মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০, ০৩:২৩ পূর্বাহ্ন

মিরপুরে দ্বিতীয় টেস্টে তৃতীয় দিনেই বাংলাদেশ জয়

খবরের আলো রিপোর্ট :

 

 

বাংলাদেশ যে স্পিন শক্তিকে ভালো তা আবারও প্রমাণ দিল মিরাজ, সাকিব ও তাইজুলরা। টাইগারদের স্পিনের সামনে ভেঙে পড়ল দ্বীপরাষ্ট্রের ব্যাটিং লাইন আপ। ‘স্পিন তত্ত্বে’ মিরপুরে দ্বিতীয় টেস্টে তৃতীয় দিনেই বাংলাদেশ জয় পেল এক ইনিংস ও ১৮৪ রানে। এই জয়ে নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জয়ের নজির গড়ল স্বাগতিকরা। দুর্দান্ত এ জয়ে অভিনন্দন জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

২০০৯ সালে ক্যারিবীয়দের মাটিতে ২-০ ব্যবধানে জিতে এসেছিল সাকিবের নেতৃত্বে। এবার ৯ বছর পর আবারও সেই সাকিবের নেতৃত্বেই ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ঘরের মাঠে হোয়াইটওয়াশ করল টাইগাররা। এ নিয়ে মোট তিনবার প্রতিপক্ষকে হোয়াইটওয়াশ করতে পারল বাংলাদেশ।

প্রথম ইনিংসে ৫০৮ রানের পাহাড় গড়ার পর সেই পাহাড়ে চাপা দিতে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল বোলারদের জ্বলে ওঠা। স্পিনিং উইকেট। সেখানে বাংলাদেশের চার স্পিনার এক সঙ্গে জ্বলে উঠবেন সেটাই ছিল প্রত্যাশা। যেমনটা হয়েছিল চট্টগ্রাম টেস্টে। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসে চারজনের সবাইকে প্রয়োজন হয়নি। একা সাকিব-মিরাজই ধ্বস নামিয়ে দিলেন। ১১১ রানে অলআউট করে দিলেন ক্যারিবীয়দের। মিরাজ একাই নিলেন ৭ উইকেট। বাকি ৩টি সাকিবের।

৩৯৭ রানের বিশাল লিড। নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসে এই প্রথম কোনো দলকে ফলোঅন করাল বাংলাদেশ। ফলো অন করতে নেমে পুরনো ব্যর্থতার নজির উপস্থাপন করে ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েটের দল।

দ্বিতীয় ইনিংসে ২ রানে হারায় প্রথম উইকেট। সাকিব আল হাসানের বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ে বিদায় নেন ক্যারিবীয় অধিনায়ক ব্র্যাথওয়েট। ফেরেন ১ রান করে। কিয়েরন পাওয়েল বেরিয়ে এসে খেলার চেষ্টা করেছিলেন মিরাজের বলে। পরাস্ত হওয়ায় তার উইকেট ভেঙে দেন উইকেটকিপার মুশফিকুর রহিম। পাওয়েল এই ইনিংসেও ব্যর্থ হয়ে ফিরলেন ৬ রানে। দুই ওপেনারের বিদায়ে ফলো অনে পড়ে যাওয়া উইন্ডিজের অবস্থা হয়ে দাঁড়ায় আরও বিবর্ণ!

সকালে স্পিন তত্ত্বের সফলতায় দুই নায়ক ছিলেন মিরাজ আর সাকিব। দ্বিতীয় ইনিংসে ক্যারিবীয়দের ব্যাটিং লাইনে এবার আক্রমণ হানেন তাইজুল ইসলাম। আমব্রিসকে লেগবিফোরের ফাঁদে ফেলেন শুরুতে। পরের উইকেটে রোস্টন চেজকে সুযোগ দেননি থিতু হওয়ার। তাকেও বিদায় দিয়েছেন মুমিনুল হকের ক্যাচ বানিয়ে।

বিরতির পর শাই হোপও ছিলেন বাকিদের অনুসারী। ব্যাট হাতে কিছুটা রান তোলা এই ব্যাটসম্যানকে বিদায় দেন মিরাজ। শ্যানন ডাওরিচ এই ইনিংসে বেশি কিছু করতে পারেননি। নাঈম হাসানের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন সৌম্য সরকারকে।

