মঙ্গলবার, ১১ মে ২০২১, ০৯:১৭ অপরাহ্ন

করোনায় স্বাদ-গন্ধ হারানোর সুযোগ নিয়ে যেসব উপকার পেতে পারেন

খবরের আলো প্রতিবেদক

করোনায় আক্রান্ত হলে কিছু মানুষ সাময়িকভাবে স্বাদ ও গন্ধের অনুভূতি হারান। কারো ক্ষেত্রে সেই অভাব দীর্ঘ সময় হতে পারে। এমন এক ভুক্তভোগী সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অনেক বদভ্যাস ত্যাগ করে স্বাস্থ্যকর খাবার খাচ্ছেন। চলুন জেনে নেওয়া যাক।

ইয়োনাস ভিলোট সেই সন্ধ্যার কথা কখনো ভুলতে পারেন না। বন্ধুদের সঙ্গে তিনি পিজ্জা কিনে বাসায় ফিরেছিলেন। স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘বাসায় ফিরে আমরা পিজ্জা খেলাম। খেয়াল হলো, একেবারেই কোনো স্বাদ পাচ্ছি না। প্রথমে মনে হচ্ছিল যে, বোধহয় মশলা ঠিক ছিল না অথবা পিজ্জা তৈরি করার সময়ে রাঁধুনীর মনোযোগ ছিল না। তারপর পানীয়ের মধ্যেও কোনো স্বাদ পেলাম না। পরের দিনও কোনো পরিবর্তন হলো না। তখন বুঝলাম কিছু একটা গণ্ডগোল হয়েছে’।

২০২০ সালের মার্চ মাসে ইয়োনাস ছুটিতে বন্ধুদের সঙ্গে স্কি করতে গিয়েছিলেন। তখন তিনি-সহ কয়েকজন করোনায় আক্রান্ত হন। ১৪ দিন পর বাকিদের উপসর্গ দূর হলেও ইয়োনাসের স্বাদ ও গন্ধ লোপ পায়। তিনি অবশ্য বিষয়টি হালকাভাবে নিয়েছেন। শুরুতে প্রতিদিন সকালে সেই অভাববোধ টের পেতেন, ফ্রিজ খুললেই মন খারাপ হয়ে যেত। এখন তার অভ্যাস হয়ে গেছে। প্রথমদিকে অনেকেই বিশ্বাস করেনি। পরে বুঝতে পেরেছে যে, সেটা সত্যি এক সমস্যা। কারণ, তিনি ব্রাসেলস স্প্রাউটের মতো এমন সব খাবার খেতে শুরু করেন, যা পছন্দ না করার কারণে আগে কখনো খাননি।

স্বাদের অনুভূতি হারিয়ে ইয়োনাসের কিছু উপকারও হয়েছে। করোনায় আক্রান্ত হবার আগে তিনি জাংকফুড খেতে খুব ভালোবাসতেন। প্রায় প্রতিদিন সসেজ, পিজ্জা ও মিষ্টি খেতেন। ফলে ওজন ১০০ কিলো ছাড়িয়ে গিয়েছিল। আর এখন তার চেহারা বদলে গেছে। স্বাদের অনুভূতি হারানোর পর ওজন ৩৪ কেজি কমে গিয়েছে। কারণ ইয়োনাস এখন সচেতনভাবে স্বাস্থ্যকর খাবার খাচ্ছেন।

আগে শাকসবজি না খেলেও এখন আর সমস্যা হচ্ছে না। ইয়োনাস বলেন, ‘আমি আর প্রায় কোনো কার্বোহাইড্রেট খাচ্ছি না। মুরগির মাংসের মতো অনেক প্রোটিন খাচ্ছি। শর্করা বলতে বেশির ভাগ সময়ে ভাত খাচ্ছি, সঙ্গে ব্রকোলি, গাজর অথবা শসা। মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে এটাই আমার মূল খাবার। পিজ্জার মতো অপ্রয়োজনীয় চর্বিযুক্ত খাবার খাচ্ছি না। এমনিতেই সেসব খাবারের স্বাদ পেতাম না’।

শুধু আলুভাজার ক্ষেত্রে তিনি মাঝে মধ্যে দূর্বল হয়ে যান। তার অবশ্য একটা কারণ রয়েছে। সেটা খেলে তার সেই সময়ের কথা মনে পড়ে যখন মুখে রুচি ছিল। এমন দশা সত্ত্বেও ইয়োনাস নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করেন। এর কারণ ব্যাখ্যা করে ইয়োনাস ভিলোট বলেন, ‘১৪ দিন পরেও অনেক মানুষ অসুস্থ বোধ করছেন। অনেকের ফুসফুসে সমস্যা দেখা দিচ্ছে। ফলে জীবনযাত্রা বদলে যাচ্ছে। আর খেলাধুলা করতে পারছেন না। তারা বিষয়টিকে আমার মতো হালকাভাবে নিতে পারছেন না। আমি সামান্য কিছু হারিয়েছি। তাদের জীবনের অভাব অনেক বেশি’।

বেশির ভাগ রোগীর ক্ষেত্রে গন্ধ ও স্বাদের অনুভূতি কিছু সময় পর ফিরে আসে। ইয়োনাস কবে আবার স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরতে পারবেন, কেউ তা জানে না।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com