
স্টাফ রিপোর্টার। আবু বক্কর সিদিক্ক
শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কার্যালয়ে ঢুকে সেখানকার এক অফিস সহকারীকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মতিউর রহমান সাগরের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নড়িয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
বুধবার (৮ জুলাই) হওয়া জিডি সূত্রে জানা গেছে, গত ২ জুলাই দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে নড়িয়া উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করছিলেন অফিস সহকারী মো. তৌফিকুল ইসলাম। এ সময় মতিউর রহমান সাগর কার্যালয়ে প্রবেশ করে উপজেলা প্রকৌশলীর খোঁজ করেন। প্রকৌশলী অফিসে না থাকায় তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে কর্মকর্তাদের উদ্দেশে অশালীন মন্তব্য করতে থাকেন।
একপর্যায়ে তৌফিকুল ইসলাম প্রতিবাদ করলে মতিউর রহমান সাগর নিজেকে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক পরিচয় দিয়ে তার শার্টের কলার চেপে ধরে চড়-থাপ্পড় দেন বলে জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, মারধরের সময় মতিউর রহমান সাগর বলেন, উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার মেহেদী ও উপসহকারী প্রকৌশলী মাসুদ রুমিকে মারার জন্য আসছিলাম। তাদের না পেয়ে তোকেই নমুনা দেখিয়ে গেলাম।
কার্যালয় ত্যাগের সময় মামলা করলে আবারও মারধর এবং অফিসে থাকতে না দেওয়ার হুমকি দেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
নড়িয়া উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ মেহেদী হাসান বলেন, আমি ঐদিন অফিসে ছিলাম না এবং ভয়ে আমার স্টাফরা আমাকে কিছু জানায়নি, গত এক সপ্তাহ আগে বিষয়টি আম জানতে পেরে তাৎক্ষণিক আমি উপজেলা নির্বাহী মহোদয়ের সাথে আলাপ করে গতকাল বুধবার (০৮ জুলাই) নড়িয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করার সিদ্ধান্ত দেই।
ভুক্তভোগী তৌফিকুল ইসলাম বলেন, মতিউর রহমান অফিসে এসে কর্মকর্তাদের না পেয়ে গালাগাল শুরু করেন। আমি অযথা গালাগাল করতে নিষেধ করলে আমার শার্টের কলার চেপে ধরে চড়-থাপ্পড় দেন। পরে মামলা না করার জন্যও হুমকি দেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অভিযুক্ত মতিউর রহমান সাগরের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাহার মিয়া বলেন, এলজিইডি কার্যালয়ে গিয়ে মারধর ও হুমকির অভিযোগে অনলাইনে একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় নড়িয়া উপজেলা কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।