শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২০, ০৯:২৭ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :

তালায় আদি-মধ্যযুগের স্থাপত্যের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে

খবরের আলো :

 

 

শেখ আমিনুর হোসেন, সাতক্ষীরা ব্যুরো চীফ: দেশের দক্ষিণাঞ্চলের সীমান্তবর্তী সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ কর্তৃক খনন কার্যক্রমে অস্তিত্ব পাওয়া গেছে আদি-মধ্যযুগের। উপজেলার আগোলঝাড়া ও ডাংগানলতা গ্রামের মধ্যবর্তী ঝুঁড়ি ঝাড়ার মাঠের উঁচু মাটির ঢিবিতে তারা গত ৭ নভেম্বর ক্যাম্প স্থাপন করেন এবং ১১ নভেম্বর থেকে শুরু করে খনন কাজ।
এর আগে ২০১২ সালে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ নিজেদের আওতায় নিয়ে স্থানটি সংরক্ষণ করেন। জেলার প্রথম শুরু হওয়া খননে ইতোমধ্যে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ ধারণা করছে,আদি ও মধ্য যুগের মাঝামাঝি সময়ের স্থাপনা এটি। প্রায় দু’সপ্তাহ খননে তারা ঐসময়ের মৃৎ শিল্পের কিছু নমুনা বা নিদর্শণ ও ব্রিটিশ শাসনামলের একটি কয়েন (মুদ্রার) সন্ধান পেয়েছে। তবে সেখানে প্রাপ্ত বাড়ির নক্সা ও ইটের গাথুঁনি দেখে ধারণা করা হচ্ছে, এর আগে ১শ’ বছর বা তার কিছু সময় আগে-পরে গুপ্ত ধন কিংবা অন্য যেকোন কারণে সেখানে খনন বা তছরুপ করা হয়েছিল।
প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ খুলনার পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) একেএম সাইফুর রহমান জানান, যশোরের কেশবপুর উপজেলার ভরত-ভায়নার পর এ পর্যন্ত এ জনপদে তারা বিশেষ কোন খনন কাজ কিংবা কোন পূরাকীর্তির সন্ধান পাননি। তবে তালার এ খননে তাদের কাছে আশা সঞ্চারিত হয়েছে। অভিজ্ঞতার আলোকে নমুনা দেখে তারা ধারণা করছেন, আদি ও মধ্যযুগের মাঝামাঝি সময়ের কোন স্থাপত্য এটি।
তিনি আরো জানান, ২০১২ সালে সেখানকার ৫০ শতাংশ জমি করায়ত্ব করে তারা সংরক্ষণ করে আসছেন। তবে জনবল থেকে শুরু করে নানা সংকটে প্রায় ৬ বছর পর তারা খনন কাজ শুরু করেন। এলাকাবাসী প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পূরাকীর্তির অনুসন্ধান বিষয়টিকে সাধুবাদ জানিয়েছেন, সহযোগিতা করছেন অধিদপ্তরকে। স্থানীয় থানা পুলিশও তাদেরকে নিরাপত্তা দিচ্ছেন বলে জানান এ কর্মকর্তা।
তিনি আরও বলেন, তাদের খনন কাজ দেখতে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ এসে ভীড় করছেন। তরুণদের অনেকে এসে তাদের কাছে জানতে চাইছেন,এপর্যন্ত তারা কোন পূরাকীর্তি নিদর্শণ উদ্ধার করতে পেরেছেন কিনা কিংবা কোন সময় বা আমলে তাদের জনপদে মানব সভ্যতা গড়ে উঠেছিল? ইত্যাদি সব কৌতুলী প্রশ্ন তাদেরকেও প্রতি মূহুর্তে মূল কাজে অনুপ্রাণিত করছে। তিনি বলেন, মোট ৯ জন সদস্য প্রতিদিন সকাল ৮ টা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত নিরলস পরিশ্রম করছেন খনন কাজে।
তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাজিয়া আফীরন বলেন, সরকারের অনুমতিক্রমেই প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ কাজ করছেন। খননকাজ পুরোটা শেষ হলেই বিস্তাারিত জানা যাবে।
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের খুলনা আঞ্চলিক কার্যালয়ের সহকারী কাস্টরিয়াম মোঃ শাহিন আলম জানান, বহু বছরের পুরনো এই মাটির ঢিবিটি এলাকায় ঝুঁড়ি-ঝাড়ার মাঠ নামে পরিচিত। এলাকাবাসী অবশ্য এলাকাটির নাম করণ নিয়ে নানা প্রচলিত উপাখ্যানের কথা বলেন,অনেকের দাবি তাদের (পূর্ব পূরুষদের ভাষ্যমতে) প্রাচীনকালে সংঘবদ্ধ জিন চক্র এক রাতে পাশের একটি পুকুর কেটে সেখানকার মাটির ঝুঁড়ি ঝাড়েন সেখানে। অনেকে আবার বাগেরহাটের খাঁজা খানজাহান আলীর শিষ্য বা অনুসারীদের ধর্ম প্রচারে জনপদে আসলে বিভিন্ন সময় তাদের অলৌকক ক্ষমতা বলের নিদর্শন স্বরুপ বাড়িটি নির্মিত হয়ে থাকতে পারে বলেও মনে করেন। তবে বাস্তবতা প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আশংকাকেই মূল্যায়ন করছে অন্যভাবে। ইতোমধ্যে খননকৃত ধ্বংশাবশেষের মধ্যে ব্রিটিশ আমলের একটি কয়েন পাওয়ায় এবং ভবনটির বিভিন্ন ওয়াল এলোপাথাড়ি ভাবে আগেই অস্তিত্বহীন থাকায় ধারণা করা হচ্ছে, ১শ’ বছর কিংবা তারও আগে-পরে সেখানে রত্ন ভান্ডার বা অন্যকোন উদ্দেশ্যে ধ্বংস যজ্ঞ চালানো হয়েছিল। তবে সেখানে যাই হোক না কেন,আদি কিংবা মধ্যযুগের মাঝামাঝি সময়ে সভ্য মানুষের বসবাস ছিল তারই বার্তা বহন করে। তবে সেটি কোন সময় বা কোন বংশের শাসনামলে ? এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে অপেক্ষা করতে হবে আরো বেশ কিছুদিন।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com