১০ টাকার রশিদের জন্য ২০ হাজার টাকা ঘুষ নিলেন তহসিলদার!

আবু বকর সিদ্দিক,
স্টাফ রিপোর্টার।

মাত্র ১০ টাকার ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) আদায়ের রশিদ দিতে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের (বিকাশ) মাধ্যমে ২০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক তহসিলদারের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, ঘুষের টাকা ফেরত চাওয়ায় ভুক্তভোগীকে অবরুদ্ধ করে “কোনো টাকা নেওয়া হয়নি” মর্মে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তিও আদায় করা হয়। পরবর্তীতে ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের তোপের মুখে পড়ে ঘুষের টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হন ওই কর্মকর্তা।

গত মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার জয়নগর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহসিলদার লিটন দেওয়ানের বিরুদ্ধে এই ঘুষ গ্রহণ ও ভুক্তভোগীকে হেনস্তা করার অভিযোগ ওঠে। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ স্থানীয় জনতা ভূমি অফিস ঘেরাও করলে ভুক্তভোগী আজিজুল হককে তাঁর টাকা ফেরত দেন তহসিলদার।

ভুক্তভোগী আজিজুল হকের অভিযোগ, প্রায় ছয় মাস আগে একই জমির খাজনার রশিদ নেওয়ার জন্য এই তহসিলদার তাঁর কাছ থেকে আরও ১০ হাজার টাকা নিয়েছিলেন। সম্প্রতি ওই জমিটি রেজিস্ট্রি (বিক্রি) করতে গেলে দলিল লেখক জানান, জুন মাসের পর নতুন অর্থ বছরের খাজনার রশিদ প্রয়োজন। সেই অনুযায়ী নতুন রশিদ আনতে গেলে তহসিলদার বিভিন্ন ধরনের গড়িমসি শুরু করেন। একপর্যায়ে ২০ হাজার টাকা দাবি করে বসেন এবং টাকা দিলে তবেই রশিদ দেওয়া হবে বলে জানান।

বাধ্য হয়ে তহসিলদারের কথামতো একটি বিকাশ নম্বরে ২০ হাজার টাকা পাঠান আজিজুল হক। টাকা পাঠানোর পর তাঁকে যে রশিদটি দেওয়া হয়, তাতে সরকারি ফি লেখা ছিল মাত্র ১০ টাকা। রশিদের টাকার অঙ্কের সাথে দাবিকৃত টাকার বিশাল ব্যবধান দেখে আজিজুল হক ভূমি অফিসে গিয়ে অতিরিক্ত টাকা ফেরত চান।

আজিজুল হক (ভুক্তভোগী) জানান,
“টাকা ফেরত চাওয়ামাত্রই তহসিলদার লিটন দেওয়ান ও তাঁর সাথে থাকা কয়েকজন দালাল আমাকে একটি কক্ষে আটকে রেখে ভয়ভীতি দেখায়। মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে তারা জোরপূর্বক আমার কাছ থেকে স্বীকারোক্তি আদায় করে এবং তা ভিডিওতে ধারণ করে। আমি খুব দ্রুতই তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেব।”

খোঁড়াতলা এলাকার বাসিন্দা মৃত রবিউল্লাহ মাদবরের ছেলে আজিজুল হক অফিস থেকে ছাড়া পেয়ে স্থানীয় লোকজনকে বিষয়টি জানান। জয়নগর ভূমি অফিসের এই তহসিলদারের বিরুদ্ধে এর আগেও অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।
আজিজুল হককে আটকে রাখার খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী এসে ভূমি অফিস ঘেরাও করেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে অবরুদ্ধ অবস্থার মুখে তহসিলদার লিটন দেওয়ান ঘুষ নেওয়া ২০ হাজার টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হন। স্থানীয় বাসিন্দারা এই দুর্নীতিপরায়ণ সরকারি কর্মকর্তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে তহসিলদার লিটন দেওয়ানের কার্যালয়ে যাওয়া হলে তাঁকে পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

সরকারি ফির চেয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায় এবং ভুক্তভোগীকে হেনস্তার বিষয়ে জানতে চাইলে জাজিরা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ মেহেদী হাসান বলেন,
“সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমি কিছু ভিডিও দেখেছি এবং সাংবাদিকদের মাধ্যমেও ঘটনাটি শুনেছি। ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে এখনও লিখিত কোনো অভিযোগ পাইনি। তবে যেহেতু বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে, তাই আমি সংশ্লিষ্ট তহসিলদারকে তলব করে পুরো ঘটনা শুনব। তদন্তে ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

মন্তব্য করুন