নড়াইলে অপহরণের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন, মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ।

নড়াইল প্রতিনিধি: মেজবা উদ্দিন।

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার মশাঘুনি গ্রামের নাজিম উদ্দিন দেওয়ান (৭১)–কে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার লক্ষীপাশা এলাকায় এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নাজিম উদ্দিন দেওয়ান অভিযোগ করেন, নড়াইল সদরের রামচন্দ্রপুর গ্রামের মনিরুজ্জামান মনি (৫৬), মিরাজ শেখ (৫৮), ইমরান (৪৫)সহ অজ্ঞাতনামা ৮ থেকে ১০ জন গত ১২ আগস্ট বিকেল ৫টার দিকে তাকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করেন।
নাজিম উদ্দিনের অভিযোগ, মোটরসাইকেলে লোহাগড়া উপজেলা থেকে বের হওয়ার সময় অভিযুক্তরা তাকে টানাহেঁচড়া ও মারধর করে উপজেলা সড়কের উত্তর পাশে একটি ঘরে নিয়ে যান। পরে তার ছেলে সৌরভ দেওয়ান ও আত্মীয় হাবিবুল ইসলামের কাছে মোবাইল ফোনে পাঁচ লাখ টাকা, দুই ভরি স্বর্ণালংকার ও ব্যাংকের চেকের পাতা দাবি করা হয়।
এ সময় তার মোটরসাইকেলের চাবি ও মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি তিনটি ১০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প ও দুটি অলিখিত ডেমিতে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
পরবর্তীতে সৌরভ দেওয়ান বিষয়টি লোহাগড়া থানায় জানালে এসআই কবিরুল ইসলাম মণ্ডলসহ পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নাজিম উদ্দিনকে উদ্ধার করে। তার মোটরসাইকেলের চাবি ও মোবাইল ফোন ফেরত দেওয়া হলেও স্বাক্ষর নেওয়া স্ট্যাম্প ও ডেমি ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন নাজিম উদ্দিন। এসব কাগজপত্র ব্যবহার করে তাকে হয়রানি বা মিথ্যা মামলায় জড়ানোর আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। এ ঘটনায় লোহাগড়া থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, নাজিম উদ্দিনের ছেলে সৌরভকে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে অভিযুক্ত মনিরুজ্জামান মনিকে প্রায় পাঁচ মাস আগে সাড়ে তিন লাখ টাকা এবং গত ১৪ জুলাই আরও দেড় লাখ টাকা দেওয়া হয়। মোট পাঁচ লাখ টাকা দেওয়ার পরও সৌরভকে বিদেশে পাঠাতে না পারায় ওই টাকা ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ পরিবারের। এ নিয়ে গত ২৭ জুলাই রাতে নাজিম উদ্দিনের বাড়িতে এসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে ২ আগস্ট লোহাগড়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
তবে অভিযুক্ত ইমরানসহ অন্যরা নাজিম উদ্দিনকে অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন।
এ বিষয়ে লোহাগড়া থানার এসআই কবিরুল ইসলাম মণ্ডল বলেন, টাকা-পয়সা পাওনা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। ঘটনার দিন এ নিয়ে দুই পক্ষের কথাবার্তা চলছিল। তবে নাজিম উদ্দিনকে আটকে রাখার বিষয়টি সরেজমিনে গিয়ে তারা দেখতে পাননি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন