দ. কোরিয়ায় সেনাবাহিনীতে যোগদান এড়াতে ওজন বাড়ানো যুবকের কারাদণ্ড

দক্ষিণ কোরিয়ায় সেনাবাহিনীতে বাধ্যতামূলক সেবার দায়িত্ব এড়াতে ইচ্ছাকৃতভাবে ওজন বাড়ানোর অভিযোগে এক যুবককে স্থগিত কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) সিউল পূর্ব জেলার আদালত তাকে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে। যা দুই বছরের জন্য স্থগিত থাকবে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।

নাম প্রকাশ না করা ওই যুবকের বিরুদ্ধে দেশটির মিলিটারি সার্ভিস অ্যাক্ট লঙ্ঘন প্রমাণিত হয়েছে রায় দিয়েছে আদালত।

পরিকল্পনা করে ২০ কেজির বেশি ওজন বাড়াতে সহায়তা করা তার সহযোগীকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৬ বছর বয়সী উভয় ব্যক্তি বন্ধু ছিলেন। তবে আদালত তাদের নাম প্রকাশ করেনি।

দক্ষিণ কোরিয়ায় সব সক্ষম পুরুষকে ১৮ থেকে ২১ মাসের জন্য বাধ্যতামূলকভাবে সেনাবাহিনীতে কাজ করতে হয়। উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে চলমান উত্তেজনা এবং যুদ্ধে জড়িত অবস্থার কারণে এই বাধ্যবাধকতা অত্যন্ত সংবেদনশীল।

যারা শারীরিকভাবে অক্ষম, তারা সাধারণত সামরিক বাহিনীর পরিবর্তে সামাজিক সেবার কাজ করেন। তবে নির্দিষ্ট স্বাস্থ্য সমস্যা থাকলে বা শারীরিক পরীক্ষা অনুযায়ী অযোগ্য প্রমাণিত হলে তারা সেবা থেকে অব্যাহতি পেতে পারেন।

আদালত জানিয়েছে, ২০১৭ সালে শারীরিক পরীক্ষায় ওই যুবকের ওজন ছিল ৮৩ কেজি, যা ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি উচ্চতার জন্য সক্রিয় সামরিক সেবার উপযুক্ত।

কিন্তু তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে প্রতিদিনের খাবারের পরিমাণ দ্বিগুণ করেন, উচ্চ-ক্যালোরির খাবার গ্রহণ করেন, পার্সেল ডেলিভারির কাজ ছেড়ে দেন এবং শারীরিক পরীক্ষার আগে প্রচুর পানি পান করেন। ২০২২ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে তিনবারের পরীক্ষায় তার ওজন ছিল ১০২-১০৫ কেজি, যা তাকে সামাজিক সেবার জন্য অনুপযুক্ত করে তোলে।

আদালত আরও জানিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি সেনাবাহিনীর দায়িত্ব সঠিকভাবে পালনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং এই রায়ের বিরুদ্ধে কোনও পক্ষ আপিল করেননি।

দক্ষিণ কোরিয়ার মিলিটারি ম্যানপাওয়ার অ্যাডমিনিস্ট্রেশন সেনাবাহিনীতে সেবা এড়ানোর জন্য অভিযুক্তদের একটি তালিকা প্রকাশ করে। সেখানে তাদের নাম, বয়স, ঠিকানা এবং এড়ানোর কারণ উল্লেখ থাকে।

২০২৩ সালে ৩৫৫ জন ব্যক্তি অবৈধভাবে বাধ্যতামূলক সেনা সেবা এড়িয়েছেন। ২০১৫ সালে এই তালিকা প্রকাশ শুরুর পর যা ছিল সর্বোচ্চ সংখ্যা।

মন্তব্য করুন