বেড়েছে স্টিকারযুক্ত যানবহনের ব্যবহার। তবে এ নিয়ে মাঠে কঠোর নজরদারি করছে পুলিশ।

করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জনস্বার্থের কথা বিবেচনা করে আগামী ২১ এপ্রিল পর্যন্ত দেশব্যাপী সব ধরনের (রেল, সড়ক ও নৌপথ) যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। পাশাপাশি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ পর্যায়ের বিমান চলাচলও।

তবে জরুরি সেবার জন্য পণ্যবাহী ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পচনশীল দ্রব্য, ত্রাণবাহী গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স ও গণমাধ্যমের গাড়ি এ নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে বলে মন্ত্রিপরিষদ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।

বুধবার সকাল থেকে রাজধানীর উত্তরা, মহাখালী, মিরপুর, গাবতলী, কারওরান বাজার, পল্টন, প্রেসক্লাব, গুলিস্তান, মতিঝিল, যাত্রাবাড়ীসহ বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখা গেছে, সব ধরনের যান্ত্রিক যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে রাস্তায় বেড়েছে টিকিটযুক্ত জরুরি সেবার যানবাহনের সংখ্যা। বিশেষ করে গণমাধ্যমের স্টিকারযুক্ত মোটরসাইকেল চোখে পড়ার মতো।

এদিকে ৮ দিনের সর্বাত্মক কঠোর বিধিনিষেধ মানাতে সারাদেশেও মাঠে তৎপর প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। বুধবার সকাল থেকেই রাজধানীর মোড়গুলোতে পুলিশের পাশাপাশি প্রশাসনের কর্মকর্তাদেরও দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।

তারা রিকশা, মোটরসাইকেল, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকারসহ বিভিন্ন যানবাহন থামিয়ে থামিয়ে জিজ্ঞেস করছেন, কে কোথায় যাবেন। যথাযথ কারণ বলতে না পারলে গাড়ির আরোহী, চালক ও পথচারীদের গন্তব্যে যেতে দেয়া হচ্ছে না। তাদের ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে।

শেখ রাসেল নামের এক বেসরকারি কর্মকর্তা মোটরসাইকেলে করে কারওরান বাজারে যাচ্ছিলেন। শাহবাগ গোল চক্করে পৌঁছাতে তার মোটরসাইকেলের গতিরোধ করেন এক পুলিশ কর্মকর্তা। পরে রাসেলকে থামিয়ে ওই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, মুভমেন্ট পাস ছাড়া যাওয়া যাবে না। জবাবে রাসেল বলেন, সকাল থেকে মুভমেন্ট পাসের জন্যে অনলাইনে চেষ্টা করে যাচ্ছি। কিন্তু সার্ভার ডাউন হওয়ায় আবেদন করতে পারছি না। জরুরি কেনাকাটা করতে হবে। তাই বাধ্য হয়ে বের হয়েছি।

তবে শেষ পর্যন্ত শেখ রাসেলকে তার গন্তব্যে যেতে দেয়া হয়নি। একটু পরেই ইংরেজিতে প্রেস লেখা স্টিকারযুক্ত আরেকটি মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে পুলিশ।

জানা গেলো, তারও মুভমেন্ট পাস নেই। এ সময় পুলিশ তার আইডি কার্ডও দেখতে চেয়েছিল এবং কোথায় কাজ করেন তাও জানতে চান। তিনি আইডি কার্ড দেখাতে না পারায় অফিসে যেতে হলে মুভমেন্ট পাস নিয়েই যেতে হবে বলে তাকে সাফ জানিয়ে দেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা।

রেজাউল করিম নামের এক রিকশাচালক থাকেন মহাখালীর একটি বস্তিতে। তিনি রিকশায় যাত্রী নামিয়ে ফিরে আসছিলেন মহাখালী বাসস্ট্যান্ডের দিকে। লকডাউনের মধ্যে রিকশা নিয়ে রাস্তায় বের হওয়ার অপরাধে তার চাকা পাংচার করে দেয় দায়িত্বরত পুলিশের এক সদস্য।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপির একাধিক পুলিশ ইন্সপেক্টর (টিআই) জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সব সদস্য সর্বাত্মক এ লকডাউন পালনে সতর্ক। সড়কে যানবাহনের সংখ্যা খুবই কম। মুভমেন্ট পাস ছাড়া কাউকে চলাচল করতে দেয়া হচ্ছে না।

কর্তব্যরত উত্তরা পশ্চিম থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিজান বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে লকডাউন মানাতে সর্বাত্মক চেষ্টা করা হচ্ছে। যথাযথ কারণ ছাড়া আমরা কাউকে যাতায়াত করতে দিচ্ছি না।

এ বিষয়ে উত্তরা পশ্চিম বিভাগের ট্রাফিক ইনস্পেক্টর (টিআই) আতিকুল ইসলাম জানান, সারাদেশে সর্বাত্মক লকডাউন নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, রাস্তায় গণপরিবহন নেই। তবে স্টিকারযুক্ত যানবাহনের সংখ্যা কম নয়। আমরা প্রতিটি গাড়ির গতিরোধ করে মুভমেন্ট পাস চেক করছি এবং অযথা ঘরের বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি।

মুভমেন্ট পাস পাওয়া নিয়ে সার্ভার সমস্যার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এক সঙ্গে অনেক আবেদন করার কারণে হয়তো একটু সমস্যা হচ্ছে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com