সোমবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২১, ০৮:০০ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
তামুলপুরে মুখ‍্যমন্ত্রী ডঃ হিমন্ত ১১শ ৫ জন প্রাক্তন ক‍্যাডারদের মাঝে ৪লক্ষ টাকার ফিক্সড ডিপোজিট সার্টিফিকেট বিতরণ করলেন। রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির শ্রেষ্ঠ স্বেচ্ছাসেবকদের সম্মাননা ও পুরস্কার প্রদান শেরপুরে শীত বাড়াতে লেপ-তোষক তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা          আম গাছে ঝুলছিল স্কুল ছাত্রীর লাশ অর্থ আত্মসাৎ অভিযোগে নায়িকা জ্যাকুলিন আটক চন্দনাইশের সাতবাড়ীয়া নির্বাচনে সাফাত বিন ছানাউল্লাহ্’র মনোনয়নপত্র সংগ্রহ মানবিক মেম্বার আলম হাওলাদারের সাথে ড্রিম লাইট’র সৌজন্য সাক্ষাৎ শেরপুরে সেবার মান নিশ্চিতকরণে নাগরিক কমিটির মতবিনিময় রাষ্ট্রদ্রোহী মামলায় অভিযুক্ত হলেন সাংবাদিক মৌলভীবাজারে “মেছো বাঘ” হত্যার দায়ে সাজা

অচ্ছুতই থেকে গেলেন মফস্বল সাংবাদিকরা

সাংবাদিকরা রাষ্ট্রের চতুর্থস্তম্ভ’র অন্তর্ভূক্ত বলে বিশ্বে সকলে মানলেও মফস্বলের সাংবাদিকরা থেকে গেলেন অচ্ছূৎ হরিজন সম্প্রদায়ভূক্তই ? এ যেনো কাজীর গরু কিতাবে থাকবে গোয়ালে থাকার দরকারটা কি? বিষয়টি সেই পর্যায়েই পৌঁছে যাচ্ছে ক্রমশঃ। মফস্বলে সাংবাদিক সমাজ যে বিভিন্ন গোষ্ঠির চাপে কোনঠাসা, তা প্রায়ই সে চিত্র প্রকট হয়ে উঠছে। যদিও আজকের বিষয়টি শাররীক নির্যাতনের না হলেও, মানসিক নিগৃহীতের তো বটেই।
অথচ কোন একটি সংবাদ সঠিক সময়ে ছাপা বা প্রকাশ না হলে ঢিঢি পড়ে যায়, সাংবাদিকরা দায়িত্বজ্ঞানহীন ফালতু বেয়াদপ নানামূখি কথা বাতাসে ছড়াতে থাকে। ভাবখানা এমন যেনো “তিনি বা তিনারা সাংবাদিকদের বেতন দিয়ে পুষে রেখেছেন”? সাংবাদিকদের মনে হয় হয়–স্বাধীনতা থাকতে নেই ?
আর কথায় কথায় মামলা হামলা নির্যাতন হয়রানি এগুলো তো বহু আগে থেকেই সাংবাদিকদের শরীরে অলংকারের মতো শোভাবর্ধন করছে স্বমহিমায়।সাংবাদিকতা করবেন- আর মামলা হামলার শিকার হবেন না, রাস্তাঘাটে অপমানিত হবেননা , এটা আবার হয় নাকি?
এমনিতেই সাংবাদিকতা পেশায় সঠিক ভাবে সঠিক সময়ে সাংবাদিকরা মামলা হামলা নির্যাতন ও প্রাণহানীর বিচার সহজে পাননা বলে মোটামুটি রেয়াজ চালু হয়ে গেছে দেশজুড়ে।
এক সময়ের রক্তাক্ত জনপদ নামে খ্যাত দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলের সন্ত্রাসী জনপদে ইট ভাটার জ্বলন্ত আগুনের কুন্ডিতে নির্মমভাবে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছিলো ৯০ দশকে চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরের জনপ্রিয় ম্যাগাজিন “ দিন বদলের কাগজ “ এর সাংবাদিক বজলুর রহমানকে। ভর সন্ধ্যায় ঝিনাইদহ শহরের পাগলাকানাইয়ের প্রধান সড়কের উপর অবস্থিত বিশিষ্ট কাঠ ব্যবসায়ী আলফাজ উদ্দিনের গদিঘরে পূর্ববাংলার ক্যাডারদের দ্বারা নিষ্ঠুর ব্রাশ ফায়ারের শিকার হয়ে নিহত হন দৈনিক “বীর দর্পণ “পত্রিকার সম্পাদক প্রকাশক মীর ইলিয়াস হোসেন দিলীপ ও তাঁর বন্ধু আফাজ উদ্দিন। যশোর শহরের ঘোপে জনকন্ঠের যশোর অফিসে সংবাদ লেখাকালীন সময় সশস্ত্র ক্যাডাররা কপালে নাইন থার্টি ফাইভ ক্যালিবারের বিদেশি পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করে হত্যা করে তারকা সাংবাদিক ও হাজারো সাংবাদিকের আইডল শামসুর রহমান ক্যাবলকে।
খুলনায় শুধুমাত্র স্বাধীনতার পক্ষে এবং বঙ্গবন্ধুর আন্দোলন সংগ্রামের সংবাদ প্রকাশের মহতী উদ্দেশ্য নিয়ে খুলনার কৃতি সন্তান হুমায়ূন কবীর বালু প্রকাশ করেন দৈনিক “ জন্মভূমি “ পত্রিকা। সেই হুমায়ূন কবীর বালু ভাইকেও চরমপন্থীরা তাঁর পত্রিকা অফিসের সামনে বোমা হামলা করে নির্বিঘ্নে খুন করে চলে যায়।
এরকম অসংখ্য স্মৃতি গেঁথে আছে মাথার ভিতরে, কয়টার কথা বলবো ? এরপর তো শহীদ সাংবাদিক নহর আলী , বসুর হাটের বোরহান উদ্দিন মোজাক্কির এঁদের কথা তো লিখলামই না। সাগর রুনিও বাদ গেলো। যেহেতু মামলাটি প্রক্রিয়ধীন তাই বলতে চাইছিনা , যদিও ইতোমধ্যে সাগর-রুনি সাংবাদিক দম্পত্তি হত্যা মামলার শুনানী পিছিয়ে গেছে ৮২ বার!
