ভারতকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র, অভিযোগ বিজেপির

ভারতকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ করেছে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রাজনৈতিক দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। শুক্রবার (৬ ডিসেম্বর) রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

ভারতকে অস্থিতিশীল করে তোলার চেষ্টায় মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে পরিচালিত ‘ডিপ স্টেটের’ অন্যান্য শক্তিরা একযোগে কাজ করছে। এছাড়াও একদল অনুসন্ধানী সাংবাদিক এবং ভারতের বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধী এই তৎপরতায় জড়িত রয়েছেন বলে দলটি অভিযোগ করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত দুই দশকে নয়াদিল্লি ও ওয়াশিংটন নিজেদের মাঝে শক্তিশালী সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। কিছু মতপার্থক্য ও ভিন্ন অবস্থান থাকা সত্ত্বেও সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে উভয়পক্ষ। এর মাঝেই যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ভারতকে অস্থিতিশীল করে তোলার এই অভিযোগ বিস্ময়কর।

বৃহস্পতিবার বিজেপি বলেছে, রাহুল গান্ধীর কংগ্রেস পার্টি আদানি গ্রুপের ওপর ফোকাস করে অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক ওসিসিআরপির প্রকাশিত নিবন্ধকে ব্যবহার করেছে এবং সরকারের সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠতাকে কাজে লাগিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের চেষ্টা করছে।

বিজেপির অভিযোগ, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর অর্গানাইজড ক্রাইম অ্যান্ড করাপশন রিপোর্টিং প্রজেক্টে (ওসিসিআরপি) অর্থায়ন করে ভারতকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।

২৬৫ মিলিয়ন ডলারের একটি প্রকল্পের অংশ হওয়ার জন্য ভারতীয় কর্মকর্তাদের ঘুষের অভিযোগে আদানি গ্রুপের চেয়ারম্যান গৌতম আদানি এবং অন্য সাতজনকে গত মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অভিযুক্ত করা হয়েছে। যদিও এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে আদানি।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একাধিক পোস্ট করে এসব অভিযোগ তুলেছে বিজেপি। বৃহস্পতিবার এরকম এক পোস্টে বিজেপি বলেছে, ‘‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিশানা বানিয়ে ভারতকে অস্থিতিশীল করে তোলার পরিষ্কার উদ্দেশ্য রয়েছে ডিপ স্টেটের।’’

‘‘এই এজেন্ডার পেছনে সবসময়ই মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর…। ওসিসিআরপি ডিপ স্টেটের এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য ‘মিডিয়া টুল’ হিসেবে কাজ করেছে।’’

এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন মুখপাত্র রয়টার্সকে বলেছেন, ‘‘যুক্তরাষ্ট্রের সরকার সাংবাদিকদের পেশাগত উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য সহায়তা দিয়ে থাকে। তবে এই সহায়তা সংস্থাগুলোর সম্পাদকীয় সিদ্ধান্ত বা নীতিকে প্রভাবিত করে না।’’ তিনি বলেন, ‘‘এটা হতাশাজনক যে, ভারতের ক্ষমতাসীন দল এই ধরনের অভিযোগ করছে।’’

অন্যদিকে এক বিবৃতিতে ওসিসিআরপি বলেছে, ‘‘তারা একটি স্বাধীন গণমাধ্যম এবং তাদের সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক দল যুক্ত নেই। মার্কিন সরকার ওসিসিআরপিকে কিছু তহবিল সরবরাহ করলেও আমাদের সম্পাদকীয় নীতি ও প্রতিবেদনের ওপর তার কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই।’’

মন্তব্য করুন