সোমবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২১, ০৭:৫৬ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
তামুলপুরে মুখ‍্যমন্ত্রী ডঃ হিমন্ত ১১শ ৫ জন প্রাক্তন ক‍্যাডারদের মাঝে ৪লক্ষ টাকার ফিক্সড ডিপোজিট সার্টিফিকেট বিতরণ করলেন। রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির শ্রেষ্ঠ স্বেচ্ছাসেবকদের সম্মাননা ও পুরস্কার প্রদান শেরপুরে শীত বাড়াতে লেপ-তোষক তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা          আম গাছে ঝুলছিল স্কুল ছাত্রীর লাশ অর্থ আত্মসাৎ অভিযোগে নায়িকা জ্যাকুলিন আটক চন্দনাইশের সাতবাড়ীয়া নির্বাচনে সাফাত বিন ছানাউল্লাহ্’র মনোনয়নপত্র সংগ্রহ মানবিক মেম্বার আলম হাওলাদারের সাথে ড্রিম লাইট’র সৌজন্য সাক্ষাৎ শেরপুরে সেবার মান নিশ্চিতকরণে নাগরিক কমিটির মতবিনিময় রাষ্ট্রদ্রোহী মামলায় অভিযুক্ত হলেন সাংবাদিক মৌলভীবাজারে “মেছো বাঘ” হত্যার দায়ে সাজা

শেরপুরে বিলুপ্তির পথে মাটির ঘর

অনিন্দ সুন্দর এ মাটির ঘরের ছবিটি শেরপুর পাহাড়ী এলাকার ।

শাহরিয়ার মিল্টন, শেরপুর থেকে :

এক সময় শেরপুরের পাহাড়ী এলাকার প্রায় প্রতিটি বাড়িতে ছিল মাটির ঘর। শীত ও গরমে ঘরগুলো ছিল আরামদায়ক বাসস্থান। দৃষ্টিনন্দন ঘরগুলো ঐতিহ্যও বহন করে। শেরপুরের নকলা, নালিতাবাড়ী, শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতী উপজেলায় পাহাড়ী অঞ্চলে মাটির ঘর তৈরি হতো। তবে কালের স্রোতে আজ তা বিলুপ্তির পথে। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা ও আর্থিক স্বচ্ছলতার কারণে মাটির ঘর নির্মাণে আগ্রহ নেই মানুষের।

জানা যায়, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন বন-জঙ্গলে ঘেরা পাহাড়ী এলাকায় চোর ডাকাতের খুব উপদ্রব ছিল। বাঘ-ভাল্লুকসহ নানা হিংস্র প্রাণীর ভয়ও ছিল বেশি। ছিল না বিদ্যুৎ সংযোগ। ইট বালু সিমেন্টের ব্যবহার না থাকায় সেসময় নিরাপত্তার জন্য পাহাড়ী অঞ্চলের মানুষ মাটির ঘর তৈরি করতেন। এই ঘরের আরেকটি বিশেষত্ব ছিল গরমের সময় ঠান্ডা এবং শীতের সময় গরম অনুভূত হওয়া। এছাড়া খুব সহজেই তৈরি করা যেতো এই ঘর। প্রয়োজন হতো এঁটেল দো-আঁশ মাটি। তেমন কোন খরচ হতো না।

কৃষাণ-কৃষাণী ও তাদের ছেলে-মেয়েরা মিলেই অল্প কয়েক দিনেই তৈরি করতেন। মাটিতে কোদাল দিয়ে ভালো করে গুড়িয়ে নেওয়া হতো। তারপর পরিমাণ মতো পানি মিশিয়ে থকথকে কাঁদা বানাতেন। সেই মাটি দিয়েই হয় ঘর। অল্প-অল্প করে কাঁদা মাটি বসিয়ে ৬ ফুট থেকে ৭ ফুট উচ্চতার পূর্ণাঙ্গ ঘর তৈরি করতে সময় লাগতো মাত্র মাস খানেক। সম্পূর্ণ হলে তার উপর ছাউনি হিসেবে ব্যবহার হয় ধানের খড়। এমনভাবে ছাউনি দেয়া হয় যেন ঝড়-বৃষ্টি কোন আঘাতেই তেমন একটা ক্ষতি করতে না পারে।

আবার ধনীদের বাড়ীতে থাকতো বিভিন্ন নকশা করা দুই তালা ঘর। ঝিনাইগাতী উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নের সন্ধ্যাকুড়া গ্রামের হুক্কে মজিদ ও নলকুড়া গ্রামের সালাম জানান তাদের বাড়িতে দুতলাসহ একাধিক মাটির ঘর ছিল। আর্থিক স্বচ্ছলতা এবং এলাকায় ইট ভাটার কারনে বাপ-দাদার আমলের দোতলা মাটির ঘরটিও ভেঙে পাকাঘর তৈরি করেছেন। তবে তাদের এলাকায় এখনও অনেক বাড়িতে মাটির ঘর রয়েছে। পাহাড়ী এলাকায় যাদের সামর্থ্য একেবারেই নেই তারাই এখনও মাটির ঘরে বাস করেন। ইদানিং নতুন করে কেউ আর মাটির ঘর তৈরি করেন না। ফলে কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে চিরায়ত বাংলার মাটির তৈরি ঘর ।

ঝিনাইগাতী উপজেলার ফাকরা বাদ গ্রামের সাবেক মেম্বার আশ্রাব আলী জানান, এক সময় প্রায় বাড়িতেই মাটির ঘর ছিল। সেসময়ে ধনী গরিবের এতো ভেদাভেদ ছিল না। মাটির ঘরে আলাদা স্বস্থি ছিল। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি, আধুনিক জীবন যাপন ও আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়া মাটির ঘর ভেঙে সবাই ইটের বাড়ি বানাচ্ছেন। অদূর ভবিষ্যতে হয়তো মাটির ঘর দেখতে জাদুঘরের স্মরণাপন্ন হতে ভবে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com