বুধবার, ১৬ জুন ২০২১, ০৪:০৩ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
নাটোরে পরিত্যক্ত অবস্থায় ৩৭৯ রাউন্ড গুলি উদ্ধার  স্পেনের জাতীয় জাদুঘরে অভিবাসীদের আনন্দ উৎসব পরকীয়া করতে এসে ধরা খেল  প্রেমিক!  থানায় মামলা, প্রেমিক শ্রীঘরে! রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নারীদের গুরুত্ব নিয়ে ফেসবুকে আবেগময় পোস্ট করেন মামূনি খান (মনি)   ত্রিমোহনী সেতু প্রবেশ মুখে  গর্তের সৃষ্টি হয়েছে,  ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন মানিকগঞ্জের দৌলতপুরে নতুন সড়কের উদ্ভোদন করলেন নুরুল ইসলাম রাজা শরীয়তপুরে ২ হাজার ৭৩২ পিচ ইয়াবা সহ আটক মাদক ব্যবসায়ী ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের তালিকাভুক্ত কুখ্যাত ডাকাত ফারুক গ্রেপ্তার বড়াইগ্রামে ট্রাক-পিকআপ মুখোমুখি সংঘর্ষে পিকআপ চালক নিহত উদাসীনতায় হিলিতে বাড়ছে করোনার সংক্রমণ

বড় বড় অপরাধ দমনে দায়ীত্ব যাদের হাতে তারাই এখন বড় ধরনের জুয়া অপরাধে মুল পরিচালনাকারী 

খবরের আলো :

রাজু আহমেদ:

সম্প্রতি রূপনগরে র‌্যাবের অভিযানে এই ভয়ংকর সমাজ বিধ্বংসী তথ্য বেরিয়ে এসেছে। রূপনগর ক্লাবে র‌্যাবের হাতে ৪৪জন জুয়ারী আটক হলে তার নিয়ন্ত্রক হিসেবে  ওসি-কাউন্সিলরসহ তালিকায় নাম চলে এসেছে।

ঢাকার মিরপুর রূপনগরে বহুদিন ধরেই চলছে লাখ লাখ টাকার ক্যাসিনো জুয়া খেলা। রূপনগর ক্লাব লিমিটেড নামের আড়ালে রাতদিন চলে আসছিলো এই জুয়া বানিজ্য। এ ক্লাবের স্থানীয় ভাবে নাম করণ করা হয়েছে ‘মিনি ক্যাসিনো। রূপনগর থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ বদলি হওয়ার পরই জুয়ার আসরে র‌্যাব-৪ অভিযান করে ৪৪ জন জুয়ারীকে আটক করে। অভিযানের নেতৃত্বদেন মেজর কামরুল ইসলাম।

র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়েই রূপনগর ক্লাব লিমিটেড এর মালিক (প্রেসিডেন্ট) কথিত সাংবাদিক এসএম ইমন জুয়ার স্পটের পিছন দিয়ে দৌড়ে পালানোর সময় অসাবধানতায় ড্রেনের ময়লা পানি ও ডোবা গোসল সেরে ফেলেন তিনি। ওই ড্রেন দিয়েই এলাকার মানুষের ও পশু-পাখির মল-মুত্র বের হয়।

গত বৃহস্পতিবার (২৭-মে ২০২১) বিকালে রাজধানীর রূপনগর আবাসিক মোড় সংলগ্নে “রূপনগর ক্লাব “মিনি ক্যাসিনো” জুয়ার বোর্ড থেকে র‌্যাব সদস্যরা ৪৪ জুয়ারী আটক সহ নগত ‘৭২ হাজার ২শ ৩৫ টাকা, বিভিন্ন নামি-দামি ব্যান্ডের ৪৭ টা মোবাইল ফোন,১৮টা মানিব্যাগ ও ৮ সেট তাস উদ্ধার করে।

মহামারী করোনা পরিস্থিতি নিয়ে যেখানে সারা পৃথিবীর মানুষ আতংক রয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলো বন্ধ রয়েছে। সেখানে তারা জড়ো হয়ে জুয়া খেলা নিয়ে ব্যস্ত। সরকারের পক্ষ থেকে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে চলাচলের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা মানছেনা এ জুয়ারীরা। তারা জুয়া ব্যবসায় মগ্ন রয়েছে।

এছাড়াও প্রকশ্যে রূপনগর থানা এলাকার বিভিন্ন সড়কে দোকান বসিয়ে প্রত্যহ লাখ লাখ টাকা চাঁদাবাজি করছে সোর্স কাদের। একাধিক সংবাদ গন্যমাধ্যমে তা ছাপা হলেও এখন পর্যন্ত টনক নড়েনি প্রশাসনের। জুয়া ও মাদকের টাকা জোগাড় করতে এলাকায় বেড়ে গেছে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি,খুন খারাবিসহ অসংখ্য অপরাধ।

এ মিনি ক্যাসিনো রূপনগর ক্লাবের মালিক মুল হোতা কথিত সাংবাদিক এস এম ইমনের গ্রামের বাড়ী চাঁদাপুর মতলব এলাকায়, বর্তমানে রূপনগর ইস্টার্ন হাউজিং এলাকায় বসবসা করে।

(www.rupnagarclubltd.com) এই ওয়েবসাইটে ক্লাবের সদস্যদের সাথে মালিকের যোগাযোগের জন্য স্থায়ী ও অস্থায়ী সদস্যদের নামের তালিকা পাওয়া যায়।

ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে দেখা যায় থানার ওসিসহ রাজনৈতিক নেতাদের নাম রয়েছে। তারা হলেন-(১) কথিত সাংবাদিক এসএম ইমন (প্রেসিডেন্ট) , (২) ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর তোফাজ্জল হোসেন টেনু (ভাইস প্রেসিডেন্ট),( ৩) রূপনগর থানার সাবেক ওসি আবুল কালাম আজাদ বর্তমানে বাড্ডা থানায় কর্মরত (জেনারেল সেক্রেটারি ও স্থায়ী সদস্য) ,(৪) রূপনগর থানা যুবলীগের সাধারণত সম্পাদক মোঃ নুরে আলম খোকন (জয়েন্ট সেক্রেটারি),( ৫) ঝিলপাড় বস্তির নিয়ন্ত্রণকারী আব্দুস সাত্তার (সদস্য),( ৬) মোঃ মোবাশ্বের আলী (সদস্য),(৭) ফারুক (সদস্য), (৮) রূপনগর থানা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক লতিফ মোল্লা (অস্থায়ী সদস্য), (৯) মোঃ আওলাদ হোসাইন (জেনারেল সদস্য), (১০) রেজাউল ইসলাম খান (সদস্য),(১১) মোঃ শামসুজ্জামান (সদস্য), (১২) নিপা আক্তার (আজীবন সদস্য)।

বিশস্ত সুত্রে জানাগেছে রূপনগর ক্লাব লিমিটেড এর ওয়েবসাইটে যাদের নাম ও ছবি পাওয়া গেছে তাদের সবার বিস্তারিত তথ্য অনুসন্ধানে মাঠে নেমেছে বিভিন্ন সংস্থার গোয়েন্দারা।

স্থানীয়রা এ প্রতিবেদক কে বলেন, প্রেসিডেন্ট ইমন আগে “গ্যাস চুলার মিস্তিরি ছিলেন পরে নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে দির্ঘদিন ধরে রুপনগর থানা প্রশাসনের সাথে সু-সম্পর্ক গড়ে তাদের নাকের ডাগায় বসেই এলাকায় জুয়া চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ড করে আসছে।

কথিত সাংবাদিক ইমন ও সোর্স কাদেরের অপরাধ কর্মকান্ডে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। এলাকার সুশীল সমাজের লোকজন প্রকাশ্যে না বললেও ভিতরে ভিতরে মনোক্ষুণ্ণ স্থানীয় তরুন কাউন্সিরের প্রতিও।

এ বিষয়ে র‌্যাবের মেজর কামরুল বলেন, মুল হোতা ইমন ‘গা’ ঢাকা দিয়েছে। স্পট থেকে ৪৪ জন কে আটক করা হয়েছে। ইমনের বিরুদ্ধে বহু-অভিযোগ রয়েছে।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ৭নং ওয়ার্ড  কাউন্সিলর তোফাজ্জল হোসেন টেনু তার রূপনগর ক্লাব লিমিটেডের সহসভাপতি পদ অস্বীকার করে বলেন, আমি ওই সব ক্লাব টিলাবের বিরুদ্ধে, জুয়া খেলা যেইখানে সেখানে আমি নাই। কালের কন্ঠের এক সাংবাদিক ইমন এগুলো করছে আমি ওরে খুজে পাইতেছিনা। আমার ছবি ও ক্লাবের বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা, আমি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ি। তিনি আরো বলেন, জুয়া যারা চালায় আমি তাদের বিরোধী আমি তো পুলিশ দিয়ে  ওদের ধরিয়ে দিয়েছি বহুবার পরে র‌্যাব দিয়েও ধরিয়ে দিছি।

কালের কন্ঠ অফিসে যোগাযোগ করে জানা গেছে, মিরপুর ও রূপনগরে কোন কালেই এসএম ইমন নামে কোনো সংবাদ কর্মী ছিলোনা তাদের এখনো নেই। অফিস থেকে আরো বলা হয়, যদি ইমন নামের কেউ কালের কন্ঠের পরিচয় দেয় তাকে ধরে পুলিশে দিবেন।

শুক্রবার দিন র‌্যাব ৪৪ জনকে আটকের ঘটনায়  ফেসবুক জুড়ে ভাইরাল এবং  ইমন ভুয়া সাংবাদিক, চাঁদাবাজ হিসেবে মন্তব্য করে তার শাস্তি দাবী জানান।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে মিরপুর বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মাহতাব উদ্দিন বলেন, ক্লাবের সেক্রেটারি ওসি হলে দোষ কি? তিনি তো জুয়া খেলেনি। তিনি আরো বলেন, ঢাকা বোর্ড ক্লাবের প্রেসিডেন্ট আমাদের আইজিপি স্যার, সে কিভাবে হলো? ওসি হলে দোষের কি? ক্লাবের অন্যন্য মেম্বার যদি খেলে তার দায়ভার তো সে নিবে কেন? ওসি তো আর জুয়া খেলেনি, তাকে র‌্যাবও ধরেনি।

স্থানীয়দের দাবী যারা জুয়া, মাদক বানিজ্য, চাঁদাবাজি করে তাদের আইনের মাধ্যমে সঠিক বিচার হলে ভবিষ্যতে আর অপরাধ করতে সাহস পাবেনা।

সরকারের সুনাম ও উন্নয়ন এরাই ধ্বংস করছে। এসব চক্র থামাতে না পারলে রাজধানীর সমাজ ও নাগরিক ধ্বংস হয়ে যাবে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com