চুয়াডাঙ্গার কথা আর কি বলবো, চুয়াডাঙ্গায় সাংবাদিকতা করতে যেয়ে সরদার আল আমিন, ইংরাজি পত্রিকার সাংবাদিক আলাউদ্দিন, প্রয়াত সাংবাদিক ডালিম, প্রথম আলোর শাহ আলম সনি, আমাদের সংবাদের সম্পাদক রুহুল আমিন রতন, নতুন খবরের সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, আলমডাঙ্গার মাথাভাঙ্গার মাস্টার মুকুল, দামুড়হুদার শামসুজ্জোহা পলাশ, নূরুন নবী, হাবিবুর রহমান হাবিব, দর্শনার হারুন রাজু, ইনকিলাবের বাকু, ইয়াসির আরাফাত মিলন, আহসান হাবিব মামুন, সাবেক সাংবাদিক মোস্তফা কামাল শ্রাবণ এরকম অসংখ্য সাংবাদিক হয়েছেন নির্যাতিত, রক্তাক্ত ক্ষতবিক্ষত।
আজ এ দু কলম লিখলাম এ জন্যই যে, দুপুর ১২ টার পর থেকেই চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা বেশ ক’জন নামি সাংবাদিক ফোন করে নালিশ করলেন যে অমুক স্যার তমুক স্যার , অমুক নেতা, অমুক ভাই থাকা সত্বেও সর্ব শ্রেনীপেশার নেতৃবৃন্দকে বক্তৃতা দেয়ার জন্য ডাকা হলেও- সাংবাদিকরা থাকলেন বৈমাত্রেয় বা সৎভাই হিসেবে ? প্রথমে বিশ্বাস হয়নি, ভাবলাম শিষ্যরা দুষ্টুমি করছে ! পরে দেখলাম সোশ্যাল মিডিয়াতেও খণ্ডখণ্ড ক্ষোভ ভেসে বেড়াচ্ছে ছবিসহ।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, আজ বেলা ১১ টার পরপরই দামুড়হুদার ওদুদ শাহ ডিগ্রী কলেজে আসন্ন ৪ টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ ভাবে পরিচালনার জন্য এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানটির আয়োজনে ছিলেন যৌথভাবে দামুড়হুদা উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা সমবায় অফিস ও উপজেলা নির্বাচন অফিস ।
এ সময় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের শীর্ষ পুলিশ ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান আধিকারিক, রাজনীতিবিদ, সমাজসেবক, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক প্রতিনিধি, এনজিও প্রতিনিধি, নারীনেত্রী, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দসহ সর্ব শ্রেনীপেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
এ সভায় সকল শ্রেনীর প্রতিনিধিবৃন্দ মতামত ব্যক্ত করার সুজোগ পেলেও বাদ গেছেন শুধু গণমাধ্যম কর্মীরাই। যদিও এ অনুষ্ঠানে অন্যান্য সাংবাদিকের ন্যায় দামুড়হুদা প্রেসক্লাবের শীর্ষ সাংবাদিক নেতা নূরুন নবী, শামসুজ্জোহা পলাশ, বখতিয়ার হোসেন বকুল সহ প্রায় দু ডজন সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন।
এ প্রসঙ্গে দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাসলিমা আক্তারের সাথে কথা বললে, তিনি বলেন “ না আসলে ঐ ভাবে ভাবিনি, অনুষ্ঠান খুব ছোট আকারে করা হয়েছে, আর উপস্থিত সাংবাদিক নেতারাও কেউ বক্তব্য দেওয়ার আগ্রহ দেখায়নি, তাছাড়া অনুষ্ঠানের শেষেও আমার সাথে অনেক সাংবাদিকের কথা হয়েছে– তাঁরা (সাংবাদিকরা) কেউ রাগ করেনি।
কলমেঃ সাংবাদিক সজীব আকবর।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com