সোমবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২১, ০৩:৫৪ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
তামুলপুরে মুখ‍্যমন্ত্রী ডঃ হিমন্ত ১১শ ৫ জন প্রাক্তন ক‍্যাডারদের মাঝে ৪লক্ষ টাকার ফিক্সড ডিপোজিট সার্টিফিকেট বিতরণ করলেন। রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির শ্রেষ্ঠ স্বেচ্ছাসেবকদের সম্মাননা ও পুরস্কার প্রদান শেরপুরে শীত বাড়াতে লেপ-তোষক তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা          আম গাছে ঝুলছিল স্কুল ছাত্রীর লাশ অর্থ আত্মসাৎ অভিযোগে নায়িকা জ্যাকুলিন আটক চন্দনাইশের সাতবাড়ীয়া নির্বাচনে সাফাত বিন ছানাউল্লাহ্’র মনোনয়নপত্র সংগ্রহ মানবিক মেম্বার আলম হাওলাদারের সাথে ড্রিম লাইট’র সৌজন্য সাক্ষাৎ শেরপুরে সেবার মান নিশ্চিতকরণে নাগরিক কমিটির মতবিনিময় রাষ্ট্রদ্রোহী মামলায় অভিযুক্ত হলেন সাংবাদিক মৌলভীবাজারে “মেছো বাঘ” হত্যার দায়ে সাজা

গাজীপুরে বিলুপ্তের পথে ঐতিহ্যবাহী মাটির ঘর

মহিউদ্দিন আহমেদ, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ 

সভ্যতার বেড়া জালে হারিয়ে যেতে বসেছে গাজীপুরের শ্রীপুরের প্রত্যন্ত অঞ্চলের কোডা ঘর (স্থানীয় ভাষায় মাটির ঘরকে কোডা ঘর বলা হয়)। । স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, অনেকদিন আগে থেকেই মাটির ঘরের প্রচলন ছিল। কারিগরদের বেছে নেয়া জমির এঁটেল বা আঠালো মাটিকে কেটে তাতে পানি এবং পা দিয়ে মারিয়ে ছানা( দেয়াল তৈরির কাদা ) তৈরি করতে দশ থেকে পনেরো দিন রেখে দিতো। ছানা (দেয়াল তৈরির কাদা)  পরিণত করে দুই-তিন ফুট চওড়া করে দেয়াল তৈরি করা হতো।একবারে পুরো দেয়াল  তৈরি করা হতো না । ২ফুট বা ৩ ফুট দেয়াল তৈরির পর তাদের বিশেষ ধরনের কাস্তে দিয়ে সমান করা হতো এবং মাঝ খান দিয়ে কেটে ফালি করা হতো। প্রতিটা স্তরেই এটা করা হতো।ফালি করার কারন হিসেবে তারা বলতো কোডা যেনো বেকে না যায়।এভাবে প্রায় ১০-১৫ ফুট উঁচু দেয়ালে তোলা হতো। যারা ছনের ছাউনি দিতো তারা বাঁশের সিলিং তৈরি করে তার ওপর খড় দিতো আর যারা  টিনের ছাউনি দিতো তারা তাল কাঠের পাইর, কুরো দিয়ে টিনের ছাউনি দেয়া হতো।
মাটির ঘর অনেকে  দোতালা পর্যন্ত করতো। যে ঘরটাকে স্থানিয়রা দোতলা ঘর বলে। একটি ঘর তৈরি করতে কারিগরদের চার, পাঁচ মাসের অধিক সময় লাগতো। আর যারা একটু ধনী ছিলেন তারা কারিগর দিয়ে মাটির দেয়ালে উপরের অংশে বিভিন্ন রকমের নকশা করতেন।৯০ এর দশকে অনেক মাটির ঘর দেখা যেতো । বিংশ শতাব্দিতে তা আজ বিলুপ্ত প্রায়। সভ্যতার বেড়াজালে  মাটির ঘর ভালোবাসার কোডা ঘর দখল করে নিয়েছে ইট পাথরের দালান বা আধা পাকা টিন সেড বিল্ডিং। আজ বর্তমানে যেসব  মাটির ঘর চোখে পড়ে তাও হয়তো ১০ বা ১৫ বছর আগে তৈরি । বর্তমানে মাটির ঘর তৈরির করার কারিগর পাওয়া প্রায় দুষ্কর। নতুন করে কেউ মাটির ঘর তৈরি না করায় যারা মাটির ঘর তৈরির  করতো তারা অন্য কাজে যুক্ত হয়ে গেছেন। তাই নতুন করে হচ্ছে না মাটির ঘর  তৈরি করার কারিগর। যে কারনে হারিয়ে যেতে বসেছে ঐতিহ্যবাহী   এই মাটির ঘর গুলো।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com