
২০২৫ সালের কর্মসূচিতে বাংলাদেশকে নতুন করে ২ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন ডলার অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৫৫ পয়সা ধরে বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ৩১ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা। যা ২০২৪ সালের ১ দশমিক ১৮ বিলিয়ন ডলারের প্রতিশ্রুতির দ্বিগুণেরও বেশি।
ওই কর্মসূচিতে কক্সবাজারে জ্বালানি, পরিবহন, ব্যাংকিং সংস্কার, নগর পরিষেবা, জলবায়ু স্থিতিস্থাপকতা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি আকারের উদ্যোগ (এসএমই) এবং জীবিকা ও পরিষেবার উন্নয়নে অগ্রাধিকারমূলক বিনিয়োগের লক্ষ্য রয়েছে। এ বছরের সার্বভৌম ঋণদান পোর্টফোলিও বিভিন্ন খাত এবং অর্থায়ন পদ্ধতির ভারসাম্যপূর্ণ মিশ্রণকে প্রতিফলিত করে।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) এডিবির ঢাকা কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
তিনি বলেন, ২০২৫ সালের প্রতিশ্রুতিগুলো বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের স্থায়ী অংশীদারত্ব এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) এবং অন্যান্য সরকারি মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতায় অর্থনৈতিক বৈচিত্র্য, উন্নত অবকাঠামো ও পরিষেবা এবং মানব উন্নয়নে যৌথ মনোযোগের ওপর জোর দেয়।
১০টি প্রকল্পে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ মোট ২.৫৭ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে পরিবহন খাতে প্রায় ৩৫ শতাংশ, অবকাঠামোতে ২৩ শতাংশ, সরকারি খাত ব্যবস্থাপনা ও শাসনব্যবস্থাকে শক্তিশালীকরণে ১৬ শতাংশ, জ্বালানি উদ্যোগে ১১ শতাংশ, পানি ও নগর উন্নয়নে ৯ শতাংশ এবং মানব ও সামাজিক উন্নয়নে ৬ শতাংশ অবদান রেখেছে।
এছাড়া উল্লেখযোগ্য হলো- ৫০০ মিলিয়ন ডলারের ব্যাংকিং খাত স্থিতিশীলকরণ ও সংস্কার কর্মসূচি (উপ-কর্মসূচি ১), যা রেগুলেশন, কর্পোরেট শাসন, সম্পদের গুণগত মান এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা শক্তিশালী করার লক্ষ্যে গৃহীত হয়েছে এবং ৪০০ মিলিয়ন ডলারের জলবায়ু-সহনশীল অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন কর্মসূচি (উপ-কর্মসূচি ২), যা জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি, জলবায়ু-সংবেদনশীল খাতে নির্গমন হ্রাস এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি প্রচারের জন্য পরিকল্পিত।
এডিবি জানিয়েছে, উন্নত প্রকল্প প্রস্তুতি ও পোর্টফোলিও ব্যবস্থাপনার কারণে ২০২৫ সালে প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি এসেছে। পাশাপাশি সার্বভৌম নয় এমন অর্থায়নের মাধ্যমে বস্ত্র, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বাণিজ্য অর্থায়ন, খাদ্য নিরাপত্তা, ক্ষুদ্রঋণ এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বে বেসরকারি বিনিয়োগে সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
অন্যান্য উন্নয়ন অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে এডিবি ৭২০ মিলিয়ন ডলার সহ-অর্থায়ন সংগ্রহে সহায়তা করেছে এবং বিদেশি বিনিয়োগ, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন ও সরকারি ঋণ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে নীতিগত সহায়তা দিয়েছে।
২০২৬ সালের দিকে তাকিয়ে এডিবি জানায়, অর্থনৈতিক করিডর উন্নয়ন, বহুমাত্রিক লজিস্টিকস জোরদার, সরকারি ও পুঁজিবাজার সংস্কার এগিয়ে নেওয়া, বেসরকারি খাতের বিকাশ এবং ডিজিটাল রূপান্তর ত্বরান্বিত করাই হবে তাদের মূল অগ্রাধিকার।