
সরকার বদলালেও বদলায়নি দখলবাজদের চরিত্র
রাজনীতির মাঠে তারা চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী। একজন আরেকজনকে রাজনৈতিকভাবে নিশ্চিহ্ন করতে সদা তৎপর। কিন্তু রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাটের প্রশ্নে যেন সব বিভেদ ভুলে এক কাতারে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। রাজধানীর মিরপুরের দুয়ারিপাড়ায় জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের শতকোটি টাকা মূল্যের সরকারি জমি দখলকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্যে এসেছে সেই ভয়ংকর রাজনৈতিক আঁতাতের চিত্র।
রূপনগরের দুয়ারিপাড়ায় সেকশন-৮ ব্লক-খ, রোড নং-১ হইতে ৫ এর জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের মালিকানাধীন বিপুল পরিমাণ সরকারি জমি সম্প্রতি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে দখলমুক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু প্রশাসনের সেই অভিযান যেন ছিল সাময়িক। অভিযোগ উঠেছে, গত শনিবার সকাল থেকেই পুনরায় সংঘবদ্ধভাবে জমি দখলে নামে একটি ভূমিদস্যু চক্র। ১ নম্বর থেকে ৫ নম্বর রোডের পূর্ব পাশে থাকা প্রায় ৪০ ফুট প্রশস্ত সরকারি রাস্তা ঘিরে নির্মাণ করা হচ্ছে সীমানা প্রাচীর।
এমনকি দিনদুপুরে টিনশেড ঘর নির্মাণের প্রস্তুতিও চলে প্রকাশ্যে।
এই দখল সিন্ডিকেটের অন্যতম প্রধান কুশীলব হিসেবে স্থানীয়ভাবে পরিচিত আওয়ামী লীগ নেতা মোবারক হোসেন মেম্বারের নাম উঠে এসেছে। ছাত্র হত্যা মামলার এই আসামি বিগত সরকারের এক প্রভাবশালী সাবেক এমপির ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার করে আসছেন। অভিযোগ রয়েছে, গত এক দশকে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে জমি দখল, টেন্ডারবাজি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে গড়ে তুলেছেন বিশাল দখল সাম্রাজ্য।
তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও থেমে নেই তার দৌরাত্ম্য। বরং নিজের অবস্থান ধরে রাখতে এবার তিনি হাত মিলিয়েছেন স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতার সঙ্গে। অভিযোগ অনুযায়ী, বিএনপি নেতা আমজাদ হোসেন মোল্লা,নজরুল ইসলাম নজু, ও মো:শিহাব উদ্দিন, এখন মোবারক মেম্বারের এই দখল মিশনের প্রধান সহযোগী। তাদের প্রত্যক্ষ মদদে শিপু মোল্লা, দুলাল, চান্দি রাজু, আজিজুল হক,আক্তার হোসেন, স্বপন,আইজল,আরিফ,এরশাদ খোকন, সালাউদ্দিন,তরিকুল ইসলাম,সেলিম,ইউসুফ,জসিম, সাইফুল,শফিক,মো:বাশার,
সোহেল, আবুল কালাম,সোহেল আনসারী, সহ আরও কয়েকজন ভূমিদস্যু সরকারি জমি দখলে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, সাবেক ও বর্তমান রাজনৈতিক বলয়ের প্রভাবশালীদের এই ‘পলিটিক্যাল ককটেল’ এখন সাধারণ মানুষের জন্য আতঙ্কের আরেক নাম। সরকার পরিবর্তন হলেও দখলবাজদের চেহারা বদলায়, কিন্তু দখলের সংস্কৃতি বদলায় না—এমন মন্তব্যও করছেন অনেকে।
এ ঘটনায় জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমান রূপনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তবে প্রশ্ন রয়ে গেছে—রাষ্ট্রের শতকোটি টাকার সম্পদ কি আদৌ উদ্ধার হবে? নাকি রাজনৈতিক ছত্রছায়া ও প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের শক্তির কাছে আবারও হার মানবে আইন ও প্রশাসন? মিরপুরবাসী এখন সেই উত্তরই খুঁজছে।




