মঙ্গলবার, ০৫ জুলাই ২০২২, ০৩:১৪ অপরাহ্ন

এলাকাবাসীর প্রতিরোধে ড্রেন নির্মাণের নিম্নমানের ইট সরাতে বাধ্য হলো ইউপি চেয়ারম্যান 

শাহজাহান আলী মনন, সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি:

এলাকাবাসীর প্রতিরোধের মুখে ড্রেন নির্মানের জন্য ব্যবহৃত নিম্নমানের ইট সরিয়ে নিতে বাধ্য হলেন ইউপি চেয়ারম্যান। কিন্তু তারপরও ঢালাইয়ে খারাপ খোয়া আর সিডিউল বহির্ভূতভাবে সিমেন্ট ও বালুর মিশ্রণ দেয়ার অভিযোগে কাজ বন্ধ করে দিয়েছে এলাকাবাসী। এমন ঘটনা ঘটেছে সোমবার (১৬ মে) সকালে নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নে।
জানা যায়, এলজিএসপি-৩ প্রকল্পের আওতায় ওই ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের বোতলাগাড়ী কাছারীপাড়া ছাইয়ারমোড় এলাকায় জামে মসজিদের কাছে ২১৭ ফুট বা ৬৬ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি ড্রেন নির্মান করা হচ্ছে। প্রায় ২ লাখ টাকা বরাদ্দের এই কাজটি ইউপি চেয়ারম্যান নিজেই করছেন।
এখানে ড্রেনের সোলিংয়ের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে নিম্নমানের (৩ নং) ইট। সোলিংয়ের উপরে ঢালাইয়ের ক্ষেত্রে আরও খারাপ ইটের খোয়া (গিট্টি) এবং সিমেন্ট কম বালু বেশি দেয়া হয়েছে। প্রথম দিনে কাজের প্রায় একচতুর্থাংশ সোলিং ও ঢালাই করা হয়েছে।
এমতাবস্থায় রবিবার আবারও ওই নিম্নমানের ইট ও খোয়া দিয়ে বাকি কাজ শুরু করলে এলাকাবাসী সিডিউল অনুযায়ী ভাল উপকরণ সঠিকমাত্রায় ব্যবহারের দাবী জানান। না হলে ড্রেন নির্মানের প্রয়োজন নেই বলে সাফ জানিয়ে দেয়। এর প্রেক্ষিতে ইউপি চেয়ারম্যান বাধ্য হয়ে সোলিংয়ে বিছানো নিম্নমানের ইট সরিয়ে নিয়ে ভালো ইট দিয়ে সোমবার কাজ শুরু করেন।
এলাকার শাফিয়ার রহমান ও হাফিজুল ইসলাম দুই যুবক জানান, চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান সরকার জুনকে বলতে গেলে আমরাই নিঃস্বার্থভাবে অর্থ ও শ্রম দিয়ে সহযোগীতা করে নির্বাচিত করেছি। অথচ তিনিই এখন আমাদের এলাকায় একটা কাজ করছেন নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে। যা এলাকাবাসীর নজরে পড়লে প্রতিবাদ করেন।
এর ফলে চেয়ারম্যান সোলিংয়ের ইট বদলিয়ে দিচ্ছেন। কিন্তু ঢালাইয়ের ক্ষেত্রে এখনও নিম্নমানের খোয়া ব্যবহার করছেন এবং বেশি করে বালু দিয়ে সিমেন্ট কম দিচ্ছেন। এতে ড্রেনের নির্মাণ কাজ অত্যন্ত দূর্বল হচ্ছে। ফলে এর স্থায়িত্ব কমে যাওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। এনিয়ে কথা বলায় চেয়ারম্যান আমাদের শাসাচ্ছেন।
তাঁরা এই ব্যাপারে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিষয়টি তদারকির জন্য উপজেলা পরিষদ সহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন। সোমবার (১৬ মে) দুপুরে ঘটনাস্থলে সরেজমিনে গেলে এলাকাবাসীর উপরোল্লিখিত অভিযোগের সত্যতা মিলেছে।
ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান সরকার জুন বলেন, এলাকাবাসীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইট পরিবর্তন করে দেয়া হয়েছে। তারপরও দুই একজন ভূয়া অজুহাতে অহেতুক সমস্যা করছে।
তিনি বলেন, যে সামান্য বরাদ্দ তা দিয়ে এরচেয়ে ভালো উপকরণ দিয়ে কাজ করা সম্ভব নয়। তাতেও যদি লোকজন সন্তুষ্ট না হয় তাহলে আমার কিছুই করার নাই।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com