Picture of অনলাইন ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশকাল:

ক্লু-লেস দুই চাঞ্চল্যকর মামলার রহস্য উদ্ঘাটন, আলোচনায় পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ

 

শাকের হোসেন হত্যা ও ১৫০ ভরি স্বর্ণ ডাকাতির ঘটনায় ১১ জন গ্রেপ্তার, উদ্ধার ৬১ ভরি ৬ আনা স্বর্ণ

মোল্লা কৌশিক আহম্মেদ

মাগুরায় পৌর যুবদল নেতা শাকের হোসেন হত্যা এবং ১৫০ ভরি স্বর্ণ ডাকাতির মতো চাঞ্চল্যকর দুটি ক্লু-লেস মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, গোয়েন্দা নজরদারি ও ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে অপরাধের নেপথ্যের পরিকল্পনা, অর্থের লেনদেন এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে ডাকাতির ঘটনায় লুট হওয়া ৬১ ভরি ৬ আনা স্বর্ণসহ গুরুত্বপূর্ণ আলামত।

আলোচিত এ দুটি মামলার রহস্য উদ্ঘাটনে নেতৃত্ব দিয়ে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে প্রশংসা ও আলোচনায় এসেছেন মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন, পিপিএম (সেবা)।

২০২৬ সালের ২৫ মার্চ মাগুরা জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। এর আগে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উপপুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২১ অক্টোবর বুধবার ভোরে মাগুরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের রয়েল এক্সপ্রেস কাউন্টারে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন পৌর যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক শাকের হোসেন। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

অন্যদিকে, গত ৬ অক্টোবর রামনগর বাজার এলাকায় গোল্ডেন লাইন পরিবহনের একটি বাস থেকে স্বর্ণ ব্যবসায়ী মো. মজিবর রহমানকে নামিয়ে হলিনগর গ্রামের একটি মেহগনিবাগানে নিয়ে ১৫০ ভরি স্বর্ণ ডাকাতির ঘটনা ঘটে।

তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ জানতে পারে, স্বর্ণ ডাকাতির পর লুট হওয়া স্বর্ণের ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়ে বিরোধের জের ধরে শাকের হোসেনকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এরপর অর্থের লেনদেন, হত্যার পরিকল্পনা এবং অপরাধের নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে শুরু হয় ধারাবাহিক অভিযান।

একপর্যায়ে মাগুরা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক গোলাম জাহিদ ও পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. মারুফ হোসেনসহ মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে ৬১ ভরি ৬ আনা স্বর্ণ, বুলেট, খালি কার্তুজসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দুটি মোটরসাইকেল ও একটি টয়োটা ভিটজ গাড়ি জব্দ করা হয়েছে।

চাঞ্চল্যকর এ দুটি মামলার তদন্ত ও অভিযান পরিচালনায় পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেনের সরাসরি নির্দেশনা এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সমন্বিত ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তাঁর নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) থান্দার খায়রুল হাসান, পিপিএমের নেতৃত্বে তদন্ত ও অভিযান পরিচালিত হয়।

এদিকে, স্থানীয় কয়েকজন উপকারভোগী জানান, শুধু চাঞ্চল্যকর মামলার রহস্য উদ্ঘাটন কিংবা অপরাধীদের গ্রেপ্তার নয়, সাধারণ মানুষের অভিযোগ ও সমস্যায় দ্রুত আইনি সহযোগিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন ভূমিকা রাখছেন। তাঁর নেতৃত্বে জেলা পুলিশের তৎপরতা অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাধারণ মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে।

নিহত শাকের হোসেনের মামা ও বিএনপি নেতা কুতুবউদ্দিন বলেন, “দুটি আলোচিত ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের পাশাপাশি অপরাধের নেপথ্যে থাকা অর্থের লেনদেন, হত্যার পরিকল্পনা এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে পুরো বিষয়টি উন্মোচন করেছে মাগুরা জেলা পুলিশ। এ জন্য পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেনকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। তাঁর নিরলস প্রচেষ্টা, অক্লান্ত পরিশ্রম ও আন্তরিকতার কারণেই এ সফলতা এসেছে।”

পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন বলেন, “পুলিশ জনগণের বন্ধু। পুলিশের মূল কাজ হলো অপরাধের সঙ্গে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা। সম্প্রতি মাগুরায় শাকের হোসেন হত্যাকাণ্ডের কোনো দৃশ্যমান ক্লু ছিল না। তারপরও জেলা পুলিশের সদস্যরা নিরলসভাবে কাজ করে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে সফল হয়েছেন। এ ক্ষেত্রে মাগুরার সাধারণ মানুষের সহযোগিতা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। জনগণ পাশে ছিল বলেই আমরা সফলভাবে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করতে পেরেছি।”

তিনি আরও বলেন, “মাগুরার সর্বস্তরের মানুষের প্রতি আমার অনুরোধ, সবাই আইন মেনে চলবেন। কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না। কোনো অপরাধ বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার আগেই পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করবেন। জনগণের সহযোগিতা নিয়েই একটি নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত মাগুরা গড়ে তুলতে আমরা কাজ করতে চাই।”

মন্তব্য করুন