শনিবার, ২১ মে ২০২২, ০১:৫০ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
তামাকজাত পণ‍্যের বিজ্ঞাপন, শাহরুখ, অমিতাভ ও অজয়ের বিরুদ্ধে মামলা আগামী নির্বাচনের পর শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিলেন ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী রাজনীতিবিদরা বলেন ক্ষমতায় গিয়ে দেশ চালাবেন, ক্ষমতা নয়, আসলে এটা দায়িত্ব–সিইসি কোলকাতায় নতুন ঠিকানা দাদার, বাড়ির দাম শুনলে চমকে যাবেন স্ত্রী ও শ্বাশুড়ি গ্রেফতার, আদমদীঘিতে ভটভটি চালককে কৌশলে হত্যার অভিযোগ  সান্তাহার রেলওয়ে থানায় মোবাইল ছিনতাই চেষ্টা ও চুরি ঘটনায় দুইজন গ্রেফতার বিশিষ্ট সাংবাদিক আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর মৃত্যুতে লাখাই প্রেসক্লাবের শোক শেরপুরে জেলা প্রশাসকের বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের ধর্মীয় শিক্ষক আবু সাদ’র বিরুদ্ধে এক শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগ, স্বস্ত্রীক আত্মগোপনে এক সুন্দরী বিমানবালাকে নিজের উত্থিত লিঙ্গ প্রদর্শণ করেন ধনকুবের এলন মাস্ক

শেরপুর সীমান্তে খাবার পানির সংকট

 

 

 

 

শাহরিয়ার মিল্টন, শেরপুর :

 

 

 

 

পাহাড়ি অঞ্চল হওয়ায় ও ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় শেরপুরের সীমান্তবর্তী গারো পাহাড়ের ১২টি গ্রামে দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে অনেক কষ্টে পানি সংগ্রহ করে এনে খাওয়াসহ রান্না-বান্নার কাজে ব্যবহার করতে হচ্ছে এখানকার মানুষদের। বোরো মৌসুমে অন্তত ৫/৬ মাস পানির অভাবে এ কষ্ট করতে হয় স্থানীয়দের। এ সমস্যা লাঘবে এসব এলাকায় সাবমারসিবল পাম্প বসানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

জানা যায়, ঝিনাইগাতী উপজেলার সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকা পানবর, গুরুচরণ দুধনই, গজনী গান্ধিগাঁও, বাকাকুড়া, হালচাটি, নওকুচি, দীঘিরপাড় ও শ্রীবরদী উপজেলার কর্ণঝোড়া ও রানীশিমুলসহ ১২টি গ্রামে মাটির নিচে প্রচুর পাথর থাকায় সাধারণ নলক‚প্রস্থাপন করা সম্ভব হয় না। বোরো মৌসুম এলেই এমন সমস্যা সৃষ্টি হয়। যা ৫/৬ মাস পর্যন্ত চলে এমন দুর্ভোগ। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পাহাড়ি অঞ্চলে পানির লেয়ার অনেক নিচে থাকায় আর মাটির নিচে প্রচুর পাথর রয়েছে তাই এসব এলাকায় সব ধরনের গভীর নলকূপ বসানো সম্ভব হয় না।
একমাত্র বিদ্যুৎচালিত গভীর সাবমারসিবল পাম্প বসিয়ে পানি উত্তোলন করা সম্ভব। কিন্তু এতে কমপক্ষে দেড় থেকে তিন লক্ষ টাকা খরচ হয়- যা এখানকার সাধারণ মানুষের পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়।

এসব এলাকায় ব্যক্তি মালিকানায় সচ্ছল দুই একজন কৃষক বিদ্যুৎচালিত গভীর সাবমারসিবল পাম্প বসিয়েছেন। ওই পাম্প থেকে পানি নেওয়ার জন্য শুষ্ক মৌসুমে আশপাশের লোকজন জগ, বালতি, কলস, বোতল নিয়ে ভিড় করেন। দূর-দূরান্ত থেকে অনেক মানুষ ভ্যানগাড়ি করে খাওয়ার পানি সংগ্রহ করে নিয়ে যান এসব পাম্প থেকে।

