ইতালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইডো ক্রোসেত্তো আজ গাজা অভিমুখী একটি ফ্লোটিলাকে সহায়তা দিতে এক নৌবাহিনীর রণতরি পাঠিয়েছে। ফ্লোটিলার আয়োজকরা জানিয়েছিল, তাদের বেশ কয়েকটি নৌকা গ্রিস উপকূলে একাধিক ড্রোনের লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল।
বুধবার (২৪ সেপ্টেম্ব) মিডলইস্ট আই-এর প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার গভীর রাতে, কর্মীরা বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পান এবং গ্রিসের উপকূলে অবস্থিত তাদের কিছু নৌকাকে লক্ষ্য করে ড্রোন দেখতে পান।
গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা জানিয়েছে, গ্রিস উপকূলে যাত্রার সময় মঙ্গলবার রাতে তাদের চারপাশে এক ডজনেরও বেশি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং ‘অজ্ঞাত বস্তু’ ডেকে পড়ায় ক্ষয়ক্ষতি হয়। গ্রিসের উপকূলে অবস্থিত তাদের কিছু নৌকাকে লক্ষ্য করে ড্রোনও দেখতে পান।
ক্রোসেত্তো এক বিবৃতিতে বলেন, ফ্লোটিলায় থাকা ইতালীয় নাগরিকদের সহায়তা নিশ্চিত করতে আমি প্রধানমন্ত্রী সঙ্গে কথা বলেছি এবং অবিলম্বে ইতালীয় নৌবাহিনীর বহুমুখী রণতরি ফাসান পাঠানোর অনুমোদন দিয়েছি। এটি ক্রিট দ্বীপের উত্তর দিকে অপারেশন সেফ সির অংশ হিসেবে টহল দিচ্ছিল।
তিনি জানান, জাহাজটি ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলের দিকে রওনা হয়েছে সম্ভাব্য উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী এই ড্রোন হামলা’র অজ্ঞাতপরিচয় হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ‘কঠোর নিন্দা জানিয়েছেন।
ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্তোনিও তাজানি ইসরায়েলের কাছে অনুরোধ করেছেন, যেন ইতালীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়, যাদের মধ্যে সংসদ সদস্য ও ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্যরাও রয়েছেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ইসরায়েলকে আগেই অবহিত করা হয়েছিল—তাদের হাতে যেকোনো অভিযান আন্তর্জাতিক আইন এবং সর্বোচ্চ সতর্কতার নীতি মেনে পরিচালিত হতে হবে।
তাজানি আরও জানান, তেল আবিবে ইতালীয় দূতাবাসকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি ইসরায়েলি সরকারের কাছে আবারও অনুরোধ জানাতে যেন ফ্লোটিলার কর্মীদের ‘পূর্ণ নিরাপত্তা’ নিশ্চিত করা হয়।
গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা চলতি মাসের শুরুতে বার্সেলোনা থেকে যাত্রা শুরু করে, উদ্দেশ্য ছিল ইসরায়েলের অবরোধ ভেঙে গাজায় ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া। বর্তমানে এতে ৫১টি নৌযান রয়েছে, যার বেশির ভাগ গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের কাছে অবস্থান করছে।
এর আগে, তিউনিসিয়ায় যোগ দেওয়ার অপেক্ষায় থাকা জাহাজগুলোও দুটি সন্দেহজনক ড্রোন হামলার শিকার হয়েছিল। সুইডিশ জলবায়ু কর্মী গ্রেটা থানবার্গও উত্তর আফ্রিকায় এই যাত্রায় যোগ দেন। ইসরায়েল জুন ও জুলাই মাসে সমুদ্রপথে গাজায় পৌঁছনোর দুই প্রচেষ্টা আটকে দিয়েছিল। তারা সোমবার জানিয়েছে, এই ফ্লোটিলাকেও অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে পৌঁছতে দেবে না।