বুধবার, ২৭ অক্টোবর ২০২১, ০৭:৩৯ পূর্বাহ্ন

নির্মোহ সাংবাদিকতার বাতিঘর “সাঈদুর রহমান রিমন”

তারকা সাংবাদিক সাঈদুর রহমান রিমন দাদাভাই

খবরের আলো :
বেলায়েত হোসেনঃ
একটি অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে সাংবাদিকতা জীবনের শুরু। এরপর থেকে বিভিন্ন সময়ে সাপ্তাহিক, বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায় কাজ করার অভিজ্ঞতা হয়েছে। একজন গণমাধ্যম কর্মী হিসেবে পথ চলতে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরনের মানুষের সাথে ওঠা বসা করার সৌভাগ্য হয়েছে। অনেকের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি। সেখানে ভালোর চেয়ে মন্দের পরিমাণটাই ছিল উল্লেখযোগ্য। তারপরেও নিজের বিবেচনায় মন্দটাকে ঝেড়ে ফেলে ভালোটাই গ্রহণ করার চেষ্টা করেছি। আমৃত্যু এই পেশা নিয়েই মরতে চাই। সে কারণে মাঝেমধ্যেই ভালো কিছু সহযোদ্ধা, সহকর্মী খুঁজে ফিরি। মাঝেমধ্যে পেয়েও যাই। কিন্তু একপর্যায়ে পথ চলতে গিয়ে এক একজনের সম্বন্ধে এক এক ধরনের অভিজ্ঞতা হয়েছে।
বর্তমান সোশ্যাল মিডিয়ার যুগ। শতকরা ৯৫ জন মানুষের কাছে মোবাইল। সেখানে ফেসবুক, টুইটার, ইন্সট্রাগ্রাম সহ আরো অনেক যোগাযোগ মাধ্যম রয়েছে। আমি নিজেও এর বাইরে নই। হঠাৎ একদিন ফেসবুক খুলতেই চোখে পড়ে সাংবাদিক সাঈদুর রহমান রিমন কে নিয়ে একটি লেখা। আমি মনোযোগ সহকারে সেই লেখাটি পড়ি এবং সেখান থেকে জানতে পারি সাঈদুর রহমান রিমন এখনো লোকাল বাচে চড়ে অফিস এবং প্রেসক্লাবে যাতায়াত করেন। তখন থেকে সাঈদুর রহমান রিমন কে দেখার জন্য ভিতরে ভিতরে অস্থির হয়ে যাই। একটা কথা আছে “ইচ্ছে থাকলে উপায় হয়” হয়তো সে কারণেই একদিন কাঙ্ক্ষিত সেই মানুষটির সাথে দেখা এবং কথা বলার সুযোগ হয়। যতটা সময় তার কাছে থেকেছি, তার কথা শুনেছি, শুধুই মুগ্ধ হয়েছি। আর মনে মনে ভেবেছি কি সময়টা না নষ্ট করলাম। যদি এরকম মানুষের সাথে আরো আগে দেখা হতো তাহলে আরো অনেক কিছু শিখতে, জানতে পারতাম। সেই থেকে প্রায়ই কারণে-অকারণে রিমন ভাইয়ের সাথে দেখা করতে মন চাইলেই ফোন দিয়ে চলে আসি। শুধু তার কথা শোনার জন্য। আমার প্রচেষ্টা কখনোই ব্যর্থ হয়নি। প্রতিবারই দেখা হয়েছে, কথা হয়েছে । যতবার দেখেছি ততোবারই তার কাছ থেকে কিছু না কিছু শিখেছি। যতটুকু শিখেছি ভালোই শিখেছি মন্দ নয়।
