বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১, ০৮:৪৭ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
বিচার বিভাগে করোনা শনাক্ত ৯৬৫ জনের, চিকিৎসাধীন ৫৯ বিচারক অব্যাহতির বিরুদ্ধে বাদী নারাজি দিচ্ছে মুনিয়া আত্মহত্যা মামলায় বসুন্ধরার এমডিকে অব্যাহতি দিয়ে প্রতিবেদনের শুনানি আজ হয়নি বাড়ছে ডেঙ্গু: প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ৭ নির্দেশনা নিজের আইসিইউ সিট ছেলেকে দিলেন মা, অবশেষে বাঁচলেন না কেউই সরকারি বিধিনিষেধ অমান্য করে বৌভাত অনুষ্ঠান করায় ১০,০০০ টাকা জরিমানা সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে বসতবাড়ির রাস্তা বন্ধ করায় ৪টি পরিবার অবরুদ্ধ মানিকগঞ্জে লকডাউনে কঠোর অবস্থানে গোলড়া হাইওয়ে থানা পুলিশ মাধবপুরে কাশিমনগর বাজারে  অগ্নিকান্ডে ১০ দোকান পুড়ে ছাই, প্রায় ২০ লক্ষ টাকার ক্ষতি বনপাড়া হাইওয়ে থানার ওসি শফিকুল ইসলামের বদলী, নতুন ওসি মোজাফ্ফর হোসেনের যোগদান বড়াইগ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধে বৃদ্ধাকে মারধর, বাড়িঘর ভাঙ্গচুর

ঋণের অপব্যবহার ঠেকাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোরতা

ব্যাংকিং খাতে ঋণ জালিয়াতি বন্ধে ও জামানতবিহীন বিশ্বাসের ঋণের অপব্যবহার ঠেকাতে তদারকি ব্যবস্থা জোরদার করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর অংশ হিসেবে এই প্রথমবারের মতো গতকাল দেয়া হয়েছে পূর্ণাঙ্গ একটি নীতিমালা।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, পণ্য আমদানির জন্য কোম্পানিগুলোর সুনামের ভিত্তিতে যেসব ঋণ দেয়া হবে সেসব ঋণের মেয়াদ হবে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৯০ দিন এবং শিল্পের কাঁচামালের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১৮০ দিন। এ সময়ের মধ্যে গ্রাহক ঋণ পরিশোধ করতে না পারলে সর্বোচ্চ একবার এক মাস ও দুই মাসের জন্য ঋণ নবায়ন করা যাবে। এ জন্য গ্রাহকের গোডাউনে আমদানিকৃত পণ্য আছে কি না, বা মজুদের উদ্দেশ্যে পণ্য রাখা হচ্ছে কি না তার সঠিকতা যাচাই করতে সরেজমিন গোডাইন পরিদর্শন করতে হবে।

সর্বোপরি এসব ঋণ তদারকি করতে প্রতিটি ব্যাংকের গঠন করতে হবে বিশেষ ইউনিট। নীতিমালাটি পরিপালনের জন্য গতকাল কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

জানা গেছে, পণ্য আমদানির জন্য গ্রাহকরা ঋণপত্র (এলসি) স্থাপন করে থাকেন। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বড় ব্যবসায়ী গ্রুপ বা কোম্পানিগুলো নামমাত্র এলসি মার্জিন বা আগাম পরিশোধ করে ঋণপত্র স্থাপন করেন।

যেমন, একজন গ্রাহক বিদেশ থেকে ১০০ কোটি টাকার পণ্য আমদানি করবেন। এজন্য গ্রাহক যে ব্যাংকের মাধ্যমে ঋণপত্র স্থাপন করবেন ওই ব্যাংককে আগাম এক কোটি টাকা দেয়া হলো। বাকি ৯৯ কোটি টাকা ব্যাংক বিদেশী ক্রেতার ব্যাংকের মাধ্যমে পরিশোধ করে পণ্য দেশে আনে। আগে থেকেই সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের বিপরীতে ঋণসীমা অনুমোদন করা থাকে। পণ্য দেশে আসার পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংক গ্রাহকের বিপরীতে অনুমোদিত ঋণের সীমা থেকে পণ্যের মূল্য সমন্বয় করে থাকে। এসব ঋণকে ব্যাংকভেদে বিভিন্ন নাম দেয়া হয়। সাধারণত, প্রচলিত ব্যাংকগুলো সংশ্লিষ্ট কোম্পানির সুনামের বিপরীতে ঋণ বা এলটিআর, এলএটিআর এবং ইসলামী ব্যাংকগুলো এমটিআর বা এমপিআই নামে অভিহিত হয়। এসব ঋণে তেমন জামানত থাকে না।

সাধারণত গ্রাহক পণ্য বিক্রি করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যাংকের অর্থ পরিশোধ করার কথা। কিন্তু একশ্রেণীর অসাধু গ্রাহক গোডাউন থেকে পণ্য খালাস করে বিক্রি করেন ঠিকই, কিন্তু ব্যাংকের অর্থ পরিশোধ করেন না। একশ্রেণীর ব্যাংকারের যোগসাজশে সংশ্লিষ্ট গ্রাহক লোকসান দেখিয়ে বা পণ্য অবিক্রীত দেখিয়ে ঋণ পরিশোধে দীর্ঘায়িত করা হয়। এক সময়ে এসে ওইসব ঋণকে ব্যাংক ফোর্সড ঋণ বা মেয়াদি ঋণ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। আর একবার মেয়াদি ঋণে রূপান্তর হলে বছরের পর বছর তা ব্যাংকের খাতায় খেলাপি হয়ে যায়। এসব খেলাপি ঋণ নবায়ন করে বারবার নতুন ঋণ নিতে থাকেন একশ্রেণীর অসাধু গ্রাহক। এভাবে ব্যাংকের খাতায় হাজার হাজার কোটি টাকার পুঞ্জীভূত খেলাপি ঋণ সৃষ্টি হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে, এ মহাজালজালিয়াতি ঠেকাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তদারকি ব্যবস্থা জোরদার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ জন্য এই প্রথমবারের মতো এ সংক্রান্ত একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা দিয়েছে।

তিন পৃষ্ঠার এক নীতিমালায় বলা হয়েছে, বিশ্বাসের ভিত্তিতে যেসব ঋণ দেয়া হয়, সেসব ঋণ যে নামেই ডাকা হোক না কেন, এখন থেকে এসব ঋণ আমদানি পরবর্তী অর্থায়ন যা ইংরেজিতে পোস্ট ইমপোর্ট ফাইন্যান্সিং সংক্ষেপে যা পিআইএফ নামে অভিহিত হবে। এই পিআইএফের মেয়াদ নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৯০ দিন এবং শিল্পের কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১৮০ দিন বা ছয় মাসের বেশি হবে না।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com