৩৩ হাজার ভোল্টের লাইনের নিচে নির্মাণকাজ: বিদ্যুৎস্পর্শে প্রাণ গেল ইলেকট্রনিক মিস্ত্রির।

 

নড়াইল প্রতিনিধি: মেজবা উদ্দিন।

নড়াইলে ৩৩ হাজার ভোল্টের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ লাইনের নিচে নির্মাণকাজ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আহত ইলেকট্রনিক মিস্ত্রি রজিবুল ইসলাম (৩০) পাঁচ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে মারা গেছেন।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দিবাগত রাতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত রজিবুল ইসলাম নড়াইল সদর উপজেলার হবখালী ইউনিয়নের হৈধরখোলা গ্রামের নান্নু মোল্যার ছেলে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ জুলাই নড়াইল পৌর এলাকার ভওয়াখালী গ্রামের কুয়েতপ্রবাসী খোকন শেখের বাড়িতে বৈদ্যুতিক কাজ করতে যান রজিবুল ইসলাম। কাজ চলাকালে অসাবধানতাবশত তিনি ও তার সহকর্মী ওমর ফারুক ৩৩ হাজার ভোল্টের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ লাইনের সংস্পর্শে এসে গুরুতর আহত হন।
স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে নড়াইল সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক রজিবুলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠান। সেখানে পাঁচ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তার মৃত্যু হয়। বুধবার সকালে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে স্বজনদের আহাজারিতে শোকের ছায়া নেমে আসে।
নিহতের বড় ভাই আশরাফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, বাড়ির ওপর দিয়ে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ লাইন থাকলেও কাজের ঝুঁকি সম্পর্কে তাদের যথাযথভাবে অবহিত করা হয়নি। নিরাপত্তা নিশ্চিত না করেই কাজ করানো হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
তবে নড়াইল বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু দারদা বলেন, উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ লাইনের নিচে কোনো ধরনের নির্মাণকাজ না করার জন্য বাড়ির মালিক ও সংশ্লিষ্ট মিস্ত্রিদের আগেই সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু সেই নির্দেশনা অমান্য করে কাজ করায় দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নড়াইল পৌরসভার প্রশাসক মো. নাজমুল হুদা জানান, নিয়মবহির্ভূতভাবে ভবন নির্মাণের অভিযোগ তদন্ত করে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, জনবসতিপূর্ণ এলাকায় উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ লাইনের নিচে ঝুঁকিপূর্ণ নির্মাণকাজ বন্ধে কার্যকর নজরদারি এবং নিরাপত্তা বিধি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

মন্তব্য করুন