বুধবার, ০৬ জুলাই ২০২২, ০৬:৫৯ পূর্বাহ্ন

সাহায্য চাই না, মহারশি নদীতে বেড়িবাঁধ চাই

খবরের আলো :

শাহরিয়ার মিল্টন,শেরপুর :

তিল করে গড়ে তোলা খামারটি চোখের সামনে পাহাড়ি ঢলে ভেসে গেলো। এতে আমার প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। আমি এই ক্ষতিপূরণ চাই না, কোনো সাহায্য চাই না, আমার জীবনের বিনিময়ে হলেও এই মহারশি নদীতে একটা স্থায়ী বেড়িবাঁধ চাই। বেড়িবাঁধ না হলে, আমাদের স্থায়ী সমস্যার সমাধান কোনোদিনও হবে না। সরকারের কাছে অনুরোধ করি, আমাদের এই নদীর দুই পাড়ে বেড়িবাঁধ করে দেন।’ আক্ষেপ নিয়ে কথাগুলো বলেন শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার ব্রিজপাড় এলাকার বেনিয়ামিন। গত ১৬ জুন রাতের ভারি বৃষ্টিপাত ও উজান থকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে সৃষ্ট বন্যায় প্রবল স্রোতে মহারশি নদীর রামেরকুড়া এলাকার তীর ভেঙে তার বসতভিটা ও চারটি মুরগির খামার ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। মুরগির খামারে বিভিন্ন জাতের মুরগি, ডিম ও ঘর, আসবাবসহ তার ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২০ লাখ টাকা।

একইভাবে কান্নাজড়িত কণ্ঠে রামেরকুড়া এলাকার লোকমান বলেন, ‘এবারের দুই দফায় বন্যায় আমার শেষ সম্বল ঘরটাও নিয়ে গেছে সর্বনাশা মহারশি। এই নদী প্রতি বছরই ভাঙে। কোনো টেকসই বাঁধ না থাকার কারণে দুই পাড় ভেঙে লাখ লাখ টাকার ক্ষতি হয়, ঘর বাড়ি ভাসিয়ে নিয়ে যায়। এই ক্ষতি থেকে বাঁচতে আমাদের এই নদীর তীরে স্থায়ী বাঁধের কোনো বিকল্প নেই।’

এবারের বন্যায় ভয়াবহ ভাঙনের কবলে পড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঝিনাইগাতী সদর ইউনিয়নের রামেরকুড়া গ্রাম। এই গ্রামের সাত স্থানে ভেঙে গেছে বাঁধ। ব্রিজপাড় সংলগ্ন এই অংশে ভাঙনের ফলে ঝিনাইগাতী সদর বাজার রক্ষা পেলেও ধ্বংসযজ্ঞ চলে রামেরকুড়া গ্রামে। ১৭ জুন দুপুরে রামেরকুড়া বাঁধের সঙ্গে চার বাড়ি ও দুটি মুরগির খামার ভেসে গেছে। সেইসঙ্গে ওই গ্রামের বেশ কয়েকটি বাড়ির মানুষ পানিবন্দি হয়ে আটকে পড়েন।

স্থানীয়রা বলেন, প্রতি বছরই মহারশি নদীর পানির তোড়ে ভাঙনের সৃষ্টি হয়। এর স্থায়ী সমাধান না হলে জানমালের অনেক ক্ষতি হচ্ছে। দ্রæত একটি বেড়িবাঁধ দেওয়া না হলে ভবিষ্যতেও অনেক বড় ক্ষতি হবে ঝিনাইগাতীবাসীর।

ঝিনাইগাতী ক্ষুদ্র বণিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহমেদ বলেন, মহারশি নদীর ভাঙনের ফলে প্রতি বছর বর্ষার সময় ঝিনাইগাতী উপজেলা পরিষদ, সরকারি দপ্তর ও সদর বাজার হুমকির মুখে পড়ে। পাড় ভেঙে পুরো ঝিনাইগাতী তলিয়ে যায়। বাজার ভেসে যায়, ব্যবসায়ীদের ভয়াবহ ক্ষতি হয়। তাই মহারশি নদীর তীরবর্তী বেড়িবাঁধ খুবই প্রয়োজন।
ঝিনাইগাতী সদর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. জাহিদুল হক মনির বলেন, এই বাঁধটি ঝিনাইগাতীবাসীর প্রাণের দাবি। মহারশি নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলো প্রতি বছর প্লাবিত হয়। এই তীর ভেঙেই পুরো ঝিনাইগাতীতে পানি প্রবেশ করে। এখানে একটি স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ জরুরি।

শেরপুর জেলা প্রশাসক সাহেলা আক্তার বলেন, ইতোমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে কথা হয়েছে, আমি একটি চিঠিও পাঠিয়েছি। আশা করছি এ বছরই এর স্থায়ী সমাধান করা সম্ভব হবে ।

 

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com