বুধবার, ০৬ জুলাই ২০২২, ০৭:২৩ পূর্বাহ্ন

ফুলবাড়ীতে তালের চাহিদা বাড়লেও, কমছে তালগাছ, বাড়ছে বজ্রপাত

মিতু আক্তার, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ

 

 

 

 

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে জমে উঠেছে মৌসুমী ফল তালের শাস বিক্রি। প্রত্যেকটি তালের শাসের দোকানে সব বয়সী ক্রেতাদের ভিড় থাকছে নিত্যদিন।

 

 

পৌরশহরসহ ইউনিয়ন পর্যায়ের হাটবাজারসহ গুরুতপূর্ণ জনবসতি স্থানে প্রতিদিন কাঁচা তাল নিয়ে বসছেন ব্যবসায়ীরা। প্রতি পিস তালের শাস (কাঁচা তাল) বিক্রি হচ্ছে ২০-৩০ টাকা হিসেবে।

 

 

ভিমলপুরে সাবেক ইউপি সদস্য আবুল কাশেম বলেন, আগের মত তাল পাওয়া যায় না। আগে রাস্তার পাশে তালের রস নিয়ে বসত, সেটি এখন আর দেখা যায় না। এখন কাঁচা তালের শাঁস খাচ্ছি। কিছুদিন পর এটিও পাওয়া যাবে না। কারণ যেভাবে তালের গাছ কাটা হচ্ছে, তাতে তাল গাছ শূন্য হতে বেশিদিন সময় লাগবে না। আগে ৪০-৫০ টাকায় এক হালি (৪টি) তাল পাওয়া গেলে এখন লাগছে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা।

 

 

তালের শাস কিনতে আসা আব্দুর রহিম বলেন, তাল একটি মৌসুমি ফল, এটি অনেক সুস্বাদু ও উপকারী। তাল গাছ কমে যাওয়ায় আগের থেকে এখন দাম বেশি। তালের স্বাদ ধরে রাখা ও গ্রামীণ ঐতিহ্য রক্ষার জন্য সরকারিভাবে তাল গাছ রোপণের কর্মসূচি নেওয়া উচিৎ।

 

 

মৌসুমি ফল তালের শাস বিক্রেতা রফিক মিয়া বলেন, চার বছর ধরে তালের শাস বিক্রির ব্যবসা করছেন। গত দুই বছর করোনার কারণে ব্যবসা ভালো হয়নি। এ বছর ব্যবসা ভালো হলেও তালের দাম বেশি এবং তাল পাওয়া যাচ্ছে না।

 

 

এক যুগ ধরে তালের শাস বিক্রেতা মো. আলী বলেন, আগে এক ছড়া কাঁচা তালের দাম ছিল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। এখন সেই ছড়া কিনতে হচ্ছে এক থেকে দেড় হাজার টাকায়। এ কারণে খুচরা বিক্রিতেও দাম বেড়ে গেছে। তালের শাস বিক্রি করে প্রতিদিন লাভ হয় এক থেকে দেড় হাজার টাকা।

 

 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা’ মন্ত্রাণালয় একটি লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিয়ে বজ্রপাত সহনশলী এই তাল গাছের বীজ ও চারা রোপণ করার উদ্যোগ নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ১৩ হাজার তাল বীজ বোপন করা হয়েছে। কিন্তু সেই বীজের গাছের কোন অস্তিত্ব দেখা যায় না।

 

উপজেলা কৃষি কর্মকতা রুম্মান আক্তার বলেন, তাল গাছের সংখ্যা কিংবা তাল সংক্রান্ত কোন তথ্যই কৃষি অফিসে নেই। তিনি বলেন, তালগাছের গুরুত্ব না বুঝে কেটে ফেলা হচ্ছে। যেহেতু তালগাছে বছরে একবার ফলন হয়, লাভ কম বলেই তালগাছ কেটে ফল বা কাঠের গাছ লাগানো হচ্ছে।

 

উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা মো. শাফিউল ইসলাম বলেন, তাল গাছের বীজ রোপণের জন্য দপ্তর থেকে কাজ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে প্রায় ১৩ হাজার তাল গাছের বীজ বোপণ করা হয়েছে। বরাদ্দ সাপেক্ষে আগামীতে আরো বোপন করা হতে পারে।

 

 

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com