বাকাকুড়া গ্রামের ইসমাইল হোসেন বলেন, প্রতিবছর ডিসেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত এই এলাকায় পানীয় জলের তীব্র সংকট থাকে। তখন এখানে হস্তচালিত নলক‚প্রস্থাপন করা যায় না। তাই পানি তুলতে বসাতে হয় সাব মারসিবল পাম্প।
কিন্তু এটি ব্যয়সাপেক্ষ হওয়ায় দরিদ্র গ্রামবাসীর পক্ষে এই নলক‚প বসানো সম্ভব হয় না। ফলে পানিসংকটে ভুগতেই হচ্ছে তাদের।

সারিকালিনগর গ্রামের জিয়াউর রহমান বলেন, আমরা গরিব মানুষ। একটা টিওবওয়েল পুতছিলাম। এহন পানি ওঠে না। অনেক কষ্ট কইরা দূরে শাজাহান ভাইয়ের পাম্প থেকে পানি নিয়ে যাই শুধু খাওয়ার জন্য। পানির অভাবে দুই একটা পুকুরের পচা পানিতে গোসল কইরা নানা অসুখ অয়। আমরা এই ভোগান্তির অবসানে সাবমারসিবল পাম্প চাই। একই গ্রামের গৃহিণি মঞ্জুরা বেগম, রোজিনা আক্তার ও আশুরা বেগমসহ অনেকেই জানান, ‘অনেকদিন থেকে আমরা রান্নাবান্না আর খাওয়ার জন্য এইভাবে পানি টাইনা নিয়া যাই। আমরা আর কত কষ্ট করমু। মাইনষের বাড়ি থাইক্কা কত কথা হুইনা পানি আনতে অয়’।

 

 

 

 

 

 

 

রাণিশিমুল ইউনিয়নের বাসিন্দা রমজান আলী জানান, আমি ধান ক্ষেতে পানি দিতে একটি বিদ্যুৎচালিত সাবমারসিবল পাম্প বসিয়েছি। শুকনো মৌসুমে এলাকায় কোনো টিউবওয়েলে পানি ওঠে না। তখন আমার পাম্প থেকেই এ এলাকার মানুষ পানি নিয়ে
যায়। মেশিন চালু করলেও সবাই হুমড়ি খেয়ে পড়ে। এতে তাদেরও অনেক কষ্ট হয়, আমারও অসুবিধা হয়। এরপরও মানুষগুলোর কষ্ট দেখে কিছু বলি না। এ এলাকায় সরকারি খরচে দুই একটি সাবমারসিবল পাম্প বসালে এলাকার মানুষের দুর্ভোগ কমতো।

ঝিনাইগাতী উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব এসএম আব্দুল্লাহেল ওয়ারেজ নাইম জানান, আমাদের উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের বেশ কিছু গ্রামে শুষ্ক মৌসুমে নলকূপে পানি ওঠে না। আমরা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের মাধ্যমে কিছু কিছু জায়গায় সাবমারসিবল পাম্প বসাচ্ছি। তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।
আমরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে চাহিদা পাঠিয়েছি। আশা করছি খুব শিগগিরই এ সমস্যার সমাধান হবে।

এ ব্যাপারে শেরপুর জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী ছামিউল হক জানান, পাহাড়ি এলাকায় পানি সঙ্কট নিরসনে আমাদের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব ধরনের চেষ্টা করা হচ্ছে। যেসব এলাকায় পানির সমস্যা বেশি, ওইসব এলাকায় বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে গভীর নলকূপ ও সাবমারসিবল পাম্প বসানো হচ্ছে। আরও চাহিদা দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পেলে পর্যায়ক্রমে সব গ্রামেই পাম্প স্থাপন করা হবে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com