মোঃ কামাল উদ্দিন সাতক্ষীরা প্রতিনিধি ঃ
সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের অভয়ারণ্য এলাকায় অবৈধভাবে প্রবেশ করে কাঁকড়া ও মাছ শিকারের অভিযোগে পৃথক দুটি বিশেষ অভিযান চালিয়েছে বন বিভাগ। এসব অভিযানে সাত জেলেকে আ’টক করা হয়েছে। এ সময় দুটি ডিঙি নৌকা, ৩০০ ফুট ফাঁস জাল, ১৫০ কেজি বিভিন্ন প্রজাতির সাদা মাছসহ বিপুল পরিমাণ মাছ ধরার সরঞ্জাম জ’ব্দ করা হয়।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) দিনব্যাপী সুন্দরবনের পুষ্পকাঠি ও কদমতলা স্টেশনের অধীন বিভিন্ন অভয়ারণ্য খালে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সাতক্ষীরা রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তার নির্দেশনা ও নেতৃত্বে গঠিত বিশেষ দল প্রথমে পুষ্পকাঠি অভয়ারণ্য কেন্দ্রের তালতলী খালে অভিযান চালায়। এ সময় অভয়ারণ্য এলাকায় অবৈধভাবে কাঁকড়া আহরণের অভিযোগে একটি ডিঙি নৌকা, ৫৭টি আটুন ও তিনটি প্লাস্টিকের ড্রাম জব্দ করা হয়। পরে জব্দ করা মালামাল সংশ্লিষ্ট ক্যাম্পে জমা দেওয়া হয়। এ ঘটনায় বন আইনে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
অন্যদিকে, দ্বিতীয় অভিযানটি পরিচালিত হয় কদমতলা স্টেশনের অধীন খিরিঙ্গি খালের অভয়ারণ্য অংশে। সেখানে অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করে অবৈধভাবে মাছ শিকারের অভিযোগে সাত জেলেকে আটক করা হয়। এ সময় একটি মাছ ধরার ডিঙি নৌকা, ৩০০ ফুট ফাঁস জাল, একটি ককশিট, একটি হাইল, একটি দাঁড়, দুটি বৈঠা, আনুমানিক ১৫০ কেজি বিভিন্ন প্রজাতির সাদা মাছ, নয়টি পানির ড্রাম, দুটি হুক ও একটি কুড়াল জব্দ করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার পাশেমারি এলাকার বাসিন্দা। তারা হলেন মোহাম্মদ তৈয়ব আলী (৫৫), পিতা জবান আলী গাজী; শাহাবাজ আলী (৫২), পিতা সৈয়দ আলী; আইয়ুব আলী গাইন (৫৫), পিতা রুহুল আমিন গাইন; ওয়াহিদুল ইসলাম (৫৪), পিতা আমিন আলী; ছালাম গাইন (৫৬), পিতা করিম গাইন; আব্দুর রউফ (৪০), পিতা অলি গাজী এবং মো. আলিম (৩৮), পিতা আব্দুল রশিদ।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা রেঞ্জের বুড়িগোয়ালিনী বন স্টেশন কর্মকর্তা (এসও) মো. এরফান উদ্দিন বলেন, “সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য, বন্যপ্রাণী ও মৎস্যসম্পদ রক্ষায় সরকার জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। সুন্দরবনের অভয়ারণ্য এলাকায় যেকোনো ধরনের প্রবেশ ও শিকার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বন বিভাগের নজরদারি এড়িয়ে অপরাধ করার কোনো সুযোগ নেই। সুন্দরবন রক্ষায় এ ধরনের বিশেষ অভিযান ও কড়া পাহারা ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।”
বন বিভাগ সূত্রে আরও জানা গেছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বন আইনে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতে সোপর্দ করার কার্যক্রম চলছে।




