সোমবার, ৩০ নভেম্বর ২০২০, ০১:৪১ অপরাহ্ন

ভাঙ্গছে যমুনা কাদঁছে মানুষ: আরও ২৮টি ঘরবাড়ি বিলীন

খবরের আলো :

 

মিঠুন বসাক, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি : সিরাজগঞ্জের চৌহালীতে তীর সংরক্ষন বাধে হঠাৎ ধস নেমেছে। যমুনা নদীতে পানি কমতে শুরু করায় সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলা শহর রক্ষা বাঁধের দক্ষিণে ২৮টি বসত-বাড়ি ভেঙে নদীতে চলে গেছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার পশ্চিম জোতপাড়া এলাকায় এ ভাঙন শুরু হয়। এছাড়া প্রায় সাড়ে ৫শ মিটার এলাকায় দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙন। এ ধসের বিস্তৃতি ঠেকাতে তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ড কোন পদক্ষেপ গ্রহন না করায় তীরবর্তী সবার মাঝে আতংক ও ক্ষোপ বিরাজ করছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সুত্র এবং এলাকাবাসী জানায়, চৌহালী উপজেলা সদরের পৌনে ৪ কিলোমিটার এবং টাঙ্গাইলের সোয়া ৩ কিলোমিটার মিলে ৭ কিলোমিটার এলাকা যমুনা হাত থেকে রক্ষায় এশিয় উন্নয়ন ব্যাংকের অর্থায়নে ১২২ কোটি টাকার কাজ ২০১৫ সালের ২৪ নভেম্বর থেকে শুরু করে তা গতবছর শেষ হয়। এতে রক্ষা পায় নদীর পুর্ব পাড়ের টাঙ্গাইল সদর উপজেলার সরাতৈল থেকে দক্ষিনে নাগরপুর উপজেলার পুকুরিয়া, শাহজানীর খগেনের ঘাট, সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার ঘোরজানের চেকির মোড়, আজিমুদ্দি মোড়, খাসকাউলিয়া, জোতপাড়া পর্যন্ত। এখনও নদী ভাঙন কবলিত এলাকায় পাউবো কর্মকর্তাদের দেখা যায়নি।

তবে নদীর পানি কমতে থাকায় গতকাল (২৮ সেপ্টেম্বর) শুক্রবার রাতে হঠাৎ প্রচন্ড স্রোতে বাধের পশ্চিম জোতপাড়া অংশে ভাঙ্গন দেখা দেয়। যা শুক্রবার ভোর পর্যন্ত প্রায় ৫শ মিটার ধসে যাওয়ায় বাধ থেকে বিচ্ছিন্ন হয় পাথরের বোল্ড ও জিও টেক্স। বিলীন হয় এর পাড়ের ২৮টি ঘরবাড়ি। কোন রকমে তীরে উঠে জীবন রক্ষা করে অন্তত প্রায় ৫০ জন মানুষ। অসহায় এসব মানুষের আর্তনাদে তখন বাতাস ভারি হয়ে ওঠে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বাধটির নিন্মমানের কাজ ও তদারকি যথাযথ না হওয়ায় ধসে গেল এবং তারা আরও জানান ভাঙনরোধে পাউবোকে বারবার বলা হলেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় পশ্চিম জোতপাড়া এলাকাটি বিধ্বস্ত হলো। এ কারণে হুমকির মুখে পড়েছে শতকোটি টাকার শহর রক্ষা বাঁধ, কে.কে পশ্চিম জোতপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় ও জনতা উচ্চ বিদ্যালয়।

চৌহালী উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম ও কে. কে পশ্চিম জোতপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম আলম জানান,গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে হঠাৎ করে চৌহালী শহর রক্ষা বাঁধের দক্ষিণ থেকে জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের উত্তর পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৫শ মিটার এলাকায় শুরু হয় তীব্র নদী ভাঙন। মুহূর্তের মধ্যে পশ্চিম জোতপড়া গ্রামের আবুল কাশেম মন্ডল, আব্দুর রহমান মোল­া, মজিবর রহমান, ঠান্ডু মন্ডল, আব্দুল কাইয়ুম, লুৎফর রহমান, আকবার আলী ও আব্দুল মতিন মন্ডলসহ এ পযর্ন্ত ওই গ্রামের অন্তত ২৮টি বসতভিটা ও ঘর-বাড়ি নদীতে দেবে যায়। এসব বাড়ি ঘরের অধিকাংশ আসবাবপত্র ও গবাদি পশুসহ প্রয়োজনীয় মালামাল নদী গর্ভে চলে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছে।

এদিকে ভাঙ্গনের খবর পেয়ে সকালে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আনিসুর রহমান। তিনি অসহায় মানুষদের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পাশে থাকার কথা জানিয়ে বলেন, আমরা সকল পরিবারকে আপাতত খাদ্য সামগ্রী দিচ্ছি। পরে এদের পুনঃবার্সনের পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের।

তবে এখনও নদী ভাঙন কবলিত এলাকায় পাউবো কর্মকর্তাদের দেখা যায়নি।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com