শনিবার, ২১ মে ২০২২, ০১:৪৫ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
তামাকজাত পণ‍্যের বিজ্ঞাপন, শাহরুখ, অমিতাভ ও অজয়ের বিরুদ্ধে মামলা আগামী নির্বাচনের পর শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিলেন ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী রাজনীতিবিদরা বলেন ক্ষমতায় গিয়ে দেশ চালাবেন, ক্ষমতা নয়, আসলে এটা দায়িত্ব–সিইসি কোলকাতায় নতুন ঠিকানা দাদার, বাড়ির দাম শুনলে চমকে যাবেন স্ত্রী ও শ্বাশুড়ি গ্রেফতার, আদমদীঘিতে ভটভটি চালককে কৌশলে হত্যার অভিযোগ  সান্তাহার রেলওয়ে থানায় মোবাইল ছিনতাই চেষ্টা ও চুরি ঘটনায় দুইজন গ্রেফতার বিশিষ্ট সাংবাদিক আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর মৃত্যুতে লাখাই প্রেসক্লাবের শোক শেরপুরে জেলা প্রশাসকের বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের ধর্মীয় শিক্ষক আবু সাদ’র বিরুদ্ধে এক শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগ, স্বস্ত্রীক আত্মগোপনে এক সুন্দরী বিমানবালাকে নিজের উত্থিত লিঙ্গ প্রদর্শণ করেন ধনকুবের এলন মাস্ক

জ্ঞান-বিজ্ঞান ও দ্বীনী ইসলাম প্রচারে “মুফতি পরিবার” এর অবদান

   
        
মোহাম্মদ ইমাদ উদ্দীনঃ
চন্দনাইশ বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা। এই উপজেলাটি  দক্ষিণ চট্টগ্রামের পাহাড়ী ও সমতল ভূমির সন্নিবেশে গঠিত একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদ। এই উপজেলায় বেশ কয়েকটি ঐতিহ্যবাহীর মধ্যে “মুফতি পরিবার” সুপ্রসিদ্ধ ও খ্যাতিসম্পন্ন পরিবার। তৎকালীন  আলিমদের অতীত খুবই সমৃদ্ধ। তারা অত্র এলাকায় দ্বীন প্রচার বিশেষ করে দ্বীন শিক্ষা প্রসারে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। তারা নিজ গৃহে ছাত্র সংগ্রহ করে এবং থাকা খাওয়া নিজেই বহন করে দ্বীনি শিক্ষা দিতেন। আলিমগণ  শিক্ষা বিস্তারের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ড ও জনকল্যাণ মূলক কাজে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন। তাছাড়া আলেমগণ অনেক আন্দোলন ও সংগ্রামের রূপকার এবং পুরোধা ছিলেন। চন্দনাইশের ঐতিহ্যবাহী  মুফতি পরিবারের প্রধান কেন্দ্র বিন্দু মুফতি শফিউর রহমান (রহ)ও ব্যতিক্রম ছিলেন না।তিনি বিট্রিশ বিরোধী আন্দোলন  এবং পাকিস্তান আন্দোলনে  সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। ছাত্র ও কর্মজীবনে তিনি ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। এমন কি কারাবরণও করেন। সফল আন্দোলনের মাধ্যমে বৃটিশ খেদাও কাজে ব্যক্তিত্ববান পুরুষের ভূমিকা পালন করে তাতে সফল হন। ছাত্র রাজনীতির এ সময়কালটা তাঁর সফল ব্যক্তিত্বের জ্বলন্ত প্রমাণ। তিনি “মুফতি সাহেব” নামে সুপরিচিত।  