মঙ্গলবার, ২৬ অক্টোবর ২০২১, ০২:০৪ অপরাহ্ন

রোহিঙ্গা নির্মূল, গণহত্যার নথি সংগ্রহ করবে জাতিসংঘ প্যানেল

FILE PHOTO: Smoke is seen on the Myanmar border as Rohingya refugees walk on the shore after crossing the Bangladesh-Myanmar border by boat through the Bay of Bengal, in Shah Porir Dwip, Bangladesh September 11, 2017. REUTERS/Danish Siddiqui

খবরের আলো :

 

রাখাইনে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে গণহত্যার দায়ে অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনে একটি প্যানেল তৈরির সিদ্ধান্তের পক্ষ ভোট দিয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদ। ২০১১ সাল থেকে মিয়ানমারে মারাত্মক আন্তর্জাতিক অপরাধ ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ সংগ্রহ, একত্রীকরণ, সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণের কার্যক্রম স্বাধীনভাবে চালিয়ে যেতে এ প্যানেল প্রতিষ্ঠা করতে যাচ্ছে জাতিসংঘের শীর্ষ মানবাধিকার সংস্থা।

বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে এ তথ্য জানা গেছে। রোহিঙ্গা গণহত্যায় জড়িতদের ভবিষ্যতে বিচারের মুখোমুখি করতে মামলার নথি তৈরির কাজও এ প্যানেল এগিয়ে নেবে।

জাতিসংঘ গঠিত স্বাধীন আন্তর্জাতিক ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন তাদের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনে মিয়ানমারে গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য দায়ীদের বিচারের মুখোমুখি করার সুপারিশ করার পর মানবাধিকার পরিষদ এ সিদ্ধান্তে এলো।

বৃহস্পতিবার জেনিভায় মানবাধিকার পরিষদের অধিবেশনে ভোটাভুটির মাধ্যমে এ প্যানেল তৈরির প্রস্তাব পাস হয় বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার সহযোগিতায় তৈরি একটি বিবরণে বলা হয়েছে- জাতীয়, আঞ্চলিক কিংবা আন্তর্জাতিক আদালত বা ট্রাইব্যুনালে সুষ্ঠু ও স্বাধীন ফৌজদারি কার্যবিবরণী তৈরি এগিয়ে নেয়া এবং সহজ করে তুলতে নথি প্রস্তুত করতে এ প্যানেল কাজ করবে।

৪৭ সদস্যের এ কমিশনে প্রস্তাবের পক্ষে ৩৫ এবং বিপক্ষে তিন ভোট পড়ে। সাত সদস্য দেশ ভোটদানে বিরত থাকে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ওআইসির আনা ওই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে ভোট দেয় কেবল মিয়ানমারের মিত্র চীন, ফিলিপিন্স ও বুরুন্ডি।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা জাতিসংঘের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে মানবাধিকার কমিশনের এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্তভাবে অনুমোদন পেতে তা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে পাঠানো হবে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের জেনেভা শাখার পরিচালক জন ফিশার বলেন, মিয়ানমারে সহিংসতার অসংখ্য ঘটনা ঘটেছে। সেসব ঘটনার জন্য দায়ীদের চিহ্নিত করতে মানবাধিকার কাউন্সিলের এ পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সেনাবাহিনীর অপরাধের দায়মুক্তির যে সংস্কৃতি মিয়ানমারে গড়ে উঠেছে, তা ভাঙতে এই প্যানেল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেন ফিশার।

জাতিসংঘ মহাসচিবকে এ প্যানেলের জন্য কর্মী নিয়োগ ও তহবিল জোগানোর ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে মানবাধিকার কাউন্সিলের প্রস্তাবে।

জন ফিশার বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের উচিত মানবাধিকার কাউন্সিলের এই নতুন প্যানেলকে স্বাগত জানানোর মাধ্যমে মিয়ানমারে হত্যা, ধর্ষণ, জ্বালাও-পোড়াওয়ের বিচারের উদ্যোগকে সমর্থন জানানো।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ক্রাইসিস রেসপন্স বিভাগের পরিচালক তিরানা হাসান এক বিবৃতিতে বলেন, মিয়ানমারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে মানবাধিকার কাউন্সিলের এই সিদ্ধান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এর মধ্য দিয়ে রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি মিয়ানমারের নিপীড়িত সংখ্যালঘু গোষ্ঠীগুলোর বিচার পাওয়ার পথ সুগম হবে।

মানবাধিকার কাউন্সিলে এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করায় চীনের কঠোর সমালোচনা করেন তিনি।

গত বছরের ২৫ আগস্ট রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর জাতিগত নিধন অভিযানের মুখে সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। আগে থেকে আরও চার লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে বসবাস করছেন।

জাতিসংঘের তদন্ত দল বলছে, রাখাইনে যে ধরনের অপরাধ হয়েছে, আর যেভাবে তা ঘটানো হয়েছে; মাত্রা, ধরন এবং বিস্তৃতির দিক দিয়ে তা গণহত্যার অভিপ্রায়কে অন্য কিছু হিসেবে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টার সমতুল্য।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদে উপস্থাপন করা ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনে গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য মিয়ানমারের সেনাপ্রধান এবং জ্যেষ্ঠ পাঁচ জেনারেলকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) বা বিশেষ ট্রাইব্যুনাল করে বিচারের মুখোমুখি করার কথা বলা হয়।

এই মিশনের প্রধান মারজুকি দারুসমান বলেছেন, তাতমাদো যতদিন আইনের ঊর্ধ্বে থাকবে, ততদিন শান্তি ফেরানো সম্ভব হবে না। মিয়ানমারের উন্নয়ন এবং একটি আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হয়ে ওঠার পথে দেশটির সেনাবাহিনীই সবচেয়ে বড় বাধা।

এদিকে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের বিষয়ে প্রাথমিক তদন্তও শুরু করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত।

এর জবাবে মিয়ানমারের সেনাপ্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইং বলেছেন, তার দেশের সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ করার অধিকার কোনো দেশ, সংস্থা বা গোষ্ঠীর নেই।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com