নির্মোহ, সাদাসিধে এই মানুষটিকে কখনোই পোষাকে আশাকে চাকচিক্য চোখে পড়েনি। সাদাসিধে-ঢিলেঢালা জামা-প্যান্টে আয়রনের ভাজ চোখে পড়েনি। পায়ে ৩ থেকে ৪০০ টাকা দামের চটি। মাথায় ৫০ টাকা দামের একটি ক্যাপ এভাবেই দেখেছি। বিলাসিতার কোন ভাবেই তারমধ্যে চোখে পড়েনি। অথচ যার একটি লেখনীতে উপকৃত হয় দেশ ও দেশের মানুষ। দেশের মঙ্গলে তার লেখাগুলো খুবেই সময় উপযোগী ও যুক্তিযুক্ত। আমাদের দেশেসহ বিশ্বের সবচাইতে আলোচিত একটি দৈনিক পত্রিকা “বাংলাদেশ প্রতিদিন” তাতে সাঈদুর রহমান রিমনের রিপোর্ট থাকলে মানুষ ভক্তি সহকারে তার লেখা পরে। তার লেখনীর মাধ্যমে দেশের বাস্তব চিত্র তুলে ধরেন। এরমধ্যে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে করা সংবাদ ও সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ের বিষয়গুলি তার লেখনীর মাধ্যমে সুন্দরভাবে ফুটে উঠে। যারা সত্য ও সুন্দর দেখতে অভ্যস্ত তারা অধীর আগ্রহে বসে থাকেন। কোন দিন সাঈদুর রহমান রিমন এর লেখা পত্রিকায় আসে।
চোখের সামনে কত সংবাদকর্মীর উত্থান দেখেছি তা এক এক করে বোঝাতে গেলে আমি কারো কারো কাছে কালপিট হয়ে যাব। তাই নাম ধরে কাউকে বলতে চাই না। সংবাদ এর নামে অপ-সাংবাদিকতা করে হাজার-হাজার, লক্ষ লক্ষ, কোটি টাকা কামাতে দেখেছি। এরকম অপ-সাংবাদিকতার মাধ্যমে গাড়ি বাড়ি ফ্ল্যাটের মালিক বনে গেছে এরকম সাংবাদিকের সংখ্যাও কম নয়।
বিগত বছর তিনেক হলো সাঈদুর রহমান রিমন ভাইয়ের সাথে পরিচয়। এরমধ্যে দুইবার তার জন্মদিনে তার সাথে দেখা করার সৌভাগ্য হয়েছে। এইতো গেল বছর তার জন্মদিনে দাওয়াত পেয়েছিলাম। আমি ধন্য এরকম একজন মানুষের জন্মদিনে আমাকে দাওয়াত করা হয়েছে। যথাসময়ে জন্মদিনের অনুষ্ঠানে হাজির হলাম। অনেক লোকের আগমন আমাকে মুগ্ধ করেছে। কিন্তু যখনই সাঈদুর রহমান রিমন ভাইয়ের চোখে চোখ পরল আমি একটু বিস্মিত হলাম। আজকে যে মানুষটার জন্মদিন সে কিনা এরকম সাদাসিধা ভাবে মানুষের সামনে উপস্থিত হতে পারে। প্রথমে অবাক হলাম এবং ভাবলাম কি করা যায়। একজন সহকর্মীর সাথে বিষয়টা শেয়ার করলাম। আমরা দুজনে একটি সিদ্ধান্তে উপনীত হইলাম আজকে সাঈদুর রহমান রিমন ভাইয়ের জন্য শুধু ফুল নয় তাকে একটি পাঞ্জাবি উপহার দিব। যে পাঞ্জাবী পড়ে রিমন ভাই তার জন্মদিন পালন করবেন। দুজনে বেরিয়ে পড়লাম রাত তখন নটা বাজে। মার্কেট প্রায় বন্ধ। হাতেগোনা দুই-একটা দোকান খোলা। সেখানে দামি কোন পাঞ্জাবি পেলাম না। মনটা খারাপ হয়ে গেল। দুজনে পরামর্শ করলাম কি করা যায়। প্রায় আধাঘণ্টা ঘুরে ঘুরে ভালো একটা পাঞ্জাবী কিনতে পারিনি। মনে মনে ভাবলাম, আশা যখন করেছি পাঞ্জাবি নিয়ে ফিরবো। একটি দোকানে ঢুকে দেখি দোকানদার দোকান বন্ধ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। জিজ্ঞেস করলাম ভাই ভালো পাঞ্জাবী আছে? তিনি বললেন আমার কাছে ভালো পাঞ্জাবী নেই.।তবে যা আছে ৩ থেকে ৫০০। টাকার মধ্যে কি আর করা সেখান থেকেই একটি পাঞ্জাবি বেছে নিলাম এবং জন্মদিনের উপহার হিসেবে ভাইয়ের হাতে পৌছালাম এবং বললাম ভাই আজকের এই দিনে এই পাঞ্জাবীটা পরে আপনি কেক কাটবেন। খুশিতে ভাই বুকে জড়িয়ে নিলেন। নিজেকে গর্বিত মনে করলাম। এরপর থেকে যতবার রিমন ভাইয়ের সাথে দেখা বা কথা হয়েছে যা শিখেছি তা কখনো কারো কাছ থেকে শিখতে পারিনি।
