
মাগুরা প্রতিনিধি:
মাগুরা সদর উপজেলার কলেজপাড়া এলাকায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘদিন শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন, পরে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের হয়েছে।
মামলার বাদী সম্পা বিশ্বাস (২৯), পিতা: কার্তিক বিশ্বাস, গ্রামের বাড়ি তাঁতীপাড়া, মাগুরা সদর। তিনি বর্তমানে কলেজপাড়া এলাকার পুরাতন পাসপোর্ট অফিসের পাশের জিল্লুর রহমানের বাড়ির নিচতলায় ভাড়া বাসায় বসবাস করেন।
মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে রায়হান মিয়া (৩২), পিতা: বাকী মিয়া, গ্রাম ভায়না, থানা ও জেলা মাগুরা।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে বাদী ও অভিযুক্তের পরিচয় হয়। সে সময় বাদী স্বামীর সঙ্গে দাম্পত্য জীবনে ছিলেন। পরবর্তীতে পারিবারিক কারণে স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হলে অভিযুক্ত রায়হান মিয়া নিয়মিত তার বাসায় যাতায়াত শুরু করেন। একপর্যায়ে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে দীর্ঘদিন শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
বাদীর দাবি, পরবর্তীতে তিনি বিয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করতে চাইলে অভিযুক্ত বিভিন্নভাবে এড়িয়ে যান। গত ২৫ মে ২০২৬, সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে কলেজপাড়ার ভাড়া বাসায় এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এ সময় অভিযুক্ত তাকে মারধর, গালিগালাজ এবং হত্যার হুমকি দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বাদীর গলাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলেও পরিবারের দাবি।
এদিকে, বাদীপক্ষের অভিযোগ, প্রথমদিকে মাগুরা সদর থানায় মামলা গ্রহণে গড়িমসি করা হয়। পরে ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা যাচাই শেষে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রুজু করা হয়।
বাদীপক্ষ আরও দাবি করেছে, অভিযুক্ত ধর্ষণকারী বিএনপি কৃষকদলের মাগুরা সদর থানার আহ্বায় বলে জানান, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মামলা গ্রহণে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত বা সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাদী জানান, মামলা দায়েরের পর থেকেও তিনি ও তার পরিবার নিয়মিত প্রাণনাশের হুমকি পাচ্ছেন। এ কারণে তারা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
এ ঘটনায় এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দোষী প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
উল্লেখ্য, মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন। অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তের বক্তব্য এখনও পাওয়া যায়নি।




