রবিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২১, ০৯:২৭ অপরাহ্ন

সব জাতি-ধর্মের নিরাপদ আবাসস্থল গড়তে রাষ্ট্রের কোন নির্দিষ্ট ধর্ম থাকতে পারেনা –

ছবিঃ লেখক সাফাত বিন ছানাউল্লাহ

– – – সাফাত বিন ছানাউল্লাহ্

“রাষ্ট্র ধর্ম চাই” ব্যাপারটাতে হুজুগে ধার্মিকদের আবেগী কথাবার্তায় বোঝা যায় কতটা অজ্ঞানী মুসলিম সমাজ একবিংশ শতাব্দীতে এসেও। প্রিয়নবী, হুজুর পুরনুর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিদায় হজ্জের ভাষণ মুসলমান সম্প্রদায়ের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ সংবিধান। ওই ভাষণে রাসুলের স্পষ্ট ঘোষণাকে এ যুগে এসে ধর্ম ব্যবসায়ী কাটমোল্লারা কিভাবে বিকৃত উপস্থাপন করেছে সরল সোজা মানুষদের কাছে, লিখতে গেলে বিশদ আলোচনা প্রয়োজন। রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দিকনির্দেশনার এক পর্যায়ে সমবেত সবার উদ্দেশ্যে বললেন আজ থেকে ধর্ম পরিপূর্ণ হয়েছে। এই মুহূর্ত থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম একথা বললেন না কেন? আরও বলেছিলেন আমাদের হাতে অন্য মতাবলম্বীরা সবচাইতে নিরাপদ থাকবে। এ সংক্রান্ত অসংখ্য পবিত্র কোরআনের আয়াত ও হাদিস রয়েছে।

রাষ্ট্রের কোন নির্দিষ্ট ধর্ম থাকতে পারেনা। একটি দেশ/ভূখণ্ড সবার। সংখ্যাগরিষ্ঠতায় ৮৫ ভাগ মুসলমানের বসবাস এদেশে। পৃথিবীতে যতগুলো স্বীকৃত ধর্ম আছে মতের ভিতর উগ্রবাদী রাও সক্রিয়। রাষ্ট্র যদি নির্দিষ্ট একটি ধর্মকে সাংবিধানিক অধিকার দেয় তাহলে ওই ধর্মের কট্টরপন্থীরা সবকিছু আমাদের মনে করে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের অনুভূতিতে আঘাত করবেই।
পৃথিবীর সবচাইতে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার দেশ বলা হয় পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতকে। সনাতন ধর্মাবলম্বী প্রধান দেশ-ও ভারত। কিন্তু, তাদের সংবিধানে রাষ্ট্রীয় কোন ধর্ম নেই। হিন্দু প্রধান দেশ হয়েও ভারতের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত বেশ কয়েকজন মুসলিম রাষ্ট্রপতি/প্রধানমন্ত্রী হয়েছে। আমাদের দেশে হলে তো আন্দোলন সহ রক্তারক্তি কাণ্ড ঘটতো। কয়েকমাস আগে দিল্লির ঘটনা সহ মুসলমানদের উপর নির্যাতনের বেশ কিছু ঘটনা ঘটিয়েছে সেদেশের উগ্রবাদীরা। ধর্মান্ধরা সারা দুনিয়ায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে।
পাকিস্তানি হায়েনা ও এদেশীয় রাজাকার আলবদররা ধর্মের দোহাই দিয়ে ৩০ লক্ষ প্রাণ, লক্ষ লক্ষ মা-বোনের ইজ্জত হরণ করেও বাংলার দামাল যোদ্ধাদের বীরত্বে স্বাধীনতা ছিনিয়ে নিতে পারেনি। স্বাধীন বাংলাদেশে জাতির পিতা সংবিধান দিলেন। পরিস্কার ঘোষণা ” আমার বাংলাদেশে, আমার মানুষরা তার তার ধর্ম স্বাধীনভাবে আনন্দের সাথে পালন করবে “ কঠিন কোন উক্তি নয় যে প্রত্যেক জ্ঞানী বাঙালীদের ব্যখ্যা না বোঝার। জাতির পিতার পূর্বপুরুষ ধর্ম প্রচার-প্রসারেই এদেশে এসেছিলেন। উনি নিজেও ধার্মিক ছিলেন, কিন্তু তথাকথিত ধর্মপ্রাণ ছিলেন না। সদ্য স্বাধীন দেশে জাতি-ধর্মের সমন্বয়ে নিরাপদ আবাস্থল গড়তে চেয়েছিলেন তিনি। এখন অনেকে বঙ্গবন্ধুর চেয়েও মারাত্মক রকমের বুঝদার ভাবুক হয়ে গেছে! ১৯৭৫ সালের পর যারাই ক্ষমতায় এসেছে ধর্মটাকে নিয়ে শুধুই ছিনিমিনি খেলেছে। এরশাদ/জিয়া তো সীমা অতিক্রম করে গিয়ে দেশে ধর্ম ব্যবসার সওদাগরি চালু করে বসলেন। ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহা, প্রবারণা পূর্ণিমা, বড়দিনের উৎসব যদি তিনস্তর/চারস্তরের নিরাপত্তায় পালন করতে হয় ধর্মপালনের অধিকার থাকলো কই? মুসলমান সম্প্রদায়ের সবচাইতে বড় ঈদ ” পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর জশনে জুলুসেও হামলার ঘটনা ঘটে প্রতিবছর। ধর্মান্ধতা লালন করে বলেই বাঙালি ধার্মিকদের এই করুণ পরিণতি। যেখান থেকে আজো বেড়িয়ে আসতে পারেনি বাংলাদেশ। সাম্প্রদায়িক যতো হামলা হয়েছে একটা ঘটনারও সুষ্ঠ বিচার অনেক দূরে, তদন্ত হয়নি নিরপেক্ষভাবে। জনসম্মুখে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হলে আর এমন ঘটনা কেউ ঘটাতে সাহস করতো না। ” রাষ্ট্র সবার হোক। নিরাপদে সম্মানের সাথে সবাই ধর্ম পালন করুক। আমরা লাল-সবুজের স্বাধীন দেশে ধর্মীয় মৌলবাদীদের আস্ফালন আর দেখতে চাইনা “
লেখকঃ
সাফাত বিন ছানাউল্লাহ্
কবি, প্রাবন্ধিক, তরুণ গবেষক
তথ্য ও গবেষণা সম্পাদকঃ চট্টগ্রাম সাহিত্য পাঠচক্র
মোবাইলঃ ০১৮৪৫২৩৪৪৯২

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com