সাংবাদিকতার জীবনে অনেক পত্রিকার কাজের অভিজ্ঞতা আছে। কিন্তু ঈদের সময় কোন সম্পাদক একবারের জন্যও ফোন করে অথবা সরাসরি জিজ্ঞেস করেনি, বেলায়েত হাতের কি অবস্থা? কিন্তু সাঈদুর রহমান রিমন তার সাথে টাকার কোন সম্পর্ক নেই। অথচ ঈদের আগের দিন চান রাতে মোবাইল ফোনে ভাই জিজ্ঞেস করলেন, বেলায়েত একটি সত্যি কথা বলব। জি ভাই বলেন, তোমার হাতের কি অবস্থা? আমার বুঝতে বাকি রইলোনা সে আমাকে কি ইঙ্গিত দিচ্ছে। ভাইকে জিজ্ঞেস করলাম আপনি তো ভাই। আপনার কাছে মিথ্যে বলে কি লাভ? আমি আমার পরিবারের জন্য ১ কেজি চিনি অথবা এক প্যাকেট সেমাইও কিনতে পারিনি। সত্যি কথা বলার জন্য ভাই আমাকে ধন্যবাদ দিলেন এবং বললেন, বেলায়েত তোমার জন্য আমি সামান্য কিছু পাঠাবো বিকাশ নাম্বারটা দাও। আমি নির্দ্বিধায় বিকাশ নাম্বার দিয়ে দিলাম  পক্ষান্তরে একটি মেসেজ। সেখানে যা ছিল তা নাইবা বললাম। ৫ মিনিট পর আবার ফোন দিলেন  বেলায়েত বেয়াদবি নিবেন না আপনি এবং সোহেল সেমাই চিনি কিনে নিবেন। পারলে আরো বেশি দিতাম।  প্রতিউত্তরে শুধু এটাই বলেছিলাম আপনি ভাই যা করেছেন আজ পর্যন্ত কেউ করেনি আপনার কাছে চির কৃতজ্ঞ।
পরিচয় হওয়ার পর থেকে যখনই কোন বিপদের সম্মুখীন হয়েছি, ততবার ভাইয়ের ছায়া তলে যাবার চেষ্টা করেছি এবং গেছি। পক্ষান্তরে যা পেয়েছি তাতে বাবার স্থানে সাঈদুর রহমান রিমন ভাইকে বসানো ছাড়া কোনো গতি নেই। যেভাবে যে অবস্থায় সম্ভব হয়েছে সমাধান দিয়েছেন রিমন ভাই। যা অন্য কোন সিনিয়ার ভাই, নেতা, বন্ধু, সহকর্মীদের কাছ থেকে পাইনি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস। আমার মত এরকম করে সাঈদুর রহমান রিমন ভাইয়ের সাথে যারা মিশেছেন, কাউকেই নিরাশ করেছে এরকম কোন খবর আমার কাছে নেই।
কিন্তু অতীব দুঃখের বিষয়। বর্তমানে কিছু কিছু স্বার্থন্বেষী মহল সেই বটবৃক্ষ সাঈদুর রহমান রিমন ভাইয়ের সাথে বিশ্বাসঘাতকতায় মেতে উঠেছে। অথচ তারা সাঈদুর রহমান রিমন ভাইয়ের কাছ থেকে ফায়দা লুটেনি এরকম নজির পাওয়া যাবে না। রিমন ভাই ও সরল বিশ্বাসে যাদেরকে বুকের মাঝে আগলে ধরেছিলেন তারাই আজ রিমন ভাইয়ের পিঠে ছুরি মারতে দ্বিধা করছেন না।
সুপ্রিয় পাঠকঃ আমার এই লেখার মাধ্যমে কি ভাবছেন? আজ যারা সাঈদুর রহমান রিমন কে পিছন থেকে ছুরি মারার চেষ্টা করছেন, তারা কি আসলেই মানুষ? নাকি মানুষরূপী জানোয়ার? বিচারের ভার আপনাদের কাছে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com