বিশ্বের রাজধানী হিসাবে পরিচিত নিউইয়র্কের ব্যস্ততম ম্যানহাটনে অবস্থিত ডিপ্লোম্যাট সেন্টারে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন অবস্থিত। চারদিকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এমনকী ভবনে রয়েছে নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মীও। সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বৃদ্ধাঙ্গলি দেখিয়ে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে দুঃসাহসিক চুরি হয়েছে নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে। ঘটনা যদিও পুরনো তবে প্রকাশিত হয় নতুন বছরে ।
চোর শনাক্ত হয়েছে এবং ধরাও পড়েছে। এই চোর আর কেউ নয়, স্থায়ী মিশনের গাড়ি চালক শামীম ইসলাম। সর্ষের মধ্যেই ভুত ছিল। চোর কয়েক দফায় ১২টি চেক চুরি করে পর্যায়ক্রমে ব্যাংক থেকে তুলে নিয়েছে ১২ হাজার ডলার। চুরির অভিযোগে গত ১৭ ডিসেম্বর মঙ্গলবার শামীম ইসলামকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এরপর জামিনে মুক্তি পেয়ে সে জাতিসংঘ সদর দপ্তর থেকে স্থায়ী মিশনের একটি গাড়ি চুরি করে। পুলিশ গাড়িটি উদ্ধার করেছে এবং শামীমকে পুনরায় গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে। বর্তমানে সে কারাগারে আছে বলে জানা গেছে।
এদিকে এ ঘটনার পর দুটি তদন্ত কমিটি হয়েছে। নিউইয়র্কে তদন্ত কমিটিতে রয়েছেন স্থায়ী মিশনের কর্মকর্তারা। ঢাকায় তদন্ত কমিটিতে রয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। এই চুরির ঘটনায় আরো কেউ জড়িত আছে কীনা বা কীভাবে চুরির ঘটনা ঘটলো তা তদন্ত করবে উভয় কমিটি। পুলিশও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে বলে জানা গেছে।
দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, চোর অন্যকিছু নয়, প্রথমে চুরি করেছে চেক বই। সেই চেক দিয়ে দফায় দফায় অর্থ উত্তোলন করেছে স্থায়ী মিশনের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে। চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার পর জামিনে ছাড়া পেয়ে জাতিসংঘ সদর দপ্তর থেকে চুরি করে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের গাড়ি।
সূত্র জানায়, চেক চুরির ঘটনা ঘটেছে নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে। জানালা ভেঙে চোর একটি রুম থেকে চেক চুরি করে বলে জানা গেছে। তবে ঘটনা জানাজানি হয়েছে আরো পরে, অর্থাৎ ১৩ ডিসেম্বর শুক্রবার। স্থায়ী মিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ বিষয়ে পুলিশ রিপোর্ট করেন এবং চোরকে পুলিশের হাতে তুলে দেন। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি যে চোর জামিনে মুক্তি পাবার পর জাতিসংঘ সদর দপ্তর থেকে স্থায়ী মিশনের গাড়ি চুরি করে লাপাত্তা হয়ে যায়। এ ঘটনা জানাজানি হয় ১৯ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার।
একটি সূত্র জানায়, চুরির দায়ে অভিযুক্ত গাড়ি চালক শামীম ইসলামের বাবা শহিদুল ইসলাম স্থায়ী মিশনের গাড়ি চালক ছিলেন। নানা অনিয়মের অভিযোগে ২০১৫ সালে তৎকালীন স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা তাকে চাকরিচ্যুত করেন। পরের বছর ২০১৬ সালের ১৭ মে সদ্য বিদায়ী পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত থাকাকালে শামীম ইসলামকে গাড়ি চালক হিসাবে নিয়োগ দেন।
সূত্রটি আরো জানায়, বাবা স্থায়ী মিশনের সাবেক গাড়ি চালক শহিদুল ইসলাম এবং আপন চাচা নিউইয়র্ক বাংলাদেশ কনস্যুলেটের গাড়ি চালক মোকসেদুর রহমানের তদবিরে শামীম ইসলামের নিয়োগ অনুমোদন করেন মাসুদ বিন মোমেন। স্থানীয় কোটায় তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল তখন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে গাড়ি চালক মোকসেদুর রহমান জানান, ওমরাহ করতে বর্তমানে তিনি সৌদি আরবে আছেন। শামীম ইসলামের অপকর্মের বিষয়টি তিনি জেনেছেন। তবে তার নিয়োগের ব্যাপারে তিনি কিছুই জানেন না এবং এ বিষয়ে পরে কথা বলবেন বলে জানান গাড়ি চালক মোকসেদ।
জাতিসংঘ বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের উপস্থায়ী প্রতিনিধি এবং ভারপ্রাপ্ত স্থায়ী প্রতিনিধি শাতিল ইসলামের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। তবে তদন্তের স্বার্থে এ বিষয়ে এখন কিছু বলতে চান না বলে ঠিকানাকে জানান।