উত্তর গাজার বেইত লাহিয়ায় একটি বহুতল আবাসিক ভবনে ইসরায়েলি হামলায় পঞ্চাশ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত বা আহত হয়েছেন। রোববার রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
তবে কতজন নিহত বা আহত হয়েছেন তাৎক্ষনিকভাবে এর সঠিক হিসেব জানা নেই বলে জানান তারা। ভবনটিতে অন্তত ছয়টি পরিবারের সদস্যরা বসবাস করতেন বলে ধারণা করছেন চিকিৎসক ও বাসিন্দারা।
ফিলিস্তিনের জরুরি উদ্ধারকারী সংস্থা- দ্য প্যালেস্টানিয়ান সিভিল ইমার্জেন্সি জানিয়েছে যে প্রায় ৭০ জন লোক ঐ ভবনে বাস করত।
এদিকে হামাস পরিচালিত গাজার সরকারি মিডিয়া অফিসে নিহতদের সংখ্যা ৭২ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
রোববার হামাসের মিত্র ইসলামিক জিহাদের সশস্ত্র শাখার এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বেইত লাহিয়ায় যুদ্ধের সময় যোদ্ধারা ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর একটি গাড়ি বিস্ফোরণ ঘটায়। যদিও এ দাবির বিষয়ে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর আগের দিন, একটি ইসরায়েলি বিমান হামলায় কেন্দ্রীয় গাজা উপত্যকার বুরেজ ক্যাম্পে কমপক্ষে ১০ জন নিহত হয়েছিল।
গত মাসে বেইত লাহিয়া এবং পাশের শহর বেইত হানুন এবং জাবালিয়াতে ট্যাংক পাঠিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাসের হামলা ঠেকাতে এবং তারা যেন নতুন করে ঐক্যবদ্ধ হতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ইসরায়েলি বাহিনীর দাবি, ওই তিন এলাকায় তাদের হামলায় কয়েক শ হামাস সদস্য নিহত হয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেছেন, ইসরায়েলি বাহিনী ওই এলাকাগুলোকে গাজা নগরী থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রেখেছে।
তারা আরও দাবি করছে যে, গাজায় এখনো অনেকে জিম্মি আছেন। হামাসের হামলার জবাবে একই দিন থেকে গাজা উপত্যকায় হামলা শুরু করে ইসরায়েল।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুসারে, এ পর্যন্ত ইসরায়েলের হামলায় ৪৩ হাজার ৭৯৯ জন নিহত হয়েছেন।