
রিপোর্ট:- মোঃ হাসিব
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ক্রীড়াবিদদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে আনতে জাতীয় পর্যায়ে আন্তর্জাতিক মানের একটি প্যারা ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে আগামী এক মাসের মধ্যে আরও ২০০ জন ক্রীড়াবিদকে ক্রীড়া ভাতার আওতায় আনার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকালে ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে এশিয়ান প্যারা গেমস ট্রেনিং ক্যাম্প-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সমাজের বোঝা নয়, বরং দেশের জন্য সম্ভাবনাময় সম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।
আমিনুল হক জানান, প্রধানমন্ত্রী বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ক্রীড়াবিদদের নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে আন্তর্জাতিক মানের একটি প্রতিযোগিতা আয়োজনের নীতিগত সম্মতি দিয়েছেন। সুযোগ হলে তিনি নিজেই ওই প্রতিযোগিতার উদ্বোধনে উপস্থিত থাকবেন।
তিনি বলেন, ‘যে সন্তানকে অনেক পরিবার লজ্জার কারণে আড়ালে রাখে, সেই সন্তানই একদিন অলিম্পিক, এশিয়ান গেমস বা প্যারা গেমসে বাংলাদেশের জন্য পদক এনে দিতে পারে। তাই তাঁদের নিয়ে লজ্জা নয়, গর্ব করার সময় এসেছে।’
প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে ৩০০ জন ক্রীড়াবিদ নিয়মিত ক্রীড়া ভাতা পাচ্ছেন। আগামী এক মাসের মধ্যে আরও ২০০ জনকে এই কর্মসূচির আওতায় এনে মোট ৫০০ জন ক্রীড়াবিদকে ভাতা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক বা উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জনকারী নতুন ক্রীড়াবিদদেরও পর্যায়ক্রমে ক্রীড়া ভাতার অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
তিনি বলেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ক্রীড়াবিদদের শুধু প্রতিযোগিতার আগে নয়, সারা বছর নিয়মিত প্রশিক্ষণের আওতায় রাখা হবে। তাঁদের আন্তর্জাতিক মানে গড়ে তুলতে দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ, প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা ও অবকাঠামো নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।
আমিনুল হক আরও বলেন, মিরপুর স্টেডিয়াম এলাকাকে একটি পূর্ণাঙ্গ স্পোর্টস হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ক্রীড়াবিদদের জন্য একটি আধুনিক ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণের বিষয়েও আলোচনা চলছে।
তিনি জানান, রাজধানীকেন্দ্রিক কার্যক্রমের বাইরে দেশের ৬৪ জেলায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ক্রীড়াবিদদের খুঁজে বের করে নিয়মিত প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। এ লক্ষ্যে ‘নতুন কুঁড়ি প্যারা স্পোর্টস’ নামে জাতীয় পর্যায়ের একটি প্রতিভা অন্বেষণমূলক কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
ক্রীড়াবিদদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা থাকবে। আমাদের একটাই প্রত্যাশা—আপনারা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের জন্য আরও সাফল্য ও পদক বয়ে আনবেন।’