বুধবার, ২৫ নভেম্বর ২০২০, ১০:৫৭ অপরাহ্ন

আজ সেই ভয়াল ১২ নভেম্বর

খবরের আলো রিপোর্ট :

 

 

 

আজ ভয়াল ১২ নভেম্বর। ১৯৭০ সালের এ দিনে মহা প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস ভোলাসহ উপকূলীয় অঞ্চলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। লাখ লাখ মানুষ সেদিন প্রাণ হারায়। সেই ভয়াবহ স্মৃতি নিয়ে আজো বেঁচে রয়েছেন অনেকে। স্বজন হারানো সেই বিভীষিকাময় দিনটি মনে পড়তেই আঁতকে উঠছেন কেউ কেউ। দিনটি স্মরণে আলোচনাসভা, সেমিনার, কোরানখানি ও মিলাদ মাহফিল আয়োজন করা হয়েছে।

জানা যায়, উপমহাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলোর মধ্যে ৭০ সালের ঘূর্ণিঝড়ে সবচেয়ে বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল। প্রলয়ঙ্করী ওই দুর্যোগে প্রায় ১০ লাখ মানুষ প্রাণ হারায়। এর মধ্যে ভোলা জেলায় লক্ষাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটে। উত্তাল মেঘনা নদী আর তার শাখা-প্রশাখাগুলো রূপান্তরিত হয়েছিল লাশের নদীতে। তা ছিল এক ভয়াবহ দৃশ্য।

১৯৭০ সালের ১১ নভেম্বর বুধবার সকাল থেকেই গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি হতে থাকে। পরদিন ১২ নভেম্বর বৃহস্পতিবার আবহাওয়া আরো খারাপ হয় এবং মধ্যরাত থেকেই ফুঁসে উঠে সমুদ্র। তীব্র বেগে লোকালয়ের দিকে ধেয়ে আসল পাহাড় সমান উঁচু ঢেউ। ৩০-৪০ ফুট উঁচু সেই ঢেউ আছড়ে পড়ল লোকালয়ের ওপর। আর মুহূর্তেই ভাসিয়ে নিয়ে গেল মানুষ, গবাদিপশু, বাড়ি-ঘর এবং খেতের ফসল। পথে-প্রান্তরে উন্মুক্ত আকাশের নিচে পড়েছিল কেবল লাশ আর লাশ। মরণপুরীতে রূপ নেয় ভোলা।

স্থানীয় প্রবীণ সাংবাদিক ও প্রেসক্লাব সভাপতি এম হাবিবুর রহমান বলেন, ভয়াবহ জলোচ্ছ্বাসের পরে দেখেছি সাপ আর মানুষ দৌলতখানের চৌকিঘাটে জড়িয়ে পড়ে আছে। স্নেহময়ী মা তার শিশুকে কোলে জড়িয়ে পড়ে আছে মেঘনার পাড়ে। সোনাপুরের একটি বাগানে গাছের ডালে এক মহিলার লাশ ঝুলছে। এমনিভাবে মনপুরা, চরফ্যাশন, লালমোহন, তজুমুদ্দিন ও দৌলতখানসহ সমগ্র জেলায় মানুষ আর গবাদিপশু সেদিন বঙ্গোপসাগরের উত্তাল জলে ভেসে গেছে। জন-মানুষশূন্য হয়ে পড়েছিল দ্বীপজেলা ভোলা।

তৎকালীন ছাত্র ইউনিয়ন নেতা ও সংবাদকর্মী এম এ তাহের বলেন, ভয়াল সে রাত কেটে গেলে পরদিন শুক্রবার শহরময় ধ্বংসস্তূপ দেখা যায়। প্রায় এক কোমর পানি ছিল সর্বত্র। চারিধারে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল শুধু লাশ আর লাশ। পানি ভেঙে তিনিসহ বর্তমান বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোশারেফ হোসেন শাহাজানসহ আরো অনেকে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা করেন। সেদিন সবাই মিলে প্রায় সাড়ে ৩০০ লাশ দাফন করান।

তিনি আরো বলেন, পরদিন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার নির্বাচনী প্রচারণা বন্ধ করে এক জাহাজ ত্রাণ নিয়ে আসেন ভোলায়। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল মনপুরায়। তাই জাতির পিতা মনপুরায় এসে সকলের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন। স্বজন হারানো পরিবারের একজন ভোলা প্রেসক্লাবের সদস্য জহিরুল ইসলাম মঞ্জু কান্না জড়িত কণ্ঠে জানান, আমার মাসহ পরিবারের লোকজনকে ভাসিয়ে নিয়ে গিয়েছিল সেদিনের জলোচ্ছ্বাস। প্রতিবছর এ দিনটি এলেই আমাদের কষ্ট বেড়ে যায়।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com