হেটমায়ার আগের চেয়ে আরও বেশি ভয়ানক হয়ে অপরপ্রান্ত আগলে খেলতে থাকেন। বাকিরা যেখানে বাংলাদেশি স্পিনে ধরাশায়ী সেখানে দুর্ধর্ষ ভঙ্গিতে মেরে খেলতে থাকেন হাত খুলে। একই সময় অপর প্রান্তে থিতু সঙ্গীর অভাবটা বোধ করতে থাকেন নিয়মিত। দেবেন্দ্র বিশু কিছুক্ষণ থিতু হলে তাকে এবার প্রথম স্লিপে ক্যাচ আউট বানিয়ে ছাড়েন মেহেদী মিরাজ। এই উইকেটের পতনে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ১০ উইকেট শিকারের কীর্তিও গড়া হয়ে যায় তরুণ এই অফ স্পিনারের।

আক্রমাত্মক মন্ত্রে খেলা হেটমায়ার ব্যক্তিগতভাবে দারুণ একটি ইনিংস উপহার দেওয়ার চেষ্টা করতে থাকেন শেষ দিকে। ৯৩ রান করে ফেলা এই বিপজ্জনক ব্যাটসম্যানকে আর থিতু হতে দেননি মিরাজ। মিঠুনের ক্যাচ বানিয়ে ফেরান। আগ্রাসী এই ব্যাটসম্যান ৯২ বলের ইনিংসে মারেন ৯টি ছয় আর ১টি চার।

এরপর লেজ ছেঁটে দিতে আর সময় নেয়নি বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণ। হেটমায়ারকে ফিরিয়ে ওয়ারিকানকেও বিদায় দেন মিরাজ। তাতে এই ইনিংসেও ৫ উইকেট শিকারের নজির রাখলেন মিরাজ। একই সঙ্গে প্রথম ইনিংসে ৭ আর দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ উইকেট তুলে টেস্টে বাংলাদেশের সেরা বোলিং ফিগারের রেকর্ড এখন তার দখলে। এক ইনিংসে ৭ উইকেট বাংলাদেশের হয়ে এর আগেও নিয়েছেন ৩ জন। তবে অফ স্পিনে ৭ উইকেট শিকারি প্রথম বোলার মিরাজই।

বাংলাদেশের হয়ে ৭ উইকেট নেওয়া আগের তিন বোলারই ছিল বাঁহাতি স্পিনার-এনামুল হক জুনিয়র, সাকিব আল হাসান ও তাইজুল ইসলাম। অফ স্পিনার হিসেবে আরেকটি জায়গাতেও মিরাজের নাম এখন সবার ওপরে। ৫৮ রানে নিয়েছেন ৭ উইকেট। বাংলাদেশে কোনো অফ স্পিনারের সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড এটিই। গত বছর চট্টগ্রামে অস্ট্রেলিয়ান অফ স্পিনার নাথান লায়নের ৯৪ রানে ৭ উইকেট ছিল আগের সেরা।

লুইসকে ফিরিয়ে ক্যারিবীয়দের ইনিংস গুটিয়ে দেন তাইজুল। প্রথম ইনিংসে না পারলেও দ্বিতীয় ইনিংসে তাইজুল নিয়েছেন ৩ উইকেট। সাকিব প্রথম ইনিংসে তিনটি আর এই ইনিংসে নেন ১টি উইকেট। এছাড়া নাঈম নেন ১টি। সিরিজ সেরা সাকিব আল হাসান, আর ম্যাচ সেরা ১২ উইকেট নেওয়া মিরাজ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ : ৫০৮/১০, ১৫৪ ওভার (মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ১৩৬, সাকিব আল হাসান ৮০, সাদমান ইসলাম ৭৬, লিটন দাস ৫৪, মুমিনুল ২৯, মিঠুন ২৯, তাইজুল ২৬, সৌম্য ১৯, মিরাজ ১৮, মুশফিক ১৪ এবং নাঈম হাসান ১২; ব্র্যাথওয়েট ২/৫৭, কেমার রোচ ২/৬১, ওয়ারিকান ২/৯১, বিশু ২/১০৯)।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ : ১১১/১০, ৩৬.৪ ওভার (হেটমায়ার ৩৯, ডওরিচ ৩৭, হোপ ১০; মেহেদী মিরাজ ৭/৫৮, সাকিব আল হাসান ৩/২৭) ও ২১৩/১০, ৫৯.২ ওভার (হেটমায়ার ৯৩, রোচ ৩৭*, হোপ ২৫, লুইস ২০, বিশু ১২; মিরাজ ৫/৫৯, তাইজুল ৩/৪০, সাকিব ১/৬৫ ও নাঈম হাসান ১/৩৪)।

ফল: বাংলাদেশ এক ইনিংস ও ১৮৪ রানে জয়ী।

ম্যাচ সেরা: মেহেদী হাসান মিরাজ ।

সিরিজ সেরা: সাকিব আল হাসান।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com