বুধবার, ১২ মে ২০২১, ১০:৪৬ অপরাহ্ন

শিক্ষক-ছাত্রীর অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ভিডিও ভাইরাল

খবরের আলো প্রতিনিধি

 

নওগাঁর রাণীনগরে এক ছাত্রীর সঙ্গে এক শিক্ষকের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এ নিয়ে এলাকায় চলছে সমালোচনার ঝড়। অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের বিচার দাবি করেছেন শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা। তবে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দাবি, ভিডিওটি এক বছর আগের।

অভিযুক্ত শিক্ষক রাণীনগর উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারি লাইব্রেরিয়ান শিক্ষক সাদেকুল ইসলাম পিটু। তিনি উপজেলার সদর ইউনিয়নের বেলবাড়ি গ্রামের মৃত আশরত আলী মিনার ছেলে।

জানা যায়, ১৪ বছর আগে মো. সাদেকুল ইসলাম পিটুকে স্কুল কর্তৃপক্ষ সহকারি লাইব্রেরিয়ান পদে নিয়োগ দেয়। স্কুলে শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি স্কুলের পার্শ্ববর্তী এক বাড়িতে ছাত্রীদেরকে প্রাইভেট পড়াতেন। এই সুযোগে এক ছাত্রীর সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ড করে তার ভিডিও ধারণ করেন বলে গত বছর স্থানীয়দের মধ্যে জানাজানি হয়। সেই সময় স্থানীয় এক প্রভাবশালী নেতার হস্তক্ষেপে বিষয়টি ধামচাপা দেওয়া হয়। শনিবার (১ মে) একটি ফেসবুক আইডি থেকে ওই শিক্ষক ও ছাত্রীর অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। সেই ভিডিও থেকে নেওয়া ছবি ফেসবুকের বিভিন্ন আইডি থেকে ভাইরাল হয়। বিষয়টি দেখে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে।

বিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর অভিভাবক মঞ্জু রশিদ জানান, এরকম ন্যাক্কারজনক কথা শুনতে খারাপ লাগে। ঘটনার তদন্ত করে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

অভিভাবকরা জানান, শিক্ষক যদি ছাত্রীর সঙ্গে এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়ায় সেই বিদ্যালয়ে মেয়েরা কিভাবে নিরাপদ। দ্রুত ওই শিক্ষকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেছেন তারা।

অভিযুক্ত শিক্ষক সাদেকুল ইসলাম পিটুর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ব্যবহারকৃত নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

রাণীনগর উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, প্রায় এক বছর আগে প্রাইভেট পড়ানোর সুযোগে শিক্ষক সাদেকুল ইসলাম পিটু ওই ছাত্রীর সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে এক বছর আগে গুঞ্জন শুরু হলে ওই শিক্ষার্থী টিসি নিয়ে অন্যত্র চলে যায়। কিন্তু শনিবার থেকে জানতে পারছি ওই ছাত্রী এবং সাদেকুলের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। বিষয়টি জানতে পেরে ম্যানিজিং কমিটির সভাপতি এবং মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে জানিয়েছি।

তিনি আরো বলেন, এ পর্যন্ত কেউ আমার কাছে অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি গোলাম হোসেন গোল্লা বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। প্রধান শিক্ষককের সঙ্গে কথা বলে পরে জানাবো।

রাণীনগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, বিষয়টি আমি লোকমুখে শুনেছি। এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত ভাবে জানায়নি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুশান্ত কুমার মাহাতো বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হবে।

 

 

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com