রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৪:৪৩ অপরাহ্ন

দারুসসালাম থানার ওসির বিরুদ্ধে মামলা, না নিয়ে তালবাহানার অভিযোগ! 

খবরের আলো :

নিজস্ব প্রতিবেদক :

বাংলাদেশে একের পর এক সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটছে। দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া দূরে থাক উল্টো মামলা দিয়ে সাংবাদিকদেরই হয়রানি করা হয়৷ বিশ্লেষকেরা মনে করেন প্রশাসনের উদাসীনতাই এই ধরনের ঘটনা উস্কে দিচ্ছে৷

বাংলাদেশে একের পর এক সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটছে। দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া দূরে থাক উল্টো মামলা দিয়ে সাংবাদিকদেরই হয়রানি করা হয়৷ জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও বিশ্লেষকেরা মনে করেন প্রশাসনের উদাসীনতাই এই ধরনের ঘটনা উস্কে দিচ্ছে৷

বাংলাদেশে সাংবাদিকদের উপর হামলা দিনদিন বেড়ে চলছে৷

 ঢাকা মিরপুর টোলারবাগ আবাসিক এলাকায় দৈনিক “আজকের একুশের সংবাদ”  সাংবাদিক,স্টাফ রিপোর্টার, মো: রিয়াজুল হাসান (অভি) ‘কে  নির্মম ভাবে  পিটায় বলে অভিযোগ করেন।

গত বুধবার  সাংবাদিক মো: রিয়াজুল হাসান অভি, ৭/৭/২০২১,ইং তারিখে  রাত আনুমানিক ১০ ঘটিকার সময় সাংবাদিকের ওপর হামলা হয়েছে।

অনুসন্ধানে করে জানা যায় ‘ টোলারবাগ সমাজ কল্যাণ সংগঠন’ সভাপতি, হাজী লুৎফর রহমান,সেক্রেটারি, জি এম পারভেজ মাহমুদ, এর বিরুদ্ধে সাপ্তাহিক অপরাধ বিচিত্রা পত্রিকায় দুর্নীতি ও আত্মসাৎ ও সরকারি রাস্তা ইজারা দিচ্ছেটোলারবাগ সোসাইটি লুৎফর রহমান শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করায় মূলত এই বর্বরোচিত হামলা করার কারণ বলে জানা যায়। হামলার শিকার সাংবাদিক মো: রিয়াজুল হাসান( অভি)কে সাড়ে তিন ঘন্টা  আটকে রেখে অমানবিক নির্যাতন করে জানা যায়। নির্যাতনের সময় সাংবাদিক অভি অজ্ঞান হয়ে পড়লে নির্যাতনকারীরা মনে করে অভি মারা গেছে।

ভয় পেয়ে সভাপতি,হাজী লুৎফর রহমান, সেক্রেটারি, জি এম পারভেজ মাহমুদ,নির্যাতনের  অংশগ্রহণকারি সকলকে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে বলে। নির্যাতনকারীরা দলছুট হয়ে সরে পড়েন, অভির জ্ঞান ফিরে দেখে বাড়ির মালিক সমিতির অফিসের  নিচে মেঝেতে পড়ে আছে তাকে ফেলে হামলাকারীরা পালিয়েছে। অভি কে ওই এলাকার লোকজন রিক্সাযুগে  মেডিকেলে চিকিৎসার জন্য পাঠান।

সাংবাদিক অভি চিকিৎসা নিয়ে দু-দিন পর কোনরকম সুস্থ হয়ে মিরপুর,টোলারবাগ এলাকা আওতাভুক্ত দারুসালাম থানায় জান, থানার অফিসার ইনচার্জ  ওসি তোফায়েল আহমেদ,কে পুরো ঘটনা খুলে বলেন, ঘটনা শুনে  ওসি তোফায়েল আহমেদ, দারুসসালাম থানার এস আই, রেজাউল করিম,’কে  ঘটনা তদন্ত করে তাকে জানাতে বলেন।

এসআই রেজাউল,অভিযোগকারী সাংবাদিক অভি ‘কে বলেন মামলা করে কি হবে,যাদের নামে অভিযোগ করেছেন তারা টোলারবাগ  এলাকার প্রভাবশালী ক্ষমতাধর ব্যক্তি তাদের নামে আপনি মামলা করতে চাইলে আপনার বিরুদ্ধেও সভাপতি, সেক্রেটারি, কাউন্টার মামলা দিবে বলে জানান।

