আলি আসরাফ লিটন
ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতসহ নিম্ন আদালত প্রাঙ্গণে পর্যাপ্ত ও পরিচ্ছন্ন পাবলিক টয়লেটের সংকটে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ ও বিচারপ্রার্থীরা। আদালতে মামলার শুনানি, জামিন কিংবা বিভিন্ন আইনি কাজে আসা মানুষের দীর্ঘ সময় অবস্থান করতে হলেও প্রয়োজনের সময় সহজে ব্যবহারের উপযোগী টয়লেট সুবিধা পাওয়া কঠিন বলে অভিযোগ রয়েছে।
আদালত ভবনের ভেতরের বেশ কিছু ওয়াশরুম সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত নয়। আইনজীবী, আদালতের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যবহারের জন্য এসব ওয়াশরুম অনেক সময় তালাবদ্ধ রাখা হয়। ফলে জরুরি প্রয়োজনে সাধারণ মানুষকে আদালত প্রাঙ্গণের নির্দিষ্ট কিছু পাবলিক টয়লেট কিংবা আশপাশের স্থাপনার ওপর নির্ভর করতে হয়।
আদালত চত্বরে থাকা কিছু পাবলিক টয়লেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে নির্ধারিত হারে টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রস্রাব, হাত-মুখ ধোয়া কিংবা শৌচাগার ব্যবহারের ক্ষেত্রে আলাদা হারে অর্থ দিতে হয়। তবে এসব টয়লেটের পরিচ্ছন্নতা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
আদালত প্রাঙ্গণে অবস্থিত আইনজীবী সমিতি ভবনের আশপাশেও কিছু ওয়াশরুম ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। তবে সেগুলোর সবগুলো সাধারণ বিচারপ্রার্থী বা দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত কি না, তা নিয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা নেই।
এ ছাড়া জরুরি প্রয়োজনে আদালতের আশপাশের মসজিদ, বাণিজ্যিক ভবন কিংবা অন্যান্য স্থাপনার ওয়াশরুম ব্যবহার করতে দেখা যায় অনেককে। এতে বিশেষ করে নারী, বয়স্ক ব্যক্তি, শিশু ও অসুস্থ বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে।
আদালত প্রাঙ্গণের মতো জনসমাগমপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পর্যাপ্ত, পরিচ্ছন্ন এবং সহজে ব্যবহারযোগ্য পাবলিক টয়লেট থাকা নাগরিক সেবারই একটি অংশ। বিচারপ্রার্থী ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন টয়লেট স্থাপন, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা এবং কোন ওয়াশরুম কারা ব্যবহার করতে পারবেন—সে বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন ভুক্তভোগীরা।




