সোমবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২১, ০৭:২৭ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
তামুলপুরে মুখ‍্যমন্ত্রী ডঃ হিমন্ত ১১শ ৫ জন প্রাক্তন ক‍্যাডারদের মাঝে ৪লক্ষ টাকার ফিক্সড ডিপোজিট সার্টিফিকেট বিতরণ করলেন। রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির শ্রেষ্ঠ স্বেচ্ছাসেবকদের সম্মাননা ও পুরস্কার প্রদান শেরপুরে শীত বাড়াতে লেপ-তোষক তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা          আম গাছে ঝুলছিল স্কুল ছাত্রীর লাশ অর্থ আত্মসাৎ অভিযোগে নায়িকা জ্যাকুলিন আটক চন্দনাইশের সাতবাড়ীয়া নির্বাচনে সাফাত বিন ছানাউল্লাহ্’র মনোনয়নপত্র সংগ্রহ মানবিক মেম্বার আলম হাওলাদারের সাথে ড্রিম লাইট’র সৌজন্য সাক্ষাৎ শেরপুরে সেবার মান নিশ্চিতকরণে নাগরিক কমিটির মতবিনিময় রাষ্ট্রদ্রোহী মামলায় অভিযুক্ত হলেন সাংবাদিক মৌলভীবাজারে “মেছো বাঘ” হত্যার দায়ে সাজা

সংসার চলে পিঁপড়ার ডিম বেচে

 

 

 

 

শাহরিয়ার মিল্টন, শেরপুর :   

 

 

 

 

শেরপুরের গারো পাহাড়ের ছোট গজনী এলাকায় সম্প্রতি দেখা গেছে একটা লম্বা বাঁশের মাথায় ডালি বেঁধে এক যুবক গাছে গাছে কী যেন খুঁজছে। তার কাছে গিয়ে জানা গেলো, তিনি ডোল পিঁপড়ার বাসা খুঁজে খুঁজে সেই
বাসা থেকে পিঁপড়ার ডিম সংগ্রহ করেন।

এ পৃথিবীতে বেঁচে থাকার জন্য মানুষ নানা ধরণের জীবিকার পথ বেছে নেয়। শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার টেমাল
সাংমা, বিজয় সাংমাসহ আরও অনেকে লালশো বা লাল পিঁপড়ার ডিম সংগ্রহ করে তা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন।

লাল পিঁপড়ার ডিম সংগ্রহকারী ওইসব যুবকের বাড়ি উপজেলার সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকাতেই। এ রকম আরও অন্তত ২০-২৫ জন আছেন যারা ডোল পিঁপড়ার ডিম প্রতি কেজি ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি করে তাদের সংসার চালিয়ে থাকেন।

ডিম সংগ্রহকারীদের কাছ থেকে জানা যায়,

বাংলা সনের চৈত্র-বৈশাখ মাসের গরমে পিঁপড়ার ডিম বেশি ফোটে। ওইসময়ই খাল-বিলে বেশি মাছ ধরে মানুষ। তাই ওই সময়টাতে ডিমের চাহিদা থাকে বেশি। বড়শি-ছিপ দিয়ে মাছ ধরার টোপ বা আধার হিসেবে পিঁপড়ার ডিম বড়শিতে গেঁথে ব্যবহার করা হয়। তাই মাছ শিকারিদের কাছে পিঁপড়ার ডিমের অনেক চাহিদা থাকে।

চলতি সময়ে বর্তমানে ১ কেজি পিঁপড়ার ডিম ৮০০ থেকে এক হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সীমান্তবর্তী গারো পাহারের বড় গাছ থেকে ডোল পিঁপড়ার বাসা ও ডিম সংগ্রহ করা অনেক আগে থেকেই চলে আসলেও এখন তা আয়ের উৎস হয়েছে অনেকেরই।

 

 

কথা হয় ডিম সংগ্রহকারী টেমাল সাংমার সাথে,

তিনি জানান, সাধারণত রইনা, মেহগনি, আম, লিচুসহ দেশিয় গাছ গুলোতেই লাল পিঁপড়ার বাসা পাওয়া যায়। লালা ব্যবহার করে গাছের ডালের আগার দিকের চার-পাঁচটা পাতা জোড়া দিয়ে শক্ত বাসা তৈরি করে পিঁপড়ার দল। পরে সেখানে তারা ডিম পাড়ে। বড় বাসা থেকে ১’শ থেকে দেড় শ গ্রাম ডিম পাওয়া যায়। আশ্বিন-কার্তিক মাসের দিকে এই ডিমের চাহিদা থাকে
বেশি। তবে সব থেকে বেশি ডিম পাওয়া যায় শীতের শেষের দিকে ফাল্গুন মাসে।

কিন্তু সেই সময় ডিমের চাহিদা তেমন একটা থাকে না। এই ডিম সংগ্রহ ও সংরক্ষণের কাজটি খুব সতর্কতার সঙ্গে করতে হয়। এটি সাধারণত মাছের খাবার হিসেবে বিক্রি হয়। ডিম আস্ত না রাখলে মাছ খায় না, কেউ কিনতেও চায়না।

 

আরেক ডিম সংগ্রহকারী নিরঞ্জন বলেন,

পাহাড়ে সাধারণত মেহগনি, আম, লিচুসহ দেশীয় গাছগুলোতেও ডোল পিঁপড়ার বাসা পাওয়া যায়। বড় বাসা থেকে এক শ থেকে দেড় শ গ্রাম ডিম পাওয়া যায়। আশ্বিন-কার্তিক মাসে দিকে এই ডিমের চাহিদা থাকে বেশি।

তারা আরও জানান, যখন মাছ শিকারের ধুম পড়ে যায় তখন প্রতি কেজি পিঁপড়ার ডিম হাজার টাকার বেশি দামেও বিক্রি হয়। তবে সব থেকে বেশি ডিম পাওয়া যায় শীতের শেষে দিকে ফাল্গুন মাসে। কিন্তু সেই সময় ডিমের চাহিদা
তেমন একটা থাকে না।

 

সৌখিন মাছ শিকারি ছাইফুল ইসলাম ছাকিম জানান,

পিঁপড়ার ডিম টোপ হিসেবে ব্যবহার করলে বেশি মাছ পাওয়া যায়। পিঁপড়ার ডিম মাছের খুব পছন্দের খাবার।

 

জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার বাকাকুড়া গ্রামের পিঁপড়ার ডিম ব্যবসায়ী আবু সিদ্দিক বলেন, বাকাকুড়া, রাংটিয়া, গজনী, নকশির কয়েকজনের কাছে পিঁপড়ার ডিম পাইকারী মূল্যে কিনে নেন তিনি। পরে মাছ শিকারি ও শেরপুরের বিভিন্ন দোকানে তা
পাইকারী বিক্রি করেন। দিনে ৫ থেকে ১০ কেজি ডিম বিক্রি করতে পারেন বলে তিনি জানান।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com