সাভারে জমি নিয়ে বিরোধ: ভাঙচুর-লুটপাটের অভিযোগ, পাল্টাপাল্টি দাবি


কাজী শরিফ নেওয়াজ,
ঢাকার সাভারের কাউন্দিয়া ইউনিয়নের চান্দারটেক এলাকায় জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে বাড়িঘর ভাঙচুর, সীমানা প্রাচীর ভেঙে ফেলা, নির্মাণসামগ্রী লুট এবং মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী মো. ফারুক হোসেনের অভিযোগ, প্রতিপক্ষ মো. হানিফ ও তাঁর সহযোগীরা একাধিকবার এসব ঘটনা ঘটিয়েছেন। তবে হানিফ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, জমির বৈধ মালিক তিনি এবং উল্টো ফারুকই জমি দখল করে আছেন।
স্থানীয় সূত্র ও মামলার নথি অনুযায়ী, সাভার উপজেলার কাউন্দিয়া ইউনিয়নের বাঘসাত্রা মৌজার একটি জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এ নিয়ে ঢাকার যুগ্ম জেলা জজ ২য় আদালতে রেকর্ড সংশোধনের একটি দেওয়ানি মামলা (নং-৯০২/২০২১) বিচারাধীন রয়েছে। পাশাপাশি ২০২৫ সালে সংঘর্ষের ঘটনায় একটি সিআর মামলাও (নং-১৪৫০/২০২৫) দায়ের করা হয়।
ফারুক হোসেনের দাবি, তিনি পৈতৃক সূত্রে প্রায় ৭ দশমিক ২০ শতাংশ জমির মালিক এবং দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে আছেন। আদালতে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় গত বছরের ৬ আগস্ট এবং চলতি বছরের ৭ মে ও ১৮ জুলাই প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁর জমিতে প্রবেশ করে সীমানা প্রাচীর ভেঙে ফেলে, ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে, নির্মাণসামগ্রী লুট করে এবং তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এসব ঘটনায় তিনি থানায় একাধিক লিখিত অভিযোগ করেছেন বলে জানান।
ফারুক বলেন, “আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আদালত যদি রায়ে বলেন জমি আমার নয়, আমি ছেড়ে দেব। কিন্তু মামলা চলমান থাকা অবস্থায় বারবার হামলা, ভাঙচুর ও দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। আমি ও আমার পরিবারের নিরাপত্তা চাই।”
সরেজমিনে কথা হয় কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দার সঙ্গে। প্রত্যক্ষদর্শী কামরুল ইসলাম বলেন, ছোটবেলা থেকেই তিনি ফারুকদের ওই জমি ভোগদখল করতে দেখেছেন। তাঁর দাবি, সম্প্রতি কয়েক দফায় লোকজন এসে গাছ কেটে এবং মালামাল নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
আরেক প্রত্যক্ষদর্শী লাট মিয়া বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ফারুকরা জমিটি ব্যবহার করলেও সম্প্রতি কয়েকবার সীমানা প্রাচীর ভেঙে ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী আনোয়ার হোসেনের ভাষ্য, প্রথম দফার সংঘর্ষের সময় ফারুককে মারধর করা হলে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে এ ঘটনায় মামলা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
কাউন্দিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আব্দুর রহিম বলেন, দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা বিচারাধীন রয়েছে। আদালতের কোনো নির্দিষ্ট নির্দেশনা না থাকায় জমির মালিকানা নিয়ে পুলিশ ব্যবস্থা নিতে পারছে না। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যেন অবনতি না ঘটে, সে বিষয়ে নজরদারি রাখা হচ্ছে।
অভিযুক্ত মো. হানিফ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ১৯৫৭ সাল থেকে তাঁদের পরিবার ক্রয়সূত্রে জমিটির মালিক। তাঁদের নামে বৈধ দলিল ও পর্চা রয়েছে। তাঁর দাবি, ফারুকই জমি দখল করে আছেন এবং এ বিষয়ে তাঁরাও থানায় একাধিক অভিযোগ করেছেন।
এ ঘটনায় নাম আসা একলাস মোল্লা বলেন, তিনি টাকা দিয়ে জমি কিনেছেন এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিজের অংশ বুঝে পেতে চান। হানিফ বা ফারুক—কাউকেই তিনি প্রতিপক্ষ মনে করেন না। আইন মেনেই বিরোধের সমাধান চান বলে জানান তিনি।
জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের কারণে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে যে কোনো সময় নতুন করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে।

মন্তব্য করুন