নির্মাণাধীন “মসজিদুল আকবর কমপ্লেক্সে” ছাঁদ ধস কন্ট্রাকটর ও প্রকৌশলীর গাফিলতির অভিযোগ।

রিপোর্ট : কাজী শরিফ নেওয়াজ

নির্মাণাধীন “মসজিদুল আকবর কমপ্লেক্স”-এ ছাঁদ ঢালাইয়ের সময় ভয়াবহ দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল রাত আনুমানিক ১১টার দিকে ভবনের ছাঁদ ঢালাই চলাকালে হঠাৎ করেই একটি অংশ ধসে পড়ে। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। এ ঘটনায় অন্তত একজন শ্রমিক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।


ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও নির্মাণ সংশ্লিষ্টরা ভবনটি পরিদর্শন করে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন, নির্মাণকাজে চরম অবহেলা ও নিম্নমানের সাপোর্ট ব্যবস্থার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।
জানা গেছে, যে ফ্লোরে ঢালাইয়ের কাজ চলছিল তার উচ্চতা ছিল প্রায় ২০ ফুট। অথচ এত উঁচু ছাঁদের ঢালাই কাজে প্রয়োজনীয় মানসম্পন্ন সাপোর্ট বা ভারবহন সক্ষম স্ক্যাফোল্ডিং ব্যবহার না করে বাঁশের ওপর জোড়া লাগানো অস্থায়ী কাঠামোর মাধ্যমে কাজ পরিচালনা করা হচ্ছিল।
স্থানীয় নির্মাণ বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টদের ভাষ্যমতে, এত উচ্চতায় ছাঁদ ঢালাইয়ের ক্ষেত্রে বাঁশের সাপোর্ট অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সামান্য ত্রুটিতেই বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাদের অভিযোগ, অধিক মুনাফার আশায় কন্ট্রাকটর ও দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী নিরাপত্তা বিধি উপেক্ষা করে নিম্নমানের পদ্ধতিতে কাজ পরিচালনা করেছেন।
ঘটনার পর এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাদের আশঙ্কা, সামান্য সময়ের ব্যবধান বা আরও কিছু শ্রমিক উপস্থিত থাকলে ভয়াবহ প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারত। এলাকাবাসী দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে নির্মাণ কমিটির সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেননি। কন্ট্রাকটর ও প্রকৌশলীদের তথ্য প্রকাশে তার নীরবতা নতুন করে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। প্রতিবেদকের ফোন রিসিভ না করা এবং বক্তব্য এড়িয়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যেও কৌতূহল ও সন্দেহ বাড়ছে।
সচেতন মহলের মতে, নির্মাণকাজে নিরাপত্তা বিধি নিশ্চিত না করা, প্রকৌশল তদারকির ঘাটতি এবং দায়িত্বহীনতার কারণেই এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে। তারা অবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় কন্ট্রাকটর ও প্রকৌশলীর গাফিলতির বিস্তারিত তথ্য ও অনুসন্ধান থাকছে আগামী পর্বে।

মন্তব্য করুন