
স্টাফ রিপোর্টার :- ফয়সাল হায়দার
মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার সিন্দাইন গ্রামের রবিউল ইসলাম (৩৫) নামের এক ব্যক্তির গলাকাটা ও ক্ষতবিক্ষত লাশ পার্শ্ববর্তী ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে বোয়ালমারীর ময়না ইউনিয়নের হাটখোলারচর এলাকা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ এ পর্যন্ত ৪ জনকে আটক করেছে।
নিহত রবিউল ইসলাম মহম্মদপুর উপজেলার সিন্দাইন গ্রামের মো. গোলাম সরোয়ারের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাসে ৪-৫ জন ব্যক্তি হাটখোলারচর এলাকায় এসে একটি বস্তা ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। এসময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাইক্রোবাসটি উল্টে গেলে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। লোকজন এগিয়ে গিয়ে রাস্তার পাশে বস্তাবন্দি একটি ক্ষতবিক্ষত লাশ দেখতে পায়। পালানোর সময় জনতা ধাওয়া দিয়ে দুইজনকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করে। তবে গাড়ি থাকা আরও ৩ জন পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পরে জানা যায়, উদ্ধারকৃত লাশটি মহম্মদপুরের সিন্দাইন গ্রামের রবিউলের।
হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে:
অনুসন্ধানে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেলে রবিউলের বন্ধু শাহীদুল ইসলাম সাহিদ একটি জানাজায় যাওয়ার কথা বলে রবিউলকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। সাহিদ জানান, সূর্যকুণ্ডু হাটখোলারচর এলাকায় তার একটি মোটরসাইকেল আছে, সেটি আনতে রবিউলের সহযোগিতা প্রয়োজন। নিহতের পিতা মো. গোলাম সরোয়ার অভিযোগ করেন, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। মোটরসাইকেল নিয়ে বিরোধের জেরে সাহিদ ও তার সহযোগীরা রবিউলকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে। বর্তমানে অভিযুক্ত শাহীদুল ইসলাম সাহিদ ও তার পরিবার পলাতক রয়েছে।
বোয়ালমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: আনোয়ার হোসাইন জানান, ঘটনাস্থল থেকে জনতা দুইজনকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পরে তদন্তের স্বার্থে আরও দুইজনকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং লাশের ময়নাতদন্তসহ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
অপরদিকে :
মহম্মদপুরে দুই কিশোরকে হত্যাচেষ্টা, আটক ১
এদিকে মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার রায়পাশা এলাকায় মধুমতী নদীর পাড়ে নিয়ে দুই কিশোরকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে বুধবার সকালে লাবিব নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকাল ৭টার দিকে বড়রিয়া গ্রামের ধনি বক্কারের ছেলে আকাশ ও তার সহযোগী লাবিব কৌশলে দুই কিশোরকে ডেকে রায়পাশা নদীর পাড়ে নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে তাদের হত্যার চেষ্টা করা হলে কিশোরদের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে আসে। প্রত্যক্ষদর্শী জাকির হোসেন জানান, কিশোরদের চিৎকারে স্থানীয় জনতা জড়ো হয়ে লাবিবকে ধরে ফেললেও মূল অভিযুক্ত আকাশ পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
মহম্মদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আশরাফুজ্জামান জানান, ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলছে এবং প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে উভয়পক্ষের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে। বর্তমানে এলাকায় এই ঘটনা নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।




