ভাষানটেকে চাঞ্চল্যকর কাউসার হত্যা: ‘স্বামীর মৃত্যুর আগে বলা আসামিদের গ্রেপ্তার চাই’—অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর দাবি


নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

রাজধানীর ভাষানটেকে আলোচিত কাওসার মোল্লা হত্যা মামলায় স্বামীর মৃত্যুর আগে উল্লেখ করা ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার, নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তাঁর পরিবার।
বুধবার (২২ জুলাই) দুপুর ১১টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নিহত কাওসার মোল্লার স্ত্রী মোছা. সুমা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তিনি সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর স্বামী হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত রবিউল ইসলাম সুমনসহ জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে বিচার নিশ্চিত করা হোক।
লিখিত বক্তব্যে সুমা বলেন, গত ১৭ জুলাই রাতে তাঁর স্বামী কাওসার মোল্লাকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। তাঁর দাবি, রাত সাড়ে ১১টার দিকে সাইফুল নামে এক ব্যক্তি মোবাইল ফোনে কল করে কাওসারকে বাসা থেকে ডেকে নেন। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাঁকে ভাষানটেকের দামাল কোট এলাকার একটি বাড়ির দ্বিতীয় তলায় নিয়ে রডসহ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে ফেলে রেখে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও দাবি করেন, রাত আড়াইটার দিকে ভাষানটেক থানার এসআই আবুল কালাম আজাদ তাঁকে ফোন করে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (পঙ্গু হাসপাতাল)-এ যেতে বলেন। হাসপাতালে পৌঁছে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর স্বামী মৃত্যুর আগে তাঁকে মারধরের সঙ্গে জড়িত কয়েকজনের নাম বলেন। সুমার ভাষ্য অনুযায়ী, কাওসার যেসব নাম উল্লেখ করেন, সেগুলো হলো—রবিউল ইসলাম সুমন, রাজু, শরিফ, সাইফুল, ওহিদুল, ইন্দ্রজিৎ, ইফাদ, ইমরান, সাদ্দাম, জুয়েল ও আব্দুল।
তাঁর দাবি, ওই সময় ভাষানটেক থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাজিদুল করিম সরকার সেখানে উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি নিজের মোবাইল ফোনে কাওসারের বক্তব্য ভিডিও আকারে ধারণ করেন।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ভোর সাড়ে ৪টার দিকে চিকিৎসকেরা কাওসারকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে তাঁর মরদেহ শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং সেখানে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সুমা অভিযোগ করেন, থানায় মামলা করতে গেলে মৃত্যুর আগে কাওসারের উল্লেখ করা ব্যক্তিদের নাম বাদ দিয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চাইলেও সন্তোষজনক উত্তর পাননি বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি সরকারের কাছে আবেদন জানিয়ে বলেন, তাঁর স্বামীর মৃত্যুর আগে দেওয়া বক্তব্য, ভিডিও রেকর্ড এবং অন্যান্য আলামত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।
সংবাদ সম্মেলনে নিহত কাওসার মোল্লার পরিবারের সদস্যরা, স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, মানবাধিকার সংস্থা এবং গণমাধ্যমের প্রতি নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

মন্তব্য করুন