পাশাপাশি তিনি ওয়াজ  নসীহতও করতেন। তাঁর ওয়াজে মাসআলা বেশী প্রাধান্য পেতো। তিনি ফতোয়ায় অনেক দক্ষ ছিলেন। তিনি বেশ কিছুদিন মায়ানমারে অবস্থান করেন। যার ফলে বার্মার থান্ডি সাহেবের মাদরাসার উপাধ্যক্ষ ও মসজিদের খতীব ছিলেন। ১৯১২ সালে তিনি বার্মা হতে দেশে ফিরে আসেন। তিনি দেশে এসে নিজ এলাকায় তার শিক্ষক মাওলানা নজীবুল্লাহ (রহ) কতৃক প্রতিষ্ঠিত   চন্দনাইশে হাশিমপুর মকবুলিয়া সিনিয়ার মাদ্রাসাটি পুনঃ প্রতিষ্ঠা করে ১৯৩৯ সাল হতে ১৯৫৭ পর্যন্ত অধ্যক্ষ ছিলেন। এবং পরবর্তীতে নিজ বাড়ীর পাশে জোয়ারা ইসলমিয়া ফাজিল মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ পদে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত অবসর গ্রহণের পূর্ব পর্যন্ত সুনাম ও দক্ষতার সহিত নিবিড়ভাবে দায়িত্ব পালন করেন। অবসর গ্রহণ করলেও ইন্তেকালের পূর্ব পর্যন্ত মাদরাসার বিভিন্ন কাজে অবদান রাখেন। উক্ত মাদরাসার প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে তাঁকে অনেক প্রতিকূলতার মোকাবেলা করতে হয়। তবুও তিনি হার মানেননি। কখনো কারো সাথে পরাজয়ের সুরে কথা বলেন নি। কারো কাছে কোনো আত্মসমর্পন করেননি। মাদরাসা পরিচালনার জন্যে তিনি কখনো কোন বিত্তশালীর কাছে বিনীত সূরে সাহায্য প্রার্থনা করেননি, বরং স্থানীয় জনগণ ও দুর-দুরান্তের ভক্তগণ তাঁর প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে নিজস্ব উদ্যেগে সাহায্য দেয়ার জন্য তাঁর কাছে আবেদন করেছে বারবার। এমনি কি মুফতি সাহেব মাদরাসার উন্নয়নে নিজের অর্থ ব্যয় করতে পিছপা হতেন না। এই মাদরাসার বর্তমান  পরিচালনা কমিটির প্রায় সদস্য তাঁরই হাতে গড়া আদর্শ ব্যক্তিবর্গ এবং তাদের মধ্যে মুফতি সাহেবের ব্যক্তিত্বের প্রভাব সুস্পষ্ট। তারা এখনো বিশ্বাস করেন মুফতি সাহেবের শুভ দৃষ্টি তাদের একমাত্র ক্রিয়াশক্তি।
বার আউলিয়া স্মৃতি বিজড়িত চন্দনাইশ উপজেলার  বিখ্যাত আলেম পরিবার ও  জাতীয় ব্যক্তিত্বের জন্য “মুফতি পরিবার” সুপরিচিত।এই পরিবারের নামানুসারে পাড়ার নাম “মাওলানা মন্জিল” রাখা হয়। মুফতি সাহেবের ৯ ছেলে ৫ মেয়ে সবাই দ্বীনী শিক্ষায় শিক্ষিত।
(১) মাওলানা মাহমুদুর রহমান (রহ):
তিনি নিজ পিতার নিকট প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করার পর তাঁর পিতা মায়ানমারের আকিয়াবে অবস্থান করার সময় মাওলানা সুলতান আহমেদের নিকট শিক্ষা গ্রহণ করেন। তার পিতা দেশে ফিরে আসার পর তিনি হাশিমপুর মকবুলিয়া ফাজিল মাদরাসায় কিছুকাল অধ্যায়ন করেন। অতঃপর তিনি নাজিরহাট জামিয়া মিল্লিয়া আহমদিয়া মাদরাসায় অধ্যয়ন করেন। এরপর তিনি চট্টগ্রাম দারুল উলূম মাদরাসায় ভর্তি হন এবং সেখানে যথাক্রমে ১৯৫১ আলিম, ১৯৫৩ সালে ফাজিল এবং ১৯৫৫ সালে কামিল কৃতিত্বের সাথে পাস করেন।তিনি ছাত্রজীবন সমাপ্ত করার পর  তার পিতা কতৃক প্রতিষ্ঠিত জোয়ারা ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসায় ১৯৫৭ সালে উপাধ্যক্ষ পদে যোগদান করেন। তখন পিতা মুফতি শফিউর রহমান অধ্যক্ষ পদে নিয়োজিত ছিলেন।  ১৯৭২ তার পিতা অবসর গ্রহণ করার পর তিনি কৃতিত্বের সাথে অধ্যক্ষ দায়িত্ব পালন করেন। তাছাড়া তিনি ১৯৬৫ সালে মাদরাসা-ই-আলিয়া,ঢাকায় ইমাম প্রশিক্ষণ কোর্স অনুষ্ঠানকালে মুফতি সৈয়দ আমীমুল ইহসান (রহ) এর সান্নিধ্য লাভ করেন। এ সময় তিনি তাঁর নিকট বায়আত হন। এমন কি মাওলানা মাহমুদুর রহমান “জামিয়াতুল মুদাররেসীন” সংস্থার বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ২৫ শে মহররম, ১৪২৬ হিজরী/৮ই মার্চ, ২০০৫ সালে তার প্রভুর ডাকে সাড়া দেন।
