রবিবার, ১১ এপ্রিল ২০২১, ০৬:০৬ পূর্বাহ্ন

আজ পিরোজপুর মুক্ত দিবস

খবরের আলো রিপোর্ট :

 

 

পিরোজপুর মুক্ত দিবস আজ। ১৯৭১ সালের ৮ ডিসেম্বর পিরোজপুর পাকহানাদার, রাজাকার ও আলবদর মুক্ত হয়। এই দিনে ঘরে ঘরে উড়েছিল লাল সবুজের বিজয় পতাকা। পিরোজপুরের ইতিহাসে এ দিনটি বিশেষ স্মরণীয় দিন। মুক্তিযুদ্ধের সময় পিরোজপুর ছিল মুক্তিযুদ্ধের নবম সেক্টরের অধীন সুন্দরবন সাব-সেক্টর মেজর জিয়াউদ্দিনের কমান্ডের আওতায়।

১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করার ১৮ ঘণ্টার মধ্যে পিরোজপুরের আওয়ামী লীগের নেতৃতাধীন মহকুমা সংগ্রাম পরিষদের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা অস্ত্রাগার ভেঙে অস্ত্র গুলি নিয়ে প্রশিক্ষণ শুরু করে ও মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার প্রস্তুতি নেয়।

১৯৭১ সালের ৩ মে পিরোজপুরে প্রথম পাক বাহিনী প্রবেশ করে। শহরের প্রবেশদ্বার হুলারহাট নৌ-বন্দর থেকে পাকবাহিনীরা প্রবেশের পথে প্রথমেই তারা মাছিমপুর ও কৃষ্ণনগর গ্রামে শুরু করে হত্যাযজ্ঞ। তারপর ৮টি মাস স্থানীয় শান্তি কমিটির নেতা ও রাজাকারদের সহায়তায় বিভিন্ন এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা, সংখ্যালঘু ও স্বাধীনতার স্বপক্ষের লোকজনদের বাড়ি-ঘরে আগুন দেওয়া হয়। হত্যা করা হয় ৩০ সহস্রাধিক মুক্তিকামী নারী-পুরুষ শিশুকে।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ডিসেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে পিরোজপুরের অদূরে চালিতাখালী গ্রাম থেকে ১২ জনকে ধরে আনা হয়। তাদেরকে পিরোজপুর শহরের পশ্চিম পার্শ্বে বলেশ্বর নদীর তীরের বধ্যভূমিতে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

পিরোজপুরকে হানাদার মুক্ত করতে সুন্দরবনের সাব-সেক্টর কমান্ডার মেজর জিয়াউদ্দিনের নেতৃত্বে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের একটি দল ৭ ডিসেম্বর রাত ১০টায় পিরোজপুরের দক্ষিণপ্রান্ত পাড়েরহাট বন্দর দিয়ে শহরে প্রবেশ করতে থাকে। মুক্তিবাহিনীর এ আগমনের খবর পেয়ে পাক হায়নারা শহরের পূর্বদিকের কচানদী দিয়ে বরিশালের উদ্দেশে পালিয়ে যায়। এর আগে স্বরূপকাঠী পেয়ারা বাগানে মুক্তিযোদ্ধাদের গড়ে তোলা দূর্গে পাকবাহিনী আক্রমণ করলে মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে কয়েকজন পাকসেনা নিহত হয়।

এ ছাড়া বিভিন্ন স্থানে মুক্তিযোদ্ধাদের গেরিলা আক্রমণে পাক বাহিনী পর্যুদস্ত হতে থাকে। অবশেষে ৮ ডিসেম্বর পিরোজপুর ছেড়ে তারা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকবাহিনী ও তাদের দোসররা পিরোজপুর অঞ্চলে প্রায় ৩০ হাজার মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করে। সম্ভ্রম লুটে নেয় প্রায় কয়েক হাজার মা-বোনের।

পিরোজপুর মুক্ত দিবস উদযাপন পরিষদ বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে টাউন ক্লাব স্বাধীনতা চত্বর থেকে আনন্দ শোভাযাত্রা, শহীদ ভাগিরথী চত্বরে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি স্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন ও স্বাধীনতা মঞ্চে স্মৃতিচারণ। সন্ধ্যা ৬টা ১ মিনিটে মোমবাতি প্রজ্বালন ও আলোর মিছিল। এ ছাড়া উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী সন্ধ্যা ৭টায় টাউন ক্লাব স্বাধীনতা মঞ্চে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com