শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলা বিএনপির সভাপতি পদে আলোচনার শীর্ষে রেজাউল করিম শ্যামল: তৃণমূল নেতা-কর্মীদের জোরালো প্রত্যাশা

শরীয়তপুর প্রতিনিধি:
শরীয়তপুর জেলার ডামুড্যা উপজেলা বিএনপির আসন্ন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দলীয় অঙ্গনে নতুন করে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে উপজেলা বিএনপির সভাপতি পদে সম্ভাব্য নেতৃত্বের তালিকায় সবচেয়ে বেশি আলোচিত নাম হিসেবে উঠে এসেছে মোঃ রেজাউল করিম শ্যামল। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, ত্যাগ-তিতিক্ষা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং তৃণমূলের সঙ্গে নিবিড় সম্পৃক্ততার কারণে দলীয় নেতা-কর্মীদের একটি বড় অংশ তাকে ডামুড্যা উপজেলা বিএনপির আগামী সভাপতি হিসেবে দেখতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন।

রাজনৈতিক পরিবারে বেড়ে ওঠা রেজাউল করিম শ্যামল ডামুড্যার অন্যতম কৃতিমান পুরুষ মরহুম আলহাজ্ব ফজলুর করিম মিয়ার সুযোগ্য সন্তান। ফজলুর করিম মিয়া ছিলেন শরীয়তপুর জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি, ডামুড্যা উপজেলা বিএনপির সাবেক দুইবারের সভাপতি এবং সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান। দীর্ঘ সময় ধরে এলাকায় তার রাজনৈতিক প্রভাব, জনপ্রিয়তা এবং দলের প্রতি অবদান আজও নেতা-কর্মীদের কাছে স্মরণীয় হয়ে আছে। সেই রাজনৈতিক ঐতিহ্য ও আদর্শ ধারণ করেই রাজনীতির মাঠে পথচলা শুরু করেন রেজাউল করিম শ্যামল।

ছাত্ররাজনীতি থেকেই তার রাজনৈতিক জীবনের ভিত্তি গড়ে ওঠে। তিনি ডামুড্যা উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি হিসেবে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি পূর্ব-মাদারীপুর কলেজ ছাত্র-ছাত্রী সংসদের ভিপি প্রার্থী ছিলেন। এছাড়াও তিনি কবি নজরুল কলেজ হল শাখা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।

ছাত্রদলের রাজনীতি থেকে শুরু করে মূলধারার রাজনীতিতে নিজের যোগ্যতা, নেতৃত্বগুণ ও সাংগঠনিক সক্ষমতার প্রমাণ দিয়ে বর্তমানে শরীয়তপুর জেলা বিএনপির শিল্প বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

দলীয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তিনি মাঠে সক্রিয় থেকেছেন। দল যখন দুঃসময় পার করেছে, তখনও তিনি নেতা-কর্মীদের সঙ্গে থেকে দলকে সংগঠিত রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। মামলা, হামলা, রাজনৈতিক চাপ কিংবা প্রতিকূল পরিবেশ—সবকিছু মোকাবিলা করেও তিনি দলীয় কার্যক্রমে অবিচল থেকেছেন বলে জানান স্থানীয় নেতা-কর্মীরা।

ডামুড্যা উপজেলা বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাদের বিশ্বাস—রেজাউল করিম শ্যামলের নেতৃত্বে উপজেলা বিএনপি আরও সুসংগঠিত, শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ হবে। তারা মনে করেন, তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্য, তৃণমূলের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক এবং সাংগঠনিক দক্ষতা আগামী দিনে দলকে আরও গতিশীল করতে বড় ভূমিকা রাখবে।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও মনে করছেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় ডামুড্যা উপজেলা বিএনপিকে নতুনভাবে সুসংগঠিত করতে অভিজ্ঞ, গ্রহণযোগ্য ও কর্মীবান্ধব নেতৃত্বের প্রয়োজন রয়েছে। সেই বিবেচনায় রেজাউল করিম শ্যামল একটি শক্তিশালী ও গ্রহণযোগ্য নাম হিসেবে উঠে এসেছে।

এদিকে আসন্ন উপজেলা বিএনপির কমিটি ঘোষণাকে ঘিরে নেতা-কর্মীদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। তৃণমূলের অনেকেই আশা করছেন, নেতৃত্ব নির্বাচনে অভিজ্ঞতা, ত্যাগ ও সাংগঠনিক অবদানকে মূল্যায়ন করা হবে। আর সেই মূল্যায়নের জায়গা থেকেই মোঃ রেজাউল করিম শ্যামলকে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হলে ডামুড্যা উপজেলা বিএনপি নতুন উদ্যমে সামনে এগিয়ে যাবে বলে মনে করছেন তারা।

মন্তব্য করুন