(২) মাওলানা মাহফুজুর রহমান:
তিনি মুফতি শফিউর রহমান (রহ)’র দ্বিতীয় পুত্র। তিনি মকবুলিয় ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা হতে দাখিল এবং চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি প্রতিষ্ঠান সোবাহানিয়া আলিয়া মাদ্রাসা হতে আলিম,ফাজিল পরীক্ষায় কৃতিত্ব অর্জন করেন। তিনি জোয়ারা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় কিছুদিন শিক্ষকতার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন।পরবর্তীতে  দীর্ঘ ৪৫ বছর খাতুনগঞ্জ জামে মসজিদে ইমাম ও খতীব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি দারুল ইফতা শাখায় দায়িত্ব পালন করছেন।
(৩) শায়খুল হাদীস প্রফেসর মাওলানা ফখরুদ্দীন (রহ):
 তিনি ১৯৪৯ সালের ১ মার্চ মাসে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৫৬ সালে দাখিল পরীক্ষায় কৃতিত্বের সহিত উত্তীর্ণ হন। ১৯৬০ সালে আলিম পরীক্ষায় ১ম বিভাগ, ১৯৬২ সালে ফাজিল পরীক্ষায় ১ম বিভাগ ৫ম স্থান, ১৯৬৪ সালে কামিল হাদীস পরীক্ষায় ১ম শ্রেণি ২য় স্থান, ১৯৬৬ সালে কামিল ফিকহ পরীক্ষায় ১ম শ্রেণিতে ১ম স্থান ,১৯৬৭ সালে ডিপ্লোমা ইন-আদীব পরীক্ষায় ১ম শ্রেণিতে ১ম স্থান, ১৯৬৮ সালে ডিপ্লোমা ইন-আদীব-ই-কামিল পরীক্ষায় ১ম বিভাগে ১ম স্থান অধিকার করেন। তিনি ১৯৬৪-১৯৬৫ সালে মাদরাসা-ই-আলিয়া ঢাকা এর রিচার্স এন্ড পাবলিকেশন বিভাগ হতে সরকারি স্কলারশীফ নিয়ে আল্লামা আব্দুর রহমান কাশ-গড়ী (রহঃ) এর তত্ত্বাবধানে “ফোকাহায়ে ইষ্ট পাকিস্তান কে ফেকহী কারনামে” শীর্ষক অভিসন্দর্ভের উপর গবেষণা করে রিচার্স স্কলারশীফ ডিগ্রী লাভ করেন। তিনি মাদরাসা-ই-আলিয়া ঢাকায় অধ্যয়ন কালে মুফতি সৈয়দ আমীমুল ইহছান মুজাদ্দেদী (রহ:) থেকে ইলমী জাহেরী ও ইলমে বাতেনী হাসিল করেন।তিনি তাঁকে স্বীয় তরীকতের ওজীফা ও শাজরা শরীফ প্রদান করেন। মাওলানা ফখর উদ্দীন (রহ:) মুফতি সাহেবের নিকট হতে তাফসীর,হাদীস,ফিকাহ ও তরীকতের সনদ গ্রন্থ “মিন্নাতুল বারী” এর ইযাযত লাভ করেন। এতদ্ব্যতীত আলা হযরত ইমাম আহমদ রেযা খান বেরেলভী (রহ:) স্বীয় হাদীসের সনদগ্রন্থ “আল-ইযাযাতুল মতীনাহ লে ওলামায়ে বাক্কাতাহ মদীনাহ” স্বীয় শিষ্য ও খলীফা,আলেমকুল সম্রাট আল্লামা যুফর উদ্দীন বিহারী (রহ:) কে ইযাযাত দান করেন। তিনি ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার হেড মুহাদ্দিস মুফতি সৈয়দ আমীমুল ইহছান মুজাদ্দেদী (রহ:) কে উক্ত সনদগ্রন্থটি ইযাযাত দান করেন। তিনি স্বীয় শিষ্য ও খলীফা ঢাকা সরকারী আলিয়া মাদ্রাসার মুহাদ্দিস মাওলানা ফখর উদ্দীন (রহ:) কে এ সনদগ্রন্থটি ইযাযাত দান করেন। তিনি মুফতি সাহেবের পূণ্যময় হস্তে মুজাদ্দেদীয়া নকশবন্দীয়া ও কাদেরিয়া রেজভীয়া তরীকতের ইযাযাত লাভ করেন।  ৩১ অক্টোবর ১৯৬৮ সালে মাওলানা ফখর উদ্দীন সাহেব (রহঃ) সরকারি সিলেট আলিয়া মাদরাসার মুদাররিস হিসেবে যোগদান করেন। এর পূর্বে তিনি কিছুদিন ছোবহানিয়া আলিয়া মাদরাসার মুহাদ্দিস হিসেবে কর্মরত ছিলেন।০৬ ফেব্রুয়ারী ১৯৭০ সালে মাদরাসা-ই-আলিয়া ঢাকায় বদলী হন।১০ এপ্রিল ১৯৭৬ হতে ০৪ মে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত প্রভাষক (হাদীস বিভাগ) হিসেবে সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা, ০৫ মে ১৯৭৯ সালে একই পদে পুনঃরায় মাদরাসা-ই আলিয়া ঢাকায় বদলী হন। ২২ আগস্ট ১৯৮৪ সালে সহকারী অধ্যাপক (কুরআন ও তাফসীর বিভাগ) হিসেবে মাদরাসা-ই-আলিয়া ঢাকায় উন্নীত হন। ০৫ আগস্ট ১৯৮৯ সালে একই পদে সিলেট আলিয়া মাদরাসায় বদলী হন। ২০০০ সাল হতে ২০০৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মেয়াদে সিলেট আলিয়া মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ, ২২ জানুয়ারী ২০০২ সাল হতে ২০০৪ সাল পর্যন্ত উপাধ্যক্ষ এবং ২০০৪-২০০৬ সাল পর্যন্ত অধ্যক্ষ হিসেবে সুনাম ও দক্ষতার সহিত নিবিড়াভাবে দায়িত্ব পালন করেন। সরকারি চাকুরী হতে অবসর নেয়ার পর বেশ কিছু মাদ্রাসা থেকে তাঁর কাছে শিক্ষকতার অফার আসে। অবসর গ্রহণের দুই বছর আগে থেকেই চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া মাদ্রাসার সেক্রেটারি সাহেব সিলেট এসে তাঁকে তাদের প্রতিষ্ঠানে অধ্যাপনার প্রস্তাব দেন। তাছাড়া সিলেটেও বেশ কয়েকটি মাদ্রাসায় প্রস্তাব দেন। চুনতীর এক দাওয়াতে তাঁর শ্রদ্ধেয়ভাজন ওস্তাদ পীরে কামেল শাহ হাবীব আহমদ (রহ:) এর অনুরোধে শেষ পর্যন্ত সকল প্রস্তাব নাকচ করে দিয়ে ইনতিকালের পূর্ব পর্যন্ত ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি প্রতিষ্ঠান চুনতী হাকীমিয়া আলিয়া মাদরাসার শায়খুল হাদীস হিসেবে বেসরকারিভাবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি ইনতিকালের পূর্ব পর্যন্ত স্থানীয় মুরব্বীদের অনুরোধে চন্দনাইশ “এয়াকুব মরিয়ম জামে মসজিদ” এর খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দারুল ইফতা শাখায় প্রধান মুফতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।তিনি ১৯৯৩ সালে সিলেট জেলা হতে জাতীয় পর্যায়ের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে সরকারের নিকট হতে পুরস্কার ও সম্মাননা অর্জন করেন।তিনি অসংখ্যবার বেসরকারীভাবে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন থেকে পুরস্কার ও সম্মাননা অর্জন করেন। এমনকি এই প্রথিতযশা আলেমেদ্বীনকে ১২ জানুয়ারী ২০১২ সালে চুনতি হাকীমিয়া আলিয়া মাদরাসার কামিল শ্রেণীতে বিশেষ অবদান রাখার জন্য মরণোত্তর সম্মাননা প্রদান করা হয়। তিনি ২৬ মে ২০১১ সালে তার প্রভুর ডাকে সাড়া দেন।
(৪)শাম-এ বাংলা অধ্যক্ষ  মাওলানা আলাউদ্দীন শাহ (রহ):
