Picture of অনলাইন ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশকাল:

আইনজীবী সাইফুল হত্যা নিয়ে প্রতিবেদনের ভুল সংশোধন করলো রয়টার্স

চট্টগ্রাম আদালত এলাকায় আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যাকাণ্ড নিয়ে করা একটি প্রতিবেদনের ভুল সংশোধন করেছে রয়টার্স। মঙ্গলবারের সংঘর্ষের ঘটনা নিয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) রয়টার্সের ওই প্রতিবেদনের প্রতিবাদ জানালে তারা তা সংশোধন করে নেয়। ওই প্রতিবেদনটি পরে ভয়েস অব আমেরিকাসহ আরও অনেক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।

রয়টার্সের সেই প্রতিবেদনে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের দক্ষিণ বিভাগের ‘উপ-পুলিশ কমিশনার লিয়াকত আলী খান’ নামের একজনকে উদ্ধৃত করে লেখা হয়েছিল, “A Muslim lawyer defending Das was killed amid protests outside the court [in Chittagong, said police officer Liaquat Ali.”

রয়টার্সের প্রতিবেদনে দেওয়া ওই বক্তব্যের বাংলা করলে দাঁড়ায়, ‘চিন্ময় দাসের পক্ষের একজন মুসলিম আইনজীবী আদালতের বাইরে বিক্ষোভের সময় নিহত হয়েছেন।’

পরে এক বিবৃতিতে সিএমপি জানায়, রয়টার্স বা কোনো সাংবাদিক এই বিষয়ে উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) লিয়াকত আলী খানের সঙ্গে কথা বলেননি।

ঘটনার সময় তিনি আদালত প্রাঙ্গণসহ আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার কাজে দায়িত্বরত ছিলেন। তিনি কাউকে কোনো বক্তব্য দেননি।

সিএমপি জানিয়েছে, লিয়াকত নামে চট্টগ্রামে চারজন কনস্টেবল আছেন, তারাও কাউকে কোনো বক্তব্য দেননি।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের বিবৃতির পর প্রতিবেদনে বক্তব্য পাল্টে দিয়েছে রয়টার্স।

সূত্র লিয়াকত আলীর নামও ফেলে দিয়েছে সংস্থাটি। সেখানে পুলিশ সূত্র ব্যবহার করে নতুন বক্তব্য যুক্ত করেছে রয়াটার্স। তারা এখন বলছে, “A Muslim lawyer was killed amid protests outside the court in Chittagong, police said.”

রয়টার্সের পরিবর্তিত প্রতিবেদনের বাংলা করলে দাঁড়ায়, ‘চট্টগ্রাম আদালতের বাইরে বিক্ষোভে একজন মুসলিম আইনজীবী নিহত হয়েছেন।’

ভবিষ্যতে রয়টার্সসহ সব গণমাধ্যম এ ধরনের সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ।

এদিকে রয়টার্স প্রতিবেদন সংশোধনের পর প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম তার ফেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লেখেন, আমরা কীভাবে রয়টার্সের দাবি ভাঙলাম? আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা থেকে কোনো দাবি উঠলে সেটি খণ্ডন করতে ১০০ শতাংশ নির্ভুল এবং শক্ত প্রমাণ দিতে হয়।

তিনি লেখেন, গত রাতে অনেক সময় লেগেছে এই মিথ্যা দাবি ভাঙতে যে নিহত আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের আইনজীবী ছিলেন না। চট্টগ্রামের কয়েকজন আইনজীবীসহ পাবলিক প্রসিকিউটরদের সঙ্গে কথা বলেছি, যাতে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, তিনি দাসের আইনজীবী ছিলেন না। আমরা পাবলিক প্রসিকিউটরদের ও অ্যাসিস্ট্যান্ট পাবলিক প্রসিকিউটরদের একটি তালিকা পেয়েছি। তার নাম সেখানে ছিল না। অবশেষে রাত ১১টায় ভাকালতনামা (অধিকারপত্র) পেয়েছি। এটি প্রমাণ করেছে যে, তিনি হিন্দু নেতার আইনজীবী ছিলেন না।

তিনি বলেন, আমরা রয়টার্সের একজন সম্পাদককে একটি চিঠি পাঠিয়ে সংশোধন করার অনুরোধ করেছি। কয়েক মিনিটের মধ্যে তারা সংশোধিত খবর পুনরায় প্রকাশ করেছে।

ফেসবুক পোস্টে শফিকুল আলম আরও বলেন, ‘আজ সকালে আমরা আবার রয়টার্সকে একটি ভিডিও সরিয়ে নিতে চিঠি পাঠিয়েছি, যেটি আমরা মনে করেছিলাম বিভ্রান্তিকর। তারা সেটি সরিয়ে নিয়েছে। আমরা ভুয়া (VOA)-এর সঙ্গেও কথা বলেছি, কারণ তারা এখনো রয়টার্সের দাবিটি ব্যবহার করছিল।’

তিনি লেখেন, ‘এই সময়ে আমরা চট্টগ্রাম পুলিশ বিভাগের ডিসি লিয়াকত আলী স্যারের সঙ্গে কথা বলেছি, কারণ রয়টার্স তাঁকে উদ্ধৃত করেছিল। যদি লিয়াকত আলী সত্যিই রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলে থাকেন এবং ভুলবশত মন্তব্যগুলো করে থাকেন, তবে সংবাদ সংস্থাটি সরাসরি লিয়াকত আলী এবং পুলিশকে দায়ী করতে পারতো।’

শফিকুল আলম আরও লেখেন, ‘লিয়াকত আলী আমাদের নিশ্চিত করেছেন যে, তিনি গতকাল ফোনে কোনো সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেননি, রয়টার্সের সঙ্গে তো দূরের কথা। আমরা তাকে তাঁর কল লিস্ট আবার দেখার জন্য বলেছি। তিনি জানিয়েছেন, তিনি কারও সঙ্গে কথা বলেননি।’

তিনি আরও লেখেন, ‘এখন কঠিন কাজ ছিল রয়টার্সকে অনুসরণ করা যে, তারা কি অন্য কোনো পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছে, যাদের নাম লিয়াকত আলী। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ অনুসন্ধান চালিয়ে দেখল যে, চারজন কনস্টেবল এই নামের রয়েছেন। এটি ছিল একটি খুবই ক্ষীণ সম্ভাবনা যে, রয়টার্স তাদের সঙ্গে কথা বলে থাকতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ নিশ্চিত করেছে, তারা মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলেননি। তারা ১টা ৩০ মিনিটের দিকে আমাদের একটি বিবৃতি পাঠিয়েছে এবং আমরা তা আমাদের সিএ প্রেস উইংয়ের পেজে তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করেছি।’

প্রেস সচিব আরও লেখেন, ‘মিথ্যা ও ভুয়া খবর ছড়ানো সহজ। কিন্তু মাঝে মাঝে এটি খণ্ডন করতে দিন কাটাতে হয়। এএফপিতে (AFP) আমি ১৩ বছর ঢাকা ব্যুরো চিফ ছিলাম, অনেক সময় একটি ভুয়া খবর খণ্ডন করতে এক সপ্তাহও লেগে যেত। আবার আপনাকে ১০০ শতাংশ নিশ্চিত হতে হবে যে, আপনি খণ্ডন করতে গিয়ে কোনো ভুল করেননি।’

মন্তব্য করুন