এরপর  এস আই রেজাউল, ওসির রুমে প্রবেশ করে  ওসিকে এ ব্যাপারে অবহিত করে।পরবর্তীতে সাংবাদিক  অভি থানার ওসির  কাছে গেলে  ওসি মামলা না নেওয়ার তালবাহানা করে বলে জানায়।

এরপর মামলা  নিব নিচ্ছি বলে  সকাল বিকাল কালক্ষেপণ করতে থাকে,দারুসসালাম থানার  ওসি তোফায়েল আহমেদের,কালক্ষেপণ দেখে দৈনিক খবরের আলোর  ক্রাইম অনুসন্ধান টিম  আসল ঘটনা উদঘাটন করার  জন্য  এসআই রেজাউল  করিম, এর নিকট ঘটনা তদন্তের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলে যাদের নামে সাংবাদিক অভি মামলা করবে এদের বিরুদ্ধে মামলা নেওয়া আমারও আমার ওসির পক্ষে সম্ভব নয়।

 আপনারা উপরের দিকে কথা বলেন কারণ এদের হাত অনেক শক্তিশালী আমার জন্য পরবর্তীতে এ থানায় কাজ  করতে সমস্যা সৃষ্টি হবে।

এরপর দারুস সালাম  থানার   ওসি তোফায়েল আহমেদ,কে  এ ব্যাপারে মামলা না নেওয়ার কারণ জানতে চাওয়া হলে, তিনি প্রতিউত্তরে জবাব দেন  আমি মামলা নিতে পারি কিন্তু টোলারবাগের মালিক সমিতির মামলাও আমাকে নিতে হবে এখন বলেন আমি কি করব?

এরপর মিরপুর বিভাগের এডিসি, এ জেড এম তৈমুর রহমান,এর নিকট মামলা না নেওয়ার ব্যাপারে জানানো হলে তিনি বলেন মামলা থানায় অবশ্যই নিবে।আরো বলেন মামলার অভিযোগ কারী কে  দারুসসালাম থানায় গিয়ে মামলা না নিলে আমাকে ফোন দিবেন।দুঃখের বিষয় এত সময় পার হয়ে যাওয়ার পরেও দারুস সালাম থানার ওসি তোফায়েল আহমেদ,  অদ্যবধি  কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেন নাই বলে আমরা জানতে  পারি।

এসব ঘটনায় জড়িত কাউকেই এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার বা আইনের আওতায় আনা হয়নিবলে জানা যায়।টোলারবাগ এলাকায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন। সাংবাদিকদের ওপর এমন হামলা এবং প্রতিকার না পাওয়া বাংলাদেশে এখন সাধারণ ঘটনায় পরিনত হরেছে। তাদের বিভিন্ন সময় হত্যাও করা হয়েছে। কোনো অপরাধী চক্র বা দুর্নীতিবাজ চক্রের বিরুদ্ধে যখনই কেউ কাজ করতে গিয়েছে, হয় তারা লাঞ্ছিত হয়েছেন নয়তো জীবন দিতে

হয়েছে। এইসব ঘটনার কখনই কোনো দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়নি। ফলে অন্যরাও সাংবাদিক নির্যাতনে উৎসাহিত হয়েছে।

এসব নির্যাতনে জোরালো কোনো প্রতিবাদ হয় না৷ সাংবাদিকদের নিজেদের মধ্যেই রয়েছে নানা বিভক্তি। কিছু সাংবাদিকদের দলীয় আচরণ এবং অসততাও এই পেশাকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে বলেও মনে করা হয়৷ ‘‘এটা একটা দুঃখজনক পরিস্থিতি। বাংলাদেশে সাংবাদিকদের ওপর হামলা হলে, নির্যাতন হলে কোনো বিচার হবে না। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা নিরব ভূমিকা পালন করবে। সাংবাদিকরাও কোনো প্রতিবাদ করবে না। এইরকম একটা আস্কারা থেকেই একটার পর একটা সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে।”

‘‘বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে প্রভাবশালী বলেন অথবা পাড়ার মাস্তান বলেন, তারা মনে করে সাংবাদিক মারলে কিছু হয় না।”

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com