আলেপ্পো দখলে বিদ্রোহী গোষ্ঠী হায়াত আল-শাম, এরা কারা!

সিরিয়ায় প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ সরকারের বিরুদ্ধে কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় আক্রমণ চালিয়েছে বিদ্রোহীরা। গত বুধবার শুরু হওয়া এই আক্রমণের ধারাবাহিকতায় শনিবারের মধ্যে বিদ্রোহীরা দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর আলেপ্পোর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়।

সরকারি বাহিনীর ওপর বিদ্রোহীদের আকস্মিক এই আক্রমণের জেরে রাশিয়া ২০১৬ সালের পর প্রথমবারের মতো আলেপ্পোতে বিমান হামলা চালায়। তবে তাতেও সরকারি সেনারা আক্রমণের মুখে টিকে থাকতে না পেরে শহর ছেড়ে সরে যেতে বাধ্য হয়।

বিদ্রোহীদের এই অভিযানকে নেতৃত্ব দিচ্ছে ইসলামপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস)। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা সিরিয়ার সংঘাতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত এই গোষ্ঠী উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় আলেপ্পোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর এখন উত্তরের হামা প্রদেশের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

সিরিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা সানা জানিয়েছে, বিদ্রোহীদের এই অপ্রত্যাশিত আক্রমণ বাশার সরকারের জন্য গত কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলমান যুদ্ধে এমন নাটকীয় মোড়ের ফলে সিরিয়ার রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।

হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস): সিরিয়ার বিদ্রোহীদের অন্যতম শক্তিশালী গোষ্ঠী

হায়াত তাহরির আল-শাম, সংক্ষেপে এইচটিএস, ২০১১ সালে ‘জাবহাত আল-নুসরা’ নামে প্রতিষ্ঠিত একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী, যা প্রথমে আল-কায়েদার সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত ছিল। ইসলামিক স্টেটের (আইএস) নেতা আবু বকর আল-বাগদাদিও এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সরকারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এইচটিএসকে অন্যতম কার্যকর ও প্রাণঘাতী বিদ্রোহী গোষ্ঠী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

প্রাথমিকভাবে এইচটিএসের বিপ্লবী চেতনার চেয়ে এর কার্যক্রমে ইসলামি আদর্শের প্রভাব বেশি দেখা গেছে। যদিও তারা সিরিয়ার অন্যান্য বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে একীভূত হয়নি, বরং ‘ফ্রি সিরিয়া’ ব্যানারের বিদ্রোহী জোটের সঙ্গে তাদের শুরুতে বিরোধ ছিল।

২০১৬ সালে এইচটিএসের নেতা আবু মোহাম্মদ আল-জাওলানি আল-কায়েদার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দেন। একইসঙ্গে ‘জাবহাত আল-নুসরা’ বিলুপ্ত করে নতুন সংগঠন হিসেবে ‘হায়াত তাহরির আল-শাম’ প্রতিষ্ঠা করা হয়। ২০১৭ সালে আরও কয়েকটি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে একীভূত হয়ে এইচটিএস আরও শক্তিশালী হয়।

বর্তমানে, এইচটিএস সিরিয়ার সংঘাতে একটি প্রধান শক্তি হিসেবে সক্রিয় এবং প্রেসিডেন্ট বাশারের সরকারের জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

 

মন্তব্য করুন