তিনি ১৯৫৮ সালে চন্দনাইশস্থ জোয়ারা ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসা হতে দাখিল পাস করার পর ১৯৫৯ সালে চট্টগ্রাম দারুল উলূম আলিয়া মাদরাসায় ভর্তি হন। তিনি এ মাদরাসা হতে আলিম ও ফাজিল কৃতিত্বের সাথে পাস করেন। ১৯৬৬ সালে মাদরাসা-ই-আলিয়া ঢাকা হতে কামিল পাস করেন। ১৯৬৮ সালে সরকারী বৃত্তি নিয়ে মাদরাসা-ই-আলিয়া,ঢাকায় ছাত্র থাকাকালীন সময়ে “খাওয়াতীন-এ ইসলাম-কে কার নাম” উর্দু ভাষায় গবেষণা থিসিস রচনা করেন। এটি প্রকাশিত হয় নি। তাঁর প্রণীত “লাইলাতুল কদর” শীর্ষক পুস্তকটি (উর্দু ও বাংলা) প্রকাশিত হয়েছে। তিনি আঞ্জুমানে মুহিব্বানে রসূল এর পৃষ্ঠপোষকতায় পাকিস্তানের খ্যাতনামা আলিম মুফতি শফি ওকাড়বী (রহ) এর রচিত সাওয়াবুল ইবাদত ও বরকাতে মীলাদ উর্দু দু’টি বই বঙ্গানুবাদ করেন। যা যথাক্রমে ১৯৭৯ ও ১৯৮১ সালে প্রকাশিত হয়।
কর্মজীবনে জোয়ারা ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসায় উপাধ্যক্ষ,  রাঙ্গুনিয়া নূরুল উলূম সিনিয়ার মাদরসায়  শিক্ষকতা করেন। পটিয়া অহিদিয়া ও বোয়ালখালী চরণদ্বীপ রিজভীয়া মাদরাসায় অধ্যক্ষ ছিলেন। তিনি ইন্তেকালে পূর্ব পর্যন্ত  সোবাহানিয়া আলিয়া কামিল মাদরাসায় মুহাদ্দিস পদে কৃতিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৯৮ সালের ১৯ জুলাই ইন্তেকাল করেন।
(৫) মাওলানা বোরহান উদ্দীন:
তিনি  জোয়ারা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় বাল্য হতে  আলিম পর্যন্ত, দারুল উলূম কামিল মাদ্রাসা হতে ফাজিল এবং সরকারী মাদ্রাসা আলিয়া-ঢাকা হতে কামিল সহ প্রতিটি  পরীক্ষায় কৃতিত্ব অর্জন করেন। একই সাথে চট্টগ্রামের রেলওয়ে হাই স্কুলে সহকারী মৌলভী হিসেবে অবসরের পূর্ব পর্যন্ত দক্ষতা সাথে নিবিড়ভাবে দায়িত্ব পালন করেন। কর্মজীবন শুরুতে তিনি কিছুদিন জোয়ারা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন।বর্তমানে তিনি ইসলামের খেদমতে মাওলানা মন্জিল মুফতি শফিউর রহমান (রহ) জামে মসজিদে খতীব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তিনি ৩০ আগষ্ট ২০১৯ রোজ শুক্রবার রাত ১১.০০ ঘটিকায় তাঁর প্রভুর ডাকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। পরের দিন বিকেল ৩.০০ ঘটিকায় জোয়ারা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার ঐতিহাসিক ময়দানে তাঁর জানাযা নামায অনুষ্ঠিত হয়। তাঁর মেঝো ভাই   মাওলানা মাহফুজুর  রহমানের ইমামতিতে উক্ত জানাযার নামাজ সম্পন্ন হয়।  পরে তাঁকে তার পারিবারিক কবরস্থান মাওলানা মঞ্জিলে দাফন করা হয়।
(৬) মাওলানা মঈন উদ্দীন:
তিনি বাল্যকালে জোয়ারা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা হতে দাখিল,  আলিম ও সরকরী মাদ্রাসা আলিয়া-ঢাকা হতে ফাজিল ও কামিল পরীক্ষায় কৃতিত্ব অর্জন করেন। একই সাথে দক্ষিণ চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী  দ্বীনী প্রতিষ্ঠান জোয়ারা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় সিনিয়র সহকারী মাওলানা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।  তিনি ইসলামের খেদমতে মাওলানা মন্জিল মুফতি শফিউর রহমান (রহ) জামে মসজিদে ইমাম হিসেবে এবং স্থানীয় একটি মসজিদে খতীব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি চন্দনাইশের সুবিখ্যাত অলী হযরত আমিনুল্লাহ শাহ মাজার (প্রকাশ বুড়ো মাওলানা সাহেব) জামে মসজিদে খতীব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
