স্কুল ম্যানেজিং কমিটি দখলের অভিযোগে তোলপাড়: বামনায় ইউনুস মল্লিককে ঘিরে বিতর্ক

 

বামনা উপজেলা প্রতিনিধি:

বরগুনার বামনা উপজেলার মোঃ ইউনুস মল্লিককে ঘিরে ১৮ নম্বর আমতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তার বিরুদ্ধে প্রভাব বিস্তার, অনিয়ম এবং পরিকল্পিতভাবে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগকারীদের দাবি, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর জমিদাতা, অভিভাবক ও সাধারণ জনগণকে যথাযথভাবে অবহিত না করে গোপনে নিজের ঘনিষ্ঠ ও অনুসারী ব্যক্তিদের মাধ্যমে গার্ডিয়ান সদস্য পদের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করেন মোঃ ইউনুস মল্লিক। একই সঙ্গে তিনি নিজেও ডোনার (জমিদাতা) সদস্য হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি জমিদাতা হিসেবে দাবি করলেও বিদ্যালয়ের জন্য কোনো বৈধ জমি বা সম্পত্তি দানের সুনির্দিষ্ট কাগজপত্র উপস্থাপন করতে পারেননি। ফলে প্রকৃত তথ্য গোপন করে জমিদাতা পরিচয়ে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, সুপরিকল্পিতভাবে নিজের অনুসারীদের বিভিন্ন পদে অন্তর্ভুক্ত করে কমিটির ওপর প্রভাব বিস্তারের পথ সুগম করা হয়েছে। চূড়ান্ত কমিটিতে ইউনুস মল্লিক সহ-সভাপতির দায়িত্বে থাকলেও সভাপতি পদে রয়েছেন তার ঘনিষ্ঠ একজন ব্যক্তি। এ কারণে সহ-সভাপতির পদে থেকেও পুরো কমিটির কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন বলে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা চলছে।
বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। স্থানীয় সচেতন মহল, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেন, অতীতেও বিদ্যালয়ের বিভিন্ন উন্নয়ন বরাদ্দ ও সুযোগ-সুবিধা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল এবং সে সময় ইউনুস মল্লিক স্থানীয় প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখে বিভিন্ন সুবিধা আদায় করতেন।
তার অতীত রাজনৈতিক অবস্থান, কর্মকাণ্ড ও সংশ্লিষ্টতা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন রয়েছে। এছাড়া স্থানীয় সূত্রের দাবি, যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এবং এলাকায় জুলুম, ভয়ভীতি প্রদর্শন, প্রভাব বিস্তার ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগও বাড়তে থাকে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষক সমাজও তার প্রভাবের বাইরে নয় বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরও বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটেছে। ফলে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল, অভিভাবক, এলাকাবাসী ও শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ১৮ নম্বর আমতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনের পুরো প্রক্রিয়া নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, শিক্ষা বিভাগ এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তবে এ সকল অভিযোগের বিষয়ে মোঃ ইউনুস মল্লিকের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।

মন্তব্য করুন