বুধবার, ০৬ জুলাই ২০২২, ১১:৫৮ অপরাহ্ন

হোটেল ম‍্যানেজমেন্ট না পড়তে পারার অভিমানে ছাদ থেকে ঝাঁপ দিয়ে ছাত্রের আত্মহত্যা

কবরের আলো :

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ সুজন চক্রবর্তীঃ

বাবার আর্থিক অবস্থা ভাল নয়। কিন্তু উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হতে চেয়ে ছিলেন ছেলে। হোটেল ম‍্যানেজমেন্ট পড়তে চেয়েছিলেন। অভিভাবকদের ক্ষমতা ছিল না কোনও বেসরকারি কলেজে ছেলেকে পড়ানোর। সেটাই কাল হল। হোটেল ম‍্যানেজমেন্ট না পড়তে পারাল অভিমানেই বন্ধুর বাড়ির ছাদ থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হলেন উচ্চ মাধ‍্যমিক উত্তীর্ণ এক ছাত্র। পুলিশ জানিয়েছেন, ভারতের দক্ষিণ কলকাতার যাদবপুরে এই ঘটনাটি সংগঠিত হয়েছে।

মৃত ওই তরুণের নাম শুভ্রাংশু মুখোপাধ‍্যায়( ১৮)। চলিত বছরে ভাল নম্বর নিয়ে উচ্চ মাধ‍্যমিক পাশ করেছেন তিনি। বহুদিন ধরেই স্বপ্ন ছিল হোটেল ম‍্যানেজমেন্ট পাশ করে বড় একটি হোটেলে চাকরি করার। এরপর নিজে একটি রেস্তোরা খুলবেন। ছোটবেলা থেকে এমনও স্বপ্ন দেখতেন তিনি। রান্নার উপর আগ্রহ ছিল। কিন্তু সব স্বপ্ন ভেঙ্গে চুরমার করে দেয় আর্থিক অবস্থা। পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনার নরেন্দ্রপুর থানার অন্তগর্ত ফরতাবাদের বাসিন্দা শুভ্রাংশুর বাবা স্নেহাংশু মুখোপাধ‍্যায় ওই এলাকারই একটি ওষুধের দোকানের কর্মী।

তিনি চাইতেন ছেলে পড়াশোনা চালিয়ে যান। কিন্তু আর্থিক সমস‍্যাই বাধা হয়ে দাঁড়ায়। স্নেহাংশু ছেলেকে কিছুদিন পূর্বে জানিয়েছেন, হোটেল ম‍্যানেজমেন্ট পড়ানোর ক্ষমতা তাঁর নেই। ছেলেকে অন‍্য কলেজে ভর্তি হতে বলেন। এতেই ভেঙ্গে পড়েন শুভ্রাংশু। বিষয়টি নিয়ে মা ও বাবার সঙ্গে ঝগড়াও হয় তরুণের। অভিভাবকরা বকাবকি ও করেন। ছেলেটি ঋণ নেওয়ার ও পরামর্শ দিয়েছিল অভিভাবকদের। কিন্তু সেই ঋনের টাকা ও শোধ করা সহজ ব‍্যাপার নয়।

এই নিয়ে গোলমালের পর গত শনিবার সন্ধ্যায় ওই তরুণ কাউকে কিছু না জানিয়ে বাড়ি থেকে বেড়িয়ে যান। অভিভাবকরা কোথাও খোঁজাখুঁজি করে তাঁকে পাননি। রবিবার মাকে ফোন করে জানান, তিনি বাঘা যতীনের কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে খুব ভাল ও শান্তিতে আছেন। বাড়ি ফিরবেন না। তখন সামান‍্য কথা কাটাকাটি ও হয়। বন্ধুরা যাদবপুর থানার পুলিশকে জানিয়েছেন যে, শনিবার রাতে তাঁদের বাড়িতে আসার পর থেকেই মানসিক অবসাদে ভুগতে থাকেন শুভ্রাংশু।

তিনি অস্বাভাবিক আচরণও করছিলেন। বন্ধুরা তাঁকে বোঝান। সোমবার সন্ধ্যায় সাড়ে সাতটার পর তিনি বাড়ির ছাদে উঠেন। রাতে পৌনে আটটার নাগাদ চারতলা বাড়ির ছাদ থেকে ঝাঁপ দেন। চিৎকার ও শব্দ শুনে বাড়ির বাসিন্দা ও বন্ধুরা রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে পড়ে থাকতে দেখেন। ঢাকুরিয়া অঞ্চলের একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁকে ভর্তি করা হয়। গভীর রাতে তাঁর মৃত্যু হয়। অভিভাবকরা ও কারও বিরুদ্ধে কোনো ও অভিযোগ দায়ের করেননি। ঘটনাটির তদন্ত চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com