(৭) মাওলানা তাজ উদ্দীন:
তিনি জোয়ারা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা হতে দাখিল, আলিম ও ফাজিল এবং সরকারী আলিয়া মাদ্রাসা ঢাকা হতে কামিল পরীক্ষায় কৃতিত্ব অর্জন করেন। তিনি কর্মজীবনে জোয়ারা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় শিক্ষক,হাটহাজারীর লাঙ্গলমোড়া ইসলামিয়া সিনিয়ার মাদ্রাসায় অধ্যক্ষ, চন্দনাইশের এলাহাবাদ ফাজিল মাদ্রাসায় অধ্যক্ষ হিসেবে দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি  জামালপুরের আল আমিন জামিরিয়া কামিল মাদ্রাসায় অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি চন্দনাইশের সুবিখ্যাত অলী হযরত আমিনুল্লাহ শাহ মাজার (প্রকাশ বুড়ো মাওলানা সাহেব) জামে মসজিদে খতীব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
(৮) কে এম হামিদ উদ্দীন:
  তিনি জোয়ারা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় বাল্যকাল হতে  ফাজিল পর্যন্ত প্রত্যেকটি ক্লাসে কৃতিত্ব অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি মধুবন চাকুরী ও পাশাপাশি ব্যবসা করতেছেন।
(৯) মাওলানা ফরিদ উদ্দীন:
তিনি জোয়ারা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় বাল্যকাল হতে  ফাজিল পর্যন্ত  এবং সোবাহানিয়া মাদ্রাসা হতে কামিল পরীক্ষায় কৃতিত্ব অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি ব্যবসা করতেছেন।এর আগে তিনি মধুবনে চাকুরী করতেন।
মুফতি পরিবারের অধিকাংশ সদস্য শিক্ষকতার সাথে জড়িত। মুফতি পরিবারের  কাছে যারা পড়েছেন কুরআন হাদীসের দরস নিয়েছেন তাদের সংখ্যা এত বেশি যে তাদেরকে সংখ্যায়িত করা এখানে সম্ভব নয়। বাংলাদেশের প্রায় প্রত্যন্ত অঞ্চলে যেখানে যে প্রতিষ্ঠানে খেদমত হচ্ছে, সেখানেই তাঁদের ছাত্র আছে। বিভিন্ন মাদরাসা, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ মুহাদ্দিস, প্রফেসর হিসেবে অনেক ছাত্রই আজ নিয়োজিত। মুফতি পরিবারের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলশ্রুতিতে গড়ে উঠেছে সঠিক সুন্নী মতাদর্শ ভিত্তিক ইসলামী সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার বিপুল সংখ্যক ইসলামী চিন্তাবিদ এবং ইসলামী মিডিয়া ব্যক্তিত্ব সহ আরো অনেক কর্মীবাহিনী। আর অসংখ্য শিষ্য বাংলাদেশের প্রায় প্রত্যন্ত অঞ্চল ছাড়া দেশের বাইরেও অনেক ভাল ও গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োজিত। তাছাড়া  দেশের প্রশাসনিক লোকদের মধ্যে মুফতি পরিবারের সদস্যরা নিয়োজিত আছে। তারা নানাভাবে ধর্মীয় ও সামজিক ও রাষ্ট্রীয় নানাক্ষেত্রে খেদমত আন্জাম দিয়ে যাচ্ছেন ।
লেখক: কলামিস্ট। 
প্রচার ও প্রকাশনা সচিব, বাংলাদেশ মুসলমান ইতিহাস সমিতি।
প্রতিষ্ঠাতা, চন্দনাইশ মুসলিম সাহিত